‘ঘুষ দিলে’ এক দিন, না দিলে সাত দিন
ঈদের আগে রাজধানীর ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরে ঘুষ দিলে একদিনেই মৌজা-নকশা মিলছে। অন্যদিকে ঘুষ না দিলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মানুষদের ছয় থেকে সাত দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, এর আগে নকশা-মৌজা তোলার জন্য আবেদন করলে একদিনেই পাওয়া যেত। ঈদের আগে সেটা হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেছে। দালালদের ঘুষ দিলে এক দিনেই নকশা-মৌজা দিয়ে দিচ্ছে।
এ রকম একজন ভুক্তভোগী নওগাঁ থেকে জমির নকশা তুলতে আসা রাকিব। তার ভাষ্য, ‘আগে অ্যাপলিকেশন ফরম ফ্রি দিত। এখন বাইরে থেকে ফরম আলাদা করে কিনতে হচ্ছে।’
রাকিবের নকশা তোলার আবেদনপত্রে দেখা যায়, তিনি ৫০০ টাকা দিয়ে নকশা তোলার জন্য ৬ জুন আবেদন করেছেন। সেখানে তাকে নকশা প্রদানের সময় দেওয়া হয়েছে ১২ জুন।
যদিও আবেদনপত্রে লেখা থাকে, ‘যান্ত্রিক বা বৈদ্যুতিক গোলযোগের জন্য অথবা ভুল তথ্য প্রদানের জন্য মৌজা ম্যাপের স্ক্যান কপি/ফটোকপি সরবরাহে দেরি হলে কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।’
নওগাঁ থেকে ঢাকায় আসা রাকিব বলেন, ‘এর আগেও দুইবার ম্যাপ তুলছি। তখন দেখা যেত, সকালে আবেদন করলে বিকেলে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুপুরে আবেদন করলে সাধারণত পরের দিন পাওয়া যেত। রমজান মাসে সরকার তো আর অফিস টাইম কমায়নি, এদিক-সেদিক করেছে। ওরা বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সময় নিচ্ছে ছয় থেকে সাত দিন।’
‘আমি বললাম, ভাই (সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে) কী ব্যাপার। তখন তিনি বললেন, “না এটা সম্ভব না। ঈদের আগে সম্ভব না। অর্থাৎ, ঈদের আগে নিতে হলে আপনাকে ১২ তারিখেই নিতে হবে।” পরে আমি যখন বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দালালদের জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তারা বলতেছে, ‘‘আপনি এটা দুপুরেই পাবেন। দুপুরে আমি না দিতে পারলে আগামীকাল সকালেই দিতে পারব। এর জন্য প্রত্যেকটা নকশায় অতিরিক্ত ২০০ টাকা করে দিতে হবে’’’, যোগ করেন রাকিব।
রাকিবের মতো ভোগান্তির শিকার হওয়ার আরও অভিযোগ প্রিয়.কমের কাছে এসেছে।
নকশার জন্য আসা রাকিবের দাবি, তার মতো আরও অনেককেই এমন ভোগান্তির শিকার হতে দেখেছেন তিনি। তখন তারা বাধ্য হয়েই ঘুষ দিয়ে নকশা তুলে নিচ্ছেন। ঈদের জন্য আলাদা করে এখানে ভিড় হয় না, তারপরও অতিরিক্ত সময় লাগছে নকশা তুলতে।
৭ জুন, বৃহস্পতিবার ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. আনিছুজ্জামানকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়। বিষয়টি শোনার পর তিনি প্রিয়.কমকে বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে এমন তো হওয়ার কথা নয়।’
বিষয়টির দায়-দায়িত্ব মো. আনিছুজ্জামান নিজে না নিয়ে অন্য পরিচালকদের জানানোর কথা বলেন। প্রশাসন ছাড়াও এই অধিদফতরের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ বিভাগে আরও দুজন পরিচালক রয়েছেন।




