229451

বাংলাদেশে ফেসবুকে ছড়ানো রাজনৈতিক গুজব

বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া খবরের বিষয়টি বেশ আলোচিত। এ ভুয়া খবরকে অনেকে নামকরণ করেছেন ‘গুজব’ হিসেবে।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহুল আলোচিত বেশ কিছু ভুয়া খবর বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সমাজের বিভিন্ন স্তরের এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ এর সাথে সম্পৃক্ত আছে।তবে এ লেখায় এমন কয়েকটি ভুয়া খবরের দিকে আলোকপাত করবো যেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এসব ভুয়া খবর ছড়ানোর পেছনে ভূমিকা রেখেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা।

নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও জিগাতলা সংঘর্ষ: চলতি বছরের আগস্ট মাসে ঢাকায় নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের দাবিতে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামে। পর-পর চারদিন ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বিক্ষোভ করে।বিক্ষোভের পঞ্চম দিন বিকেলে ঢাকার জিগাতলা এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সাথে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। অভিযোগ উঠে সে সময় ছাত্রলীগের হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় কয়েকজনকে হাসপাতালেও ভর্তি করা হয়েছিল।

কিন্তু সে ঘটনার পরপরই ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে জিগাতলায় চারজন নিহত এবং কয়েকজন স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। কয়েকজনের চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে বলেও গুজব ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে নানা রকমের রক্তাক্ত ছবি এবং ভিডিও পোস্ট করে ফেসবুকে।কিন্তু সেসব ঘটনা জিগাতলা সংঘর্ষের সাথে সম্পৃক্ত কি না সেটি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না।এ বিষয়গুলো ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকের সাথে কথা বলা হয় বিবিসির তরফ থেকে। যারা এসব পোস্ট শেয়ার করেছেন তাদের সাথেও কথা বলা হয়। কিন্তু ঘটনার কোনও প্রত্যক্ষদর্শী পাওয়া যায়নি। সবাই বলেছেন, তারা মৃত্যু এবং কথিত ধর্ষণের কথা শুনেছেন।

বিবিসির তরফ থেকে বিভিন্ন হাসপাতালেও যোগাযোগ করা হয়। হাসপাতালগুলোর কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের কাছে সংঘর্ষের সময় গুরুতর আহত এমন কোনও ব্যক্তি হাসপাতালে আসেননি যারা পরবর্তীতে মারা গেছেন। তবে আহত কয়েকজন হাসপাতাল প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন বলে জানা যায়।তাছাড়া অস্বাভাবিকভাবে কারো মৃত্যু হলে সাধারণত সরকারি হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হবার কথা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে সে রকম কোন ময়না তদন্তের খবরও পাওয়া যায়নি।তাছাড়া কোনও নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান চেয়ে থানায় কেউ সাধারণ ডায়েরিও করেনি। এমনকি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কোন পরিবার সংবাদমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিক কিছু বলেনি।

তাছাড়া বিবিসির সংবাদদাতা সরেজমিন অনেকের সাথে কথা বলে হত্যাকাণ্ড কিংবা ধর্ষণের কোন অভিযোগ পাননি। এমনকি পরবর্তীতেও হত্যাকাণ্ড কিংবা ধর্ষণের বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ তোলেনি।ঘটনার সময় বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, কর্মী এবং সমর্থকরা এসব পোষ্ট ছড়ানোর ক্ষেত্রে এক ধরনের ভূমিকা রেখেছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করেন, সরকারকে চাপে ফেলার কৌশল হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড এবং ধর্ষণের গুজব ছড়ানো হয়েছে। সমাজের অনেক পরিচিত ব্যক্তিরাও এসব গুজবের অংশীদার হয়েছেন।

তারেক রহমান ও অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি: চলতি বছরের এপ্রিল মাসে একটি বিষয় ফেসবুকে বেশ ভাইরাল হয়েছিল। সেটির শিরোনাম হচ্ছে, তারেক জিয়াকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হবার আমন্ত্রণ।এ ধরণের একটি বিষয় স্বভাবতই কৌতূহল সৃষ্টি করে। ফেসবুকে এটি শত-শত শেয়ার হচ্ছিল। যারা এসব খবর শেয়ার করছিলেন তারা তারেক রহমানের নানা প্রশংসা করে সেগুলো শেয়ার করেছেন।বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে যারা এটি শেয়ার করছেন, তাদের অনেকই বিএনপির সমর্থক। এ খবর শেয়ার করার মাধ্যমে বিএনপি সমর্থকরা তারেক রহমানের ‘যোগ্যতা’ সম্পর্কে মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন। পত্রিকা ডটকম নামে একটি অখ্যাত ওয়েবসাইট এ খবরটি প্রকাশ করে এবং বিএনপি সমর্থকরা সেটি লুফে নিয়েছিল।

এ খবরটিতে কোন তথ্যসূত্রও উল্লেখ করা হয়নি। কারো কোনও বক্তব্য ছিল না। বাংলাদেশের কোনওে মূল ধারার গণমাধ্যম এ খবরটি প্রচারও করেনি। এমনকি তারেক রহমানকে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির কথিত আমন্ত্রণের বিষয়ে ঢাকায় বিএনপির কেউ জানতেনও না।ঢাকায় বিএনপির একাধিক নেতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টিকে একেবারেই উড়িয়ে দেন। কারণ তারেক রহমান যদি সত্যিই অক্সফোর্ডে আমন্ত্রণ পেতেন তাহলে বিএনপি সেটিকে ঘটা করে প্রচার করতো। এক্ষেত্রে তা হয়নি। সূত্র: বিবিসি বাংলা

ad

পাঠকের মতামত