‘ঐক্যফ্রন্ট জাস্ট অ্যালায়েন্সের একটা ফেইস’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের কানাকড়িও দাম নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্ট কোনো বিষয় না। ঐক্যফ্রন্ট জাস্ট অ্যালায়েন্সের একটা ফেইস। বিএনপির নেত্রী এবং তাদের নেতা যেহেতু দণ্ডিত আসামি। এ অবস্থায় তারা ড. কামাল হোসেন সাহেবকে ব্যবহার করছে।বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনার শেষে এ মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘আরও কিছু কিছু মুখ নিয়ে এসেছে কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের চালিকা শক্তি হচ্ছে বিএনপি এবং ঐক্যফন্টের সকল কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা আসছে লন্ডন থেকে। ড. কামাল হোসেন ও আরও কিছু নেতাদের তারা শুধু ব্যবহার করছে। তাদের এখানে কানাকড়িও দাম নেই।’
‘বিএনপি গৃহযুদ্ধের উসকানি দিচ্ছে’ ভোটের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাহারা দেওয়ার কথা বলে বিএনপি ‘গৃহযুদ্ধের উসকানি’ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক।ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা গৃহযুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে, কারণ কেন্দ্রে কেন্দ্রে তিনশত থেকে পাঁচশত লোক পাহারা দেওয়ার অর্থ কি? তাহলে আমরাও যদি কেন্দ্রে কেন্দ্রে তিনশত থেকে পাঁচশত লোকের ব্যবস্থা করি, অবস্থাটা কী হবে? তাহলে ভোট হবে না গৃহযুদ্ধ হবে? ভোট হবে না ভায়োলেন্স হবে?’
‘বিএনপির আন্দোলনের হুমকির জবাব’ কাদের বলেন, ‘সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ তো দূরের কথা, বাংলাদেশের কোথাও একটা রিপলও দেখলাম না। ফখরুল সাহেবরা স্বপ্ন দেখতেই পারে। জনগণের ওপর যদি আস্থা থাকে তাহলে কীভাবে তারা অবিরাম অ্যাগ্রেসিভ মুডে কথা বলছে?’বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ‘আক্রমণাত্মক’ ভাষায় কথা চালিয়ে গেলে তা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে বিঘ্নিত করবে বলে হুঁশিয়ার করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।তিনি বলেন, ‘তারা কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাহারাদার নিয়োগের নামে গৃহযুদ্ধের হুমকি দিচ্ছে, এটা সহ্য করা যায় না।’দেশের জনগণ যখন একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা বলছে, তখন বিএনপি নেতারা ‘আক্রমণাত্মক’ ভাষা ব্যবহার করে নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশকে ‘নষ্ট করছে’ বলে অভিযোগ করেন কাদের।
‘বিএনপির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে’ বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কাদের বলেন, ‘এটা ইসিকে জিজ্ঞাসা করুন, আমার দৃষ্টিতে কোনো পক্ষপাতমূলক আচরণ পাচ্ছি না। বরং আমরা কিছু অভিযোগ করেছি, তারা (ইসি) বলেছে না, আরপিও কাভার করে না।’বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ‘হয়রানীমূলক’ মামলায় গ্রেপ্তারের অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যদি পল্টনে… নৃত্য করতে করতে পুলিশের গাড়ির ওপর চড়াও হয়, পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে ফেলে, পুলিশের ওপর হামলা করে, তারা কি নিরপরাধ? তারা যদি প্রার্থীও হয়, তাহলে কি ক্ষমা করা যাবে?’
ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব বিএনপির হাতে যাচ্ছে- এমন গুঞ্জনের প্রসঙ্গ টেনে কাদের বলেন, ‘এখানে ঐক্যফ্রন্ট কোনো বিষয় নয়। ঐক্যফ্রন্ট জাস্ট একটা অ্যালায়েন্সের। যেহেতু তাদের (বিএনপি) নেত্রী-নেতা দণ্ডিত, তাদের চেয়ারপারসন কারাগারে, এই অবস্থায় কামাল হোসেনকে তারা ব্যবহার করছে এবং আরও কিছু কিছু নিয়ে আসছে।‘আজকে এই ঐক্যফ্রন্টের চালিকাশক্তি হচ্ছে বিএনপি এবং এই ঐক্যফ্রন্টের সকল কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা আসছে লন্ডন থেকে। লন্ডন থেকে তারেক রহমান যে নির্দেশ দিচ্ছে তার অঙ্গুলি হেলানে আজকে ঐক্যফ্রন্ট চলছে, এটা হল বাস্তবতা।’
‘নিবন্ধন হারানো জামায়াত নেতারা প্রার্থী হচ্ছেন’ বিভিন্ন জায়গা থেকে নিবন্ধন হারানো জামায়াত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার খবর প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা কাদের বলেন, ‘জামায়েতে ইসলামী তাদের (বিএনপির) জোটে আছে। বিএনপি তাদের এই জানের-জান দোস্তকে কখনও হারাতে চায় না। কখনও এই বন্ধুত্বে ফাটল ধরবে না। কারণ… আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে হলে জামায়েতের সেই জঙ্গি শক্তিটা দরকার আছে। তাদের ছাড়বে না এটাই স্বাভাবিক।’




