ঈদে নৌপথে যাত্রী পারাপার নিয়ে সংশয়
ডেস্ক রিপোর্ট : আসন্ন ঈদে মাওয়ার শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের কাঠালবাড়ী রুটে নির্বিঘে যাত্রী পারাপার নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। কারণ পদ্মার মাওয়া-কাঠালবাড়ী নৌরুটে পলি জমতে শুরু করেছে অস্বাভাবিক হারে। এ ছাড়া এ রুটের নদীর স্রোতের তীব্রতা বাড়ায় লৌহজং টার্নিং পয়েন্ট ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে ওই রুটে বিকল্প নৌচ্যানেল খননের কাজ শুরু করা করেছে। পাশাপাশি নদীর ড্রেজিংয়ে সহযোগিতা চেয়ে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।
গুরুত্ব বিবেচনায় জরুরি সহায়তা চেয়ে সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা বলেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুুস সামাদ। জানা গেছে, শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ী নৌপথে এবার বৃষ্টি মৌসুমের আগেই পলি পড়ার হার বেড়ে গেছে। অথচ এ রুট দিয়েই দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ নৌপথে যাতায়াত করেন। ঈদের আগে এ হার আরও বাড়লে নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত বছর ঈদেও ওই নৌরুটে নাব্য সংকট সৃষ্টি হয়ে যাত্রী পারাপারে সমস্যা হয়েছিল। অথচ ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোটের মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ খুলনা ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোয় যাতায়াত করেন। এ রুটে প্রতিদিন শত শত যাত্রীবাহী ও মালবাহী গাড়ি পারাপার হয়। প্রায় বছরই জুলাইয়ে উজানের পলি জমে এ রুটে নাব্য সংকট দেখা দেয়। বর্তমানে ১২-১৩ ফুট গভীরতা রয়েছে। তবে ফেরি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু হঠাৎ বন্যা বা প্লাবনে পলি চলে এলে বিপদে পড়তে হবে। আগাম বিপর্যয় আঁচ করতে পেরে বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দফায় দফায় ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর এম মোজাম্মেল হক বলেন, এ রুটে পলি পড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। তাই বিকল্প চ্যানেল তৈরি করতে ৩টি ড্রেজার মেশিন বসানো হয়েছে। পাশাপাশি পদ্মা সেতু প্রকল্পের সঙ্গে কথা বলে তাদের বড় আকারের ড্রেজার মোতায়েনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শিমুলিয়া-লৌহজং ট্যানেল-কাঠালবাড়ী নৌপথের বিকল্প হিসেবে শিমুলিয়া-মাগুরখন্দ-কাঠালবাড়ী বিকল্প চ্যানেল তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে ওই নৌরুটের দৈর্ঘ্য ২ কিলোমিটার বেড়ে ১৮ কিলোমিটার হবে। এজন্য চার লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করতে হবে। চ্যানেলের প্রশস্ততা হবে ২৪০ ফুট। এতে দুই পথে ফেরি চলাচল করতে পারবে। তবে নদী পারাপারে ফেরীতে সময় বেশি লাগবে।
বর্তমানে শিমুলিয়া থেকে লৌহজং টানেল হয়ে কাঠালবাড়ী ফেরি চলাচল করছে। এ নৌপথের দূরত্ব ১৬ কিলোমিটার। এ রুটে বিআইডব্লিউটিসির ১৮টি ফেরি চলাচল করছে। ঈদ উপলক্ষে এ বহরে আরেকটি ফেরি যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। নদীতে স্রোতের গতি ২ থেকে ৩ নটিক্যাল মাইল। স্রোতের তীব্রতা আরও বেড়ে গেলে লোহজং টার্নিং পয়েন্ট দিয়ে ফেরি চলাচল করতে পারবে না। সূত্র : আমাদের সময়




