পরীক্ষার্থীরা প্রত্যেকে পাবেন ১ লক্ষ করে টাকা
গাইডলাইন টপকে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এমন প্রশ্নপত্র তৈরি করেছিল যে পরীক্ষার্থীদের অনেকেরই কালঘাম ছুটেছিল উত্তর দিতে গিয়ে। ফলে এখন এবার ‘মূল্য’ চোকানোর পালা পর্ষদের।
মামলাকারী ১৯ জন প্রার্থীকে এক লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ মেটাতে হবে পর্ষদকে, কলকাতা হাইকোর্ট শুক্রবার (২৭ জুলাই) এই নির্দেশ দিয়েছে।
ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন(এনসিটিই)-এর গাইডলাইন অনুযায়ী, ২০১২ সালের টেট পরীক্ষা হয়নি বলে বাপী কান্দার সহ ১৯ জন প্রার্থী মামলা করেন কলকাতা হাইকোর্টে।
কিন্তু হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের রায় তাদের বিপক্ষে যায়৷ সেই রায়ের বিরুদ্ধে তারা ডিভিশন বেঞ্চে মামলা করে। বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ ২০১২ সালের টেট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এনসিটিই’র গাইডলাইন মেনে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ করেছিল কি না তা নিয়ে রিপোর্ট দিতে বলে এনসিটিই’কে। প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে এবেলা।
সেই রিপোর্টে জানা যায়, প্রশ্নপত্রের মান এনসিটিই’র গাইডলাইনের থেকেও উচ্চস্তরের হয়েছে। এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদও বিষয়টি মেনে নেয় কোর্টে।
তখন বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ বলে, প্রায় ৩৪ হাজার শূন্যপদে ৩০ লক্ষ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসে। শিক্ষক নিয়োগ হয়ে গেছে প্রায় ১৯ হাজার। ফলে বৃহত্তর ক্ষেত্রের কথা মাথায় রেখে কোর্ট আর ওই বছরের পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়ার বিষয়টির মধ্যে হস্তক্ষেপ করছে না৷ তবে প্রশ্নপত্রের মান যে সঠিক ছিল না তা স্পষ্ট৷
তাই প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে আদালত জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী ক্ষেত্রে যখন প্রাথমিক টেট পরীক্ষা হবে রাজ্যে, তখন এনসিটিই’র গাইডলাইন যেন কঠোরভাবে মানা হয়৷ এছাড়া ওই মামলাকারীদের এক মাসের মধ্যে ক্ষতিপূরণ মেটাতে বলেছে আদালত৷
এদিকে ২০১৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের টেট পরীক্ষার ১১টি প্রশ্নপত্র নিয়েও জটিলতা রয়েছে। শুক্রবার অন্য একটি মামলায় বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সবুজকলি সেনকে নির্দেশ দিয়েছেন, একটি কমিটি গঠন করে ওই প্রশ্নগুলির সঠিক উত্তর কী হবে তা খতিয়ে দেখে মুখবন্ধ খামে তা কোর্টে পেশ করতে হবে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর।




