231124

কাড়াকাড়ি খালেদার আসন নিয়ে!

নিউজ ডেস্ক।। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় বিএনপি। যদিও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়া নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো শঙ্কা নেই। কিন্তু আইনিভাবে এখনো এর কোন সমাধান আসেনি। এদিকে খালেদা জিয়া যদি নির্বাচন করতে না পারেন তাহলে ফেনী-১ আসনে লড়তে ১৩ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপাসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আলোচিত ফেনী-১ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়ার জন্য রিজার্ভ থাকলেও এবার দলের নেতারা অনেকেই মনোনয়ন চাচ্ছেন। জানা গেছে, তাদের সবার ধারণা খালেদা জিয়া যদি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন তাহলে আসনটি যদি পাওয়া যায়। এমন প্রত্যাশা থেকেই তারা মনোনয়ন দৌড়ে শামিল হয়েছেন। এ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু ছাড়াও যারা সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তারা হলেন- আমেরিকা প্রবাসী আবুল হাসেম বুলবুল, ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূর আহমেদ মজুমদার, সাবেক যুবদল নেতা মশিউর রহমান খোকন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল আহমেদের পক্ষে তার স্ত্রী (তিনি জেলে রয়েছেন), অ্যাডভোকেট আমিনুল হক, ভিপি স্বপন, আনোয়ারুন নবী বাবলা, মাহতাব উদ্দিন মিনার, ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন, নুর নবী ভূইয়া, মানিক ও রফিকুল আলম মজনু।

প্রবাসী আবুল হাসেম বুলবুল বলেন, দীর্ঘ দিন প্রবাসে থেকে দলের জন্য কাজ করেছি। খালেদা জিয়া যদি নির্বাচন না করেন তাহলেই আমি এ আসনে নির্বাচন করবো। আর চেয়ারপারসন যদি নির্বাচন করেন তাহলে নির্বাচন করার প্রশ্নই আসে না।এছাড়াও সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়েছে ফেনী-২ ও ৩ আসনের। ফেনী-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল লতিফ জনি বলেন, দলের মনোনয়ন বোর্ডে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যরা বলেছেন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য যে পরিবেশ দরকার সেটা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি।

দুপুরে গুলশান কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ডে সাক্ষাৎকার শেষে বাইরে এসে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, এ নির্বাচনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার জন্য দিক নির্দেশনা দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী জানতে চাইলে জনি বলেন, আমার নির্বাচনী আসন ফেনী-৩, আমার বিশ্বাস দল সবার কাছে গ্রহণযোগ্য দলের প্রতি বিশ্বস্ত এবং দীর্ঘ দিনের পরীক্ষিত যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেবে। তিনি বলেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলেছেন জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। এ জনগণই বিএনপিকে বারবার ক্ষমতায় এনেছে। আমরা বিশ্বাস করি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ থাকলে এবং জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পেলে এবারও জনগণ দলের প্রতীক ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নিম্ন আদালতে পাঁচ বছরের সাজার বিরুদ্ধে আপিল করা হলে গত ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট তা বাড়িয়ে ১০ বছর করার রায় দিয়েছিলেন। এর আগে এই মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। এই মামলায় খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়। মামলার অপর চার আসামীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও সবাইকে দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। নিম্ন আদালতে সাজা ঘোষণার পর থেকেই কারাবন্দী রয়েছেন খালেদা জিয়া।

এই মামলায় অপর সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমান। এর মধ্যে পলাতক আছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান। অনাথ শিশুদের সহায়তার জন্য বিদেশ থেকে পাঠানো প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টাকা ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুদক এই মামলা করেছিল। উৎস: বিডি-জার্নাল।

ad

পাঠকের মতামত