বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচ, দেখুন ফলাফল
স্পোর্টস ডেস্ক।। চট্টগ্রামে টেস্ট সিরিজের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই দিনের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে ভালোভাবেই শেষ করেছে বিসিবি একাদশের ক্রিকেটাররা। সৌম্য সরকার, সাদমান ইসলাম, মোহাম্মদ মিথুনদের ব্যাটিং নৈপুণ্যে এবং রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম, নাঈম হাসান ও রিশাদ আহমেদের বোলিংয়ে তাণ্ডবে ক্যারিবীয়দের সাথে ম্যাচ ড্র করেছে টাইগাররা।
দুই দিনের এই প্রস্তুতি ম্যাচে সফরকারীরা খেলেছিল একদিন। সংগ্রহ করেছিল ৩০৩ রান, বাংলাদেশি বোলারদের কাছে খুইয়েছিল ছয় উইকেট। এরপর ইনিংস ঘোষণা করলে দ্বিতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নামে বিসিবি একাদশ। ক্যারিবিয়ান দ্রুত গতির বোলাদের ভালোভাবেই
সামলাতে পেরেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা।৭৫ ওভার খেলে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ২৩২ রান সংগ্রহ করেছে তাঁরা।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন পুরোপুরিই নিজেদের করে নিয়েছিল একাদশের দুই ওপেনার সৌম্য সরকার এবং সাদমান ইসলাম। কিমার রোচ, শ্যানন গ্যাব্রিয়েলদের বলা যায় পাত্তাই দেয়নি তাঁরা। বিনা উইকেটে ৮৫ রান নিয়ে প্রথম সেশন করেছিল তাঁর। দিনের দ্বিতীয় সেশনে এসে উইকেটের দেখা পায় উইন্ডিজরা। সৌম্য-সাদমানের ১২৬ রানের জুটি ভাঙ্গেন জোমেল ওয়ারিকেন। ৭৮ রান করা সৌম্যকে ফেরান তিনি। সৌম্যর বিদায়ের সাদমানের সাথে ৪৭ রানের জুটি গড়া নাজমুল হাসান শান্ত আউট হয়েছেন মাত্র ২১ রান করে।
বোল্ড হয়েছিলেন রোচের বলে। এরপরেই রান আউট হয়ে ফিরেছেন ৭৩ রান করা সাদমান। তরুণ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান জাকির হাসানও উইকেটে থাকতে পারেননি বেশিক্ষণ। গ্যাব্রিয়েলের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গিয়েছিলেন ১৮ রান করে। বিসিবি একাদশের স্কোয়াডে না থেকেও খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দলে জায়গা না পাওয়া লিটন দাস। কিন্তু নিজেও হতাশ হয়েছেন এবং হতাশ করেছেন দলকে। মাত্র এক রান নিয়ে আউট হয়েছেন তিনি।
এক প্রান্ত ধরে রেখেছিলেন মিথুন। ফজলে মাহমুদ রাব্বিকে নিয়ে দিনের ৭৫ ওভার পর্যন্ত খেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সময় ম্যাচটি ড্র ঘোষণা করা হয়। উইন্ডিজদের হয়ে দুই উইকেট নিয়েছেন গ্যাব্রিয়েল। রোচ এবং ওয়ারিকেন নিয়েছেন একটি করে উইকেট। আগের দিন টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সফরকারীরা। অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট দ্রুত বিদায় নেয়ায় সকালটা অবশ্য মনঃপুত নয়নি সফরকারীদের। শফিউলের বলের সরাসরি বোল্ড হন তিনি। তবুও শক্তি দেখিয়ে যায় উইন্ডিজ টপ অর্ডার, ওপেনার
কাইরন পাওয়েল ও তিন নম্বরে নামা শাই হোপ সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ করে আগাম হুমকি দিল।
জুটি বিচ্ছিন্ন করতে ব্যর্থ বাংলাদেশকে সাহায্য করে শাই হোপ নিজেই। ৮৮ রান করেস্বেচ্ছায় অবসর নেন এই ডানহাতি। হোপ মাঠ ছাড়লে ছাড়তে হয় পাওয়েলকেও। ভালো খেলতে পাওয়েল আউট হন কিপার, স্লিপ ও শর্ট লেগের দুর্দান্ত ক্যাচে। ৭২ রানের সময় প্যাডেল সুইপ করে খেলতে গিয়ে কিপার, স্লিপের হাত হয়ে শর্ট লেগে থাকা সতর্ক জাকিরের হাতে ধরা পড়েন এই বাঁহাতি ওপেনার। পাওয়েলের বিদায়ে নতুন ব্যাটসম্যান আমব্রিনকে বোকা বানান নাঈম। অফ স্পিনে শরীরের খুব কাছ থেকে কাট করতে গিয়ে বোল্ড হন তিনি।
স্পিনের ফাঁদে পড়েন দারুন ফর্মে থাকা হেটমায়ারও। ছোট জুটি গড়েও স্থায়ী হতে পারেননি তিনি। আউট হয়েছেন ২৪ রান করে। কিন্তু রান বাড়িয়েছে রস্টন চেইজ ও শেন ডওরিচও। বাউন্ডারি খুঁজে নিয়ে রান বাড়িয়ে নেয় এই জুটি। তবে শেষ বেলায় সৌম্য ও রুবেলের স্পেলে আউট হয়েছে মাঝারি মানের ইনিংস খেলা চেইজ ও ডওরিচ। কিন্তু শেষটা ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। সুযোগ ছিল লোয়ার অর্ডারে ধ্বস নামানোর।
কিন্তু রেমন্ড রেইফার ও কিমো পোলের ছোট্ট জুটি সেটা হতে দেয় নি। শেষ বেলায় রেইফার ১৪ ও পোল ১৮ রান করে অপরাজিত থেকে সাজঘরে ফিরে যান। সফল বোলার ছিলেন একা ২৭ ওভার বল করা অফ স্পিনার নাঈম। দুই উইকেট নিয়েছেন তিনি। রুবেল, শফিউল, সৌম্যর সাথে ফজলে রাব্বি এক উইকেট নিয়েছেন। সংক্ষিপ্ত স্কোর : টস : ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ৩০৩/৬, হোপ ৮৮, পাওয়েল ৭২ ওভার ৮৬.৩, নাঈম ২/ ১০৫। বিসিবি একাদশ : ২৩২/৫, সৌম্য ৭৮, সাদমান ৭৩, ওভার- ৭৫, গ্যাব্রিয়েল ২/২৪।
ফলাফল : ম্যাচ ড্র




