‘বাপের বাড়ি থেকে কত পণ দিয়েছে, যে আরাম করে সময় কাটাবে?’
শ্বশুরবাড়ি থেকে এক বধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়েছে। নিহতের নাম মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ঘোষ (২৫)। নিহতের এক কাকার অভিযোগ, পণের দাবিতে মীনাক্ষীকে খুন করে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।শুক্রবার (২৭ জুলাই) সকালে কলকাতার ব্যারাকপুরের মোহনপুর মধ্যপাড়া শ্বশুরবাড়ি থেকে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ঘোষের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর এমন অভিযোগ করেন নিহতের পরিবার। খবর আনন্দবাজারের।
এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে স্বামী চন্দন মুখোপাধ্যায় এবং মীনাক্ষীর শ্বশুর-শাশুড়ি ও দিদি-জামাইবাবুকে। চন্দন টিটাগড় থানার সিভিক ভলান্টিয়ার বলে জানা যায়।মীনাক্ষীর পরিবারের অভিযোগ, মীনাক্ষীর গৃহশিক্ষকতার টাকা শাশুড়ির হাতে তুলে দিতে হত। নিজের স্মার্টফোনে হাত দেয়ার অধিকারই ছিল না বৌমা মীনাক্ষীর। নিত্য দিন শুনতে হত, ‘বাপের বাড়ি থেকে কত পণ দিয়েছে, যে আরাম করে সময় কাটাবে?’
পদে পদে এমনই গঞ্জনা সহ্য করতে হত।এদিকে, গৃহবধূ মীনাক্ষীর মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে এলাকার স্থানীয়রা ওই বাড়িতে চড়াও হন। মীনাক্ষীর স্বামীকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও চন্দনের বাবা-মা এবং দিদি-জামাইবাবুর বিরুদ্ধেও মীনাক্ষীকে অত্যাচার করার অভিযোগ থাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরকেও।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, দেড় বছর বয়সে মা-বাবাকে হারিয়ে মধ্যপাড়ারই বাসিন্দা প্রতিবেশী অমর সেনের কাছে মানুষ হন মীনাক্ষী। লেখাপড়ায় মীনাক্ষী ভাল ছাত্রী ছিলেন। স্নাতকোত্তর পাশ করার পরে, এক বছর আগে একই পাড়ার চন্দনের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। পণ হিসেবে অমর বাবুকে দিতে হয়েছিল নগদ টাকা, গয়না ও আসবাব।
তবুও মীনাক্ষী কপালে সুখ মেলেনি। অভিযোগ, বিয়ের ৩ মাসের মাথায় শুরু হয় অত্যাচার। চন্দনের বাবা চঞ্চল মুখোপাধ্যায় আগে হোমগার্ডের কাজ করতেন।প্রতিবেশীরা জানান, চঞ্চলবাবুর স্ত্রী দোর্দ-প্রতাপ অঞ্জুর কথাই ছিল বাড়িতে শেষ কথা। মীনাক্ষীর হাতে ফোন দেখলেই তার উপরে অমানবিক অত্যাচার করা হত বলে অভিযোগ রয়েছে।
মীনাক্ষীর পরিবারের দাবি, গৃহশিক্ষকতা করে পাওয়া পুরো টাকাটাও তার শাশুড়িকে দিতে হত, এর পাশাপশি প্রতি মাসে বাড়ির বিদ্যুতের বিলের বড় অংশও তাকে দিতে বাধ্য করা হত। এমনকি তাকে বলা হত, প্রয়োজনে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে। এ নিয়ে সংসারে অশান্তি চরম পর্যায় পৌঁছে ছিল।সম্প্রতি স্বামী চন্দনের জন্য দামি মোটরসাইকেল কেনার জন্য মীনাক্ষীর টাকা বাপের বাড়ি থেকে আনতে চাপ দেয়া হচ্ছিল। মীনাক্ষীর বাবার কিছু জমি ছিল, সেটাও যাতে চন্দনের নামে লিখে দেয়া হয়, এজন্য অত্যাচারের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল তার শ্বশুরবাড়ি লোকজন।
এ বিষয়ে পঞ্চায়েত সমিতির স্থানীয় সদস্য, তৃণমূলের নির্মল কর বলেন, ‘আমার কাছে ওঁরা তিন বার এসেছিলেন। আমি চন্দনদের আলাদা থাকারও পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু তা ওঁরা মানেন নি। মীনাক্ষী আর আমার মেয়ে একসঙ্গে বড় হয়েছে। ওকে আমি চিনি। খুবই শান্ত স্বভাবের মেয়ে মীনাক্ষী।’মীনাক্ষীর মৃত্যুর খবর রটে যেতেই চন্দন সপরিবার পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করে টিটাগড় থানায় খবর দেয় প্রতিবেশীরাই।




