227845

যেদিন উনি আলোচনায় বসেছে সেদিনই আপনারা জিতে গেছেন

লাগাতার হরতাল অবরোধ দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। ২০১৫ সালে আমি খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করেছিলাম আপনারা অবরোধ প্রত্যাহার করুন। অবরোধ প্রত্যাহার করা হয় নাই। দেশের মানুষ বিএনপির অনুরোধ নিজেরাই প্রত্যাখ্যান করেছে। শেখ হাসিনাকেও বলেছিলাম আপনি আলোচনায় বসুন, তিন বছর পরে হলেও উনি আলোচনায় বসেছে। যেদিন উনি আলোচনায় বসেছে সেদিনই আপনারা জিতে গেছেন।শুক্রবার বিকালে রাজশাহীর আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় জনসভায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী এসব কথা বলেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কি জিততে চান, না চান না? এ সময় নেতাকর্মীরা কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্যের জবাবে বলেন, অবশ্যই জিততে চাই।এরপর তিনি আবারো প্রশ্ন করেন আপনারা কি শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে চান? তখন নেতাকর্মীরা বলেন, না আর রাখতে চাই না।এ সময় কাদের সিদ্দিকী বলেন, তাহলে তো আপনাদের লড়তে হবে। লড়তে হলে নামতে হবে। আপনারা হরতাল অবরোধ ডেকেছিলেন তিন মাস। আপনারা প্রত্যাহার করতে পারেন নাই, কিন্তু এবার ৮ ফেব্রুয়ারি যখন বেগম খালেদা জিয়া জেলখানায় গেছেন তার আগে তিনি নেতাকর্মীদের বলেছেন, আমি যদি মরেও যাই তবুও তোমরা হরতাল দিতে পারবে না।

তিনি বলেন, তার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ১৬-১৭ কোটি মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে, আমি আজকে মনে করি বাংলাদেশের রাজনীতি বলতে বেগম খালেদা জিয়া।বঙ্গবীর বলেন, বাংলাদেশের এমন কোনো জায়গা নাই, যেখানে খালেদা জিয়াকে বন্দি রাখা সম্ভব।তিনি বলেন, আপনারা অনেকক্ষণ বক্তব্য শুনেছেন, আমি কাদের সিদ্দিকী কিন্তু বিএনপির সমাবেশে আসি নাই। কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের সভায় এসেছি, আপনারা যদি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চান তাহলে ঐক্যফ্রন্টকে অটুট রাখতে হবে।

তিনি বলেন, এখানে যারা এসেছেন তার শতকরা ৯০ ভাগ ধানের শীষ করেন। কিন্তু আপনাদের চাইতেও জনগণ অনেক বেশি। বেগম খালেদা জিয়ার জন্য আপনাদের ছটফট করতে হবে না।তিনি বলেন, আমি আপনাদের আহ্বানে এসেছি, আপনারা একটিবারের জন্য ঐক্যফ্রন্টের কথা বলেন নাই, আমাদের নেতাদের কথা বলেন নাই, আমরা কিন্তু বিএনপির মিটিংয়ে তামুক খেতে আসি নাই।তিনি বলেন, আপনাদের নেতা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে আমার তেল ঢালা ক্যাম্পে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রথম দেখা হয়েছিল।

এ সময় তিনি কর্নেল অলি আহমেদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আজকে এই অলি আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদেরকে দারুণ সহযোগিতা করেছিলেন।পুলিশদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আপনি এ রকম বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষদের সামনে বললেন আপনাদের মিটিং করতে বাধা নেই, আমার গাড়ি তো পাঁচবার ধরছে পুলিশ, তারপরেও আমাকে ভুল রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ যদি আমাকে দুটি বছর সময় দেয় তাহলে আমি খুঁজে বের করব, আমি খুঁজে বের করব, যে বেটারা আমার গাড়ি ঘুরিয়ে দিয়েছে আমি ওদের মাথা ঘুরিয়ে দেব।

তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের কথা দিয়েছিলেন, আর পুলিশ ধরবে না, সভা সমাবেশে বাধা দেবে না। আপনারা রাস্তায় মিটিং করবেন না, আপনারা মাঠে মিটিং করবেন। আপনারা রাজশাহীর নেতারা, আপনার রাজশাহীর পুলিশরা আমাদের রাস্তায় মিটিং করতে বলেছিল। আপনি (শেখ হাসিনা) বলেন রাস্তায় মিটিং করবেন না আর আপনার পুলিশরা বলে রাস্তায় মিটিং করতে।

সমাবেশে বঙ্গবীর বলেন, আমি টাঙ্গাইল থেকে সড়কপথে এসেছি, আমি গরিব মানুষ, গরিবের মতো চলাফেরা করি, রাস্তায় রাস্তায় শেখ হাসিনার মাইটা পুলিশরা বাধা দিয়েছে, আমাকেও ঘুরাতে পারে নাই, এই মাঠের মানুষকেও ঘুরাতে পারে নাই।পুলিশদের উদ্দেশে কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, আমরা সংসদে থাকতে অন্তত ৭ বার পুলিশদের সুযোগ-সুবিধার জন্য প্রস্তাব করেছিলাম সেই জন্য আজকে এত বেতন। শুধু হাসিনার কথা নয় আর কদিন পর আমাদের কথাও শুনবেন আপনারা।

তিনি বলেন, যে পুলিশরা ঘুষ দিয়ে ভর্তি হয়েছেন, আমি এই রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে কথা দিয়ে গেলাম, আপনাদের ঘুষের টাকা আমি ফিরিয়ে দেব। সব টাকা দিতে পারব না। আমি একটা মনে মনে হিসাব করে রেখেছি যারা আওয়ামী লীগের আমলে পুলিশে ভর্তি হয়েছে তাদের প্রত্যককে আমরা ১০ লাখ টাকা আমরা ফিরিয়ে দেব।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমার এখানে আসার কথা ছিল না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য আমি জীবন ঝরিয়েছি, তার জন্য আমি রাজনীতিতে এসেছি, যতদিন বেঁচে থাকব আমি বঙ্গবন্ধুকে লালন করে বেঁচে থাকব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও জিয়াউর রহমানের এই যে দ্বন্দ্ব, এই দ্বন্দ্ব করে যারা বাংলাদেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে আল্লাহ যদি আমাকে সময় দেন তাহলে শেখ মুজিব আর জিয়াউর রহমানের দ্বন্দ্ব আমি ঘুচিয়ে দেব ইনশাআল্লাহ। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।

তিনি বলেন, বিএনপি রাজাকারের গাড়িতে পতাকা দেয় নাই। শেখ হাসিনা রাজাকারের গাড়িতে প্রথম পতাকা তুলে দিয়েছেন। কাদেরিয়া বাহিনী যাকে বন্দি রেখে জামালপুর জেলে রেখেছিলাম সেই জামালপুরের সরিষাবাড়ির নুরুকে প্রথম পতাকা দিয়েছে ধর্মমন্ত্রী হিসেবে। তারপর রংপুরের আশিকুর রহমান, চাঁদপুরের মহিউদ্দিন আলমগীরকে ময়মনসিংহের ডিসি, টাঙ্গাইলের ডিসি আমার ব্রিগেডিয়ার ফজলুর রহমান আশিকুর রহমানকে পাছায় লাথি মারতে মারতে জেলখানায় ঢুকিয়েছিল।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি হাত চালাই না। মুক্তিযুদ্ধের সময় শুধু আমার সঙ্গে সিলেটের একটি মানুষ ছিল, সে আমার পিঠে হাত দিয়ে বলেছিল বজ্রভাই, চিন্তা করবেন না আমি আছি, আমার মনে হয়েছিল সারা বাংলাদেশ আমার পেছনে আছে।তিনি বলেন, আমি হাত তুলি না, আমি কারো গায়ে হাত লাগাই না। রাসূল বলেছেন, যার হাত থেকে আর জিহবা থেকে মুমিন মুক্ত নয় মুসলমানই নয়। আমি আমার হাতের ব্যবহার জানি না, আমি আমার বাবা-মায়ের হাতে মার খেয়েছি কিন্তু আমার গায়ে আমার একটি পশমও কেউ স্পর্শ করতে পারেনি। আমি আমার হৃদয় দিয়ে লড়াই করি।সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল

ad

পাঠকের মতামত