230898

জোবাইদার দেশে ফেরা নিয়ে যা লিখেছে ভারতীয় পত্রিকা!

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী দল বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে চলছে ব্যস্ততা। ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শেষ। জমা নেয়ার কাজও শেষের দিকে।এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন—এমন আলোচনা দলের ভেতরে-বাইরে দীর্ঘদিনের।

ফের জোবাইদা রহমানের দেশে ফেরার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে কয়েকদিন আগে ভারতের বহুল প্রচারিত দৈনিক আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর।প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অমানিশায় থাকা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করছেন, বিএনপির শীর্ষ দুই নেতৃত্বের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যখন প্রশ্নবিদ্ধ, তখন জিয়া পরিবারের সদস্য ডা. জোবাইদা রহমানই পারেন দলের হাল ধরতে। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির জোবাইদা রাজনীতিতে এলে চাঙা হবেন দলের নেতাকর্মীরা। রাজনৈতিক সংকটে দলীয় নেতাকর্মীরা তার কাছ থেকে সঠিক দিশা পাবেন।

আলোচনায় এমনও আছে—খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নির্বাচন করতে না পারলে জোবাইদা রহমান নির্বাচনে অংশ নেবেন। সে ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া যে তিন আসনে (বগুড়ার দুটি ও ফেনীর একটি আসন) মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন, সেই আসনগুলোতে কিংবা জোবাইদার জন্মস্থান সিলেট-১ আসন থেকেও নির্বাচন করতে পারেন তিনি।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ এক নেতার উদ্ধৃতি দিয়ে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—ভারতে গান্ধী পরিবারের নেতৃত্ব ছাড়া কংগ্রেস যেমন চলতে পারে না, বাংলাদেশে শেখ পরিবারের কাউকে ছাড়া আওয়ামী লীগকে যেমন ভাবা যায় না, তেমনি জিয়া পরিবারের নেতৃত্ব ছাড়াও বিএনপি টিকতে পারে না। দলের নেতৃত্বে তরুণ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কোনো গ্রহণযোগ্য মুখ এনে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ‘দেশি-বিদেশি শুভাকাঙ্ক্ষীরাও।

বিষয়টি মেনেই জুবাইদাকে রাজনীতিতে আনার কথা ভাবা হয়েছে। সিলেট ও বগুড়ার একাধিক আসনে তাকে প্রার্থীও করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।কিন্তু ডা. জোবাইদার একাধিক স্বজন ও পারিবারিকভাবে সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়া তো দূরের কথা, শিগগিরই তার দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনাই নেই।লন্ডনে স্বামীর সঙ্গে বিয়ে, মিলাদ মাহফিল, ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়সহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অবশ্য নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন জোবাইদা।

তারেক-জোবাইদা দম্পতি লন্ডন প্রবাসী হওয়ার পর দলের নেতাকর্মীরা এখানে জোবাইদার বাবা ‘মাহবুব আলী খান স্মৃতি সংসদ’ গঠন করেন।এ সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও স্ত্রী জোবাইদা রহমানকে নিয়ে নিয়মিত অংশ নেন তারেক রহমান।এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান ঢাকার একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ডা. জোবাইদা রহমান শিগগিরই দেশে ফিরবেন—এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করা ডা. জোবাইদা ১৯৯৫ সালে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেন। এক-এগারোর সময়ে তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এমডি (কার্ডিওলজি) কোর্সের তৃতীয় পর্বে অধ্যয়নরত অবস্থায় অসুস্থ স্বামীর উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশে ছুটি নিয়ে যুক্তরাজ্যে যান।জোবাইদার বাবা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী জিয়াউর রহমানের আমলে বাংলাদেশের নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকারে তিনি যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানী জোবাইদার কাকা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আইরিন খানের চাচাতো বোন জোবাইদা চিকিৎসকদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম হন।লন্ডনের ইম্পেরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব মেডিসিন থেকে রেকর্ড নম্বর ও স্বর্ণপদক নিয়ে এমএসসি করেছেন।

ad

পাঠকের মতামত