225433

হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি

হাতির রাজত্ব। তবে তা কোন সার্কাস, প্রদর্শনী কিংবা জঙ্গলে নয়। রাজধানীর অভিজাত এলাকার সড়কে হাতি দিয়ে করা হচ্ছে চাঁদাবাজি। কিছুতেই কমছে না হাতি দিয়ে চাঁদাবাজির এই দৌরাত্ম। প্রতিদিনই নগরীর কোনো না কোনো এলাকায় চোখে পড়ছে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজির এমন দৃশ্য। নতুন এই চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

রোববার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডি ১২ নম্বর সড়কে গিয়ে চোখে পড়ে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজির এমন দৃশ্য। হাতির পিঠে কিশোর মাহুত। সে নানা রকম শব্দ করে ও নির্দেশ দিয়ে হাতিটি পরিচালিত করছে। আর হাতি তার শুঁড় এগিয়ে দিচ্ছে গাড়ির দিকে। তখন হাতির শব্দ আর শুঁড়ের নাড়ানাড়িতে ভয়ে বড় নোট বাড়িয়ে ধরে হাতিকে বিদায় করছেন ভুক্তভোগীরা। তবে হাতির যেহেতু পকেট নেই, তাই হাতি প্রতিবারই টাকা বাড়িয়ে দিচ্ছে তার মাহুতের দিকে। আর সে টাকা ঢুকছে মাহুতের পকেটে।

চাঁদাবাজির শিকার কামরুজ্জামান জানান, হঠাৎ গাড়ির সামনে হাতি চলে আসায় ভয় পেতে হচ্ছে। কখনও কখনও হাতি ধাওয়াও করছে। টাকা না দিলে হাতি গাড়ির সামনে থেকে সরে না। শুঁড় ও লেজ দোলাতে থাকে। ফলে বাধ্য হয়েই টাকা দিতে হয়। তবে ১০ বা ২০ টাকা দিলে নিচ্ছে না হাতির মাহুত। ১০০ টাকা পর্যন্ত দিলেও পথ ছাড়ছে না হাতি। ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া চাঁদাবাজি ছাড়া আর কিছুই না।

চাঁদাবাজির এমন দৃশ্য দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে সেলিম আহমেদ নামের একজন পথচারী বলেন, প্রায়ই বিভিন্ন জায়গায় এমন চিত্র দেখছি। এটা তো এক ধরণের চাঁদাবাজি। এটা কি দেখার কেউ নেই। রাস্তা বন্ধ করে এরা তো একধরণের নৈরাজ্য চালাচ্ছে। কেউ তাদের কিছু বলতে পারছে না। এটা কি মগের মুল্লুক নাকি?

চাঁদাবাজির এই দৌরাত্ম থেকে বাদ পড়ছে না ফুটপাতের সামান্য আয়ের ব্যবসায়ীরাও। ব্যবসায়ী ও পথচারীদের অভিযোগ, হাতির সাহায্যে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে কয়েক ব্যক্তি। প্রশিক্ষপ্রাপ্ত কয়েকটি হাতি নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিতভাবে ঘুরে ঘুরে এই চাঁদাবাজি চালানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে হাতি দেখানো ও চাঁদাবাজি একসঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে হাতির মালিক ও মাহুতরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীতে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি করার পাঁচ থেকে ছয়টি গ্রুপ আছে। সেখানে রয়েছে অন্তত প্রায় ১০০ জন। তারা সবাই রাস্তায় হাতি দিয়ে গাড়ি আটকে ও প্রতিটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা আদায় করে।

অবশ্য, হাতির খোরাক যোগানোর কথা বলে এভাবে চাঁদা তোলার ঘটনা এই উপমহাদেশে কয়েকশ বছরের পুরনো রীতি। বিভিন্ন বই-পুস্তকে এমন ঘটনার কথা জানা যায়। তবে আগে মানুষ হাতিদর্শন উপভোগ করে নজরানা দিলেও এখন ঘন ঘন একই এলাকায় হাতি দিয়ে টাকা ওঠানোকে চাঁদাবাজি হিসেবেই দেখছেন নগরবাসী।

মো. রাসেল নামে এক মাহুত বলেন, হাতির মালিককে প্রতিদিন তিন হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। বাকি টাকা তার নিজের থাকে।

হাতি ভাড়া করার স্থানের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ad

পাঠকের মতামত