বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল ও বুট জিতেছেন যেসব তারকারা
‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ ফুটবল মহাযজ্ঞের যাত্রা শুরু হয় ১৯৩০ সাল থেকে। তখন সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি দেয়া হলেও কোনো পুরস্কার দেয়া হতো না। তবে ১৯৮২ বিশ্বকাপ থেকে চালু হয় সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতাকে পুরস্কার দেওয়ার নিয়ম। স্পেনে অনুষ্ঠিত হওয়া ওই বিশ্বকাপ থেকে তিনটি বিভাগে পুরস্কার চালু হয়।
পুরো টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়কে গোল্ডেন বল দেয়ার নিয়ম চালু হয়। টুর্নামেন্টের সেরা গোলদাতা পান গোল্ডেন বুট আর সেরা গোলরক্ষককে গোল্ডেন গ্লাভস। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক বিশ্বকাপে এই পুরস্কারগুলো কারা জিতেছে।
১৯৮২-স্পেন বিশ্বকাপ
সেবার গোল্ডেন বল জিতেছিল ইতালির পাওলি রসি, সিলভার বল পেয়েছিল ব্রাজিলের ফ্যালকাও আর ব্রোঞ্জ বল জার্মানির কার্ল হেইঞ্জ। সেই বিশ্বকাপে ৬ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিল ইতালির পাওলি রসি। সিলভার বুট জার্মানির কার্ল হেইঞ্জ আর ব্রোঞ্জ বুট ব্রাজিলের জিকো। সেরার তৃতীয় বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় ইতালি।
১৯৮৬- মেক্সিকো বিশ্বকাপ
মেক্সিকোতে একাই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো ডিয়াগো ম্যারাডোনা জিতেছিলেন গোল্ডেন বল। সিলভার বল জিতেছেলেন জার্মানির হারল্ড শুমাখার আর ব্রোঞ্জ বল ডেনমার্কের এলকেজার লারসেন। সেবার ৬ গোল করে গোল্ডেন সু জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের বিখ্যাত স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকার। জার্মানির এমিলিও, আর্জেন্টিনার ম্যারাডোনা ও ব্রাজিলের ক্যারেকা সমান ৫ গোল করায় পেয়েছিলেন সিলভার সু।
১৯৯০- ইতালি বিশ্বকাপ
ইতালির সালভাতোরো সিলাকি সেবার গোল্ডেন বল জয় করেন। সিলভার বল জেতেন জার্মানির লোথার ম্যাথিউস আর ব্রোঞ্জ বল আর্জেন্টিনার ডিয়াগো ম্যারাডোনা। এই বিশ্বকাপে সিলাকি ৬ গোল করে জিতে নেন গোল্ডেন বুট। ৫ গোল করে সিলভার বুট জেতেন চেক রিপাবলিকের টমাস শুকরাভি আর ব্রোঞ্জ সু জিতেন ক্যামেরুনের রজার মিলা। টানা তিন বার ফাইনাল খেলার পর নব্বাইতে তৃতীয় বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় জার্মানি।
১৯৯৪- আমেরিকা বিশ্বকাপ
এবার গোল্ডেন বল জেতেন চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের রোমারিও। সিলভার বল জেতের ইতালির ব্যাগিও ও ব্রোঞ্জ বল বুলগেরিয়ার স্টোয়িচকভ। এই বিশ্বকাপে ৬ গোল করায় দু’জন জিতেছেন গোল্ডেন সু। তারা হলেন- বুলগেরিয়ার স্টোয়িচকভ ও ইউক্রেনের ওলেগ সালেঙ্কা। ব্রোঞ্জ বল জিতেন ব্রাজিলের রোমেরে ও সুইডেনের কেনেট অ্যান্ডারসন।
১৯৯৮- ফ্রান্স বিশ্বকাপ
ফ্রান্স বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল দখলে যায় ব্রাজিলের রোনালদোর। সিলভার বল জেতেন ক্রোয়োশিয়ার ডাভর সুকের আর ব্রোঞ্জ বল ফ্রান্সের লিলিয়াম থোরাম। ক্রোয়োশিয়ান ডাভর শুকের ৬ গোল করে জিতে নেন গোল্ডেন সু। ৫ গোল করে সিলভার বল জিতেন আর্জেন্টিনার বাতিস্তুতা ও ইতালির ক্রিস্টিয়ান ভিয়েরি। জিদানের দল ১৯৯৮ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।
২০০২- দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান বিশ্বকাপ
একমাত্র গোলকিপার হিসেবে গোল্ডেন বুটটি এই বিশ্বকাপে দখলে যায় জার্মানির অলিভার কানের। সিলভার বল জেতেন ব্রাজিলের রোনালদো আর ব্রোঞ্জ বল জাপানের মিং বো। এই বিশ্বকাপে একাই ৮ গোল করে গোল্ডেন সু জিতেন ব্রাজিলের রোনালদো। সিলভার বল পান জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা ও ব্রাজিলের রিভালদো।
২০০৬- জার্মানি বিশ্বকাপ
জার্মানি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জেতেন ফ্রান্সের কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। সিলভার বল জেতেন ইতালির ফ্যাবিও ক্যানভারো ও ব্রোঞ্জ বল জেতেন আন্দ্রে পিরলো। নিজেদের মাঠে ৫ গোল করে ক্লোসা জিতেন গোল্ডেন সু। সিলভারবল জিতেন আর্জেন্টিনার হার্নান ক্রেসপো ও বোঞ্জ বুট ব্রাজিলের রোনালদো।
২০১০- দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ
এবার গোল্ডেন বল দখলে যায় উরুগুয়ের দিয়াগো ফোরলানের। সিলভার বল জেতেন নেদারল্যান্ডসের ওয়েলসি স্নাইডার আর ব্রোঞ্জ বল স্পেনের ডেভিড ভিয়া। এই বিশ্বকাপে ৬ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেন জার্মানির থমাস মুলার। সিলভার বল জেতেন স্পেনের ডেভিড ভিয়াও ব্রোঞ্জ বল নেদারল্যান্ডসের ওয়েলসি স্লাইডার। ২০১০ সালে প্রথম বার ফাইনাল খেলেই চ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।
২০১৪- ব্রাজিল বিশ্বকাপ
এবার গোল্ডেন বল দখলে যায় আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির। সিলভার বল জেতেন জার্মানির থমাস মুলার আর ব্রোঞ্জ বল নেদারল্যান্ডসের অরিয়েন রোবেন। এই বিশ্বকাপে কলম্বিয়ান তরুণ হামেস রদ্রিগেজ ৬ গোল করে জেতেন গোল্ডেন বুট। সিলভার সু জেতেন থমাস মুলার আর ব্রোঞ্জ সু নেইমার।




