হায়রে ভাগ্য! পথে বসিয়ে দিল (ভিডিও)
চোখে পানি এসে গেল। কেঁদে দিলাম। সবাই ই আমার পরিবারের পরিচিত। ঈদকে সামনে রেখে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ করে দোকানে মালামাল তুলছে একটু ভালভাবে ঈদ টা করার জন্য। হায়রে ভাগ্য!! পথে বসিয়ে দিল
অভিযোগ কার কাছে করব? ভাগ্যের কাছে?
আমি ওনাদের পরিবারের অবস্থা জানি, বুকের শ্বাসপ্রশ্বাস টা একটু পরপর আটকে যাচ্ছে এসব ভেবে। দোকানগুলোই বেচেঁ থাকার অবলম্বন ছিল অনেকের কাছে। হে আল্লাহ, তুমি একমাত্র ভরসা।
আজ বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গাঙ্গিনারপাড় হকার্স মার্কেটের অগ্নিকাণ্ড নিজ চোখে দেখে এভাবেই দীর্ঘশ্বাসে আটকে থাকা কথাগুলো প্রকাশ করছিলেন পৃথুল নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী।
আবেগ-আপ্লুত কণ্ঠে দোকানদার হৃদয় জানান, তাদের পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস একটি জুতার দোকান। আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আরেক দোকানদার রবিন ও বিপ্লব জানান, আগুনে সব শেষ। এখন আমরা পথের ভিখারী। ঈদ সামনে রেখে সুদ করে টাকা নিয়ে মাল তুলেছি একটু লাভের আশায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী খন্দকার শরীফ জানান, আগুনের ঘটনা এটি সবচেয়ে ভয়াবহ। এর আগে এত বেশি দোকানপাটে আগুন লাগার খবর শোনেননি তিনি।
হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল হক কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আগুনে হকার্স মার্কেটের সব দোকানপাট ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আসন্ন ঈদ সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা ঋণ করে, সুদ নিয়ে একটু লাভের আশায় প্রত্যেকটি দোকানে ঈদসামগ্রী তোলেন। সব হারিয়ে এখন নিঃস্ব এখানকার ব্যবসায়ীরা। তিনি আনুমানিক ৫০ কোটি টাকার ক্ষতির আশংকা করছেন।
স্থানীয়রা জানান, ময়মনসিংহ শহরের প্রাণকেন্দ্র গাঙ্গিনারপাড় হকার্স মার্কেটে ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের প্রায় দেড় শতাধিক পাইকারি ও খুচরা দোকান। যেখানে জুতা, গার্মেন্টস ও কসমেটিকসের দোকানই বেশি। সকাল সোয়া ৬টায় আকস্মিক আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
খবর পেয়ে প্রথমে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করলেও পানি স্বল্পতায় তা বিলম্ব হয়। এর পর ত্রিশাল, ঈশ্বরগঞ্জ, মুক্তাগাছা ও ফুলবাড়িয়া থেকে আরও ৪টি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
এ সময় ভয়ে-আতংকে হকার্স মার্কেট লাগুয়া দোকানপাটের মালামালও সরিয়ে নেন দোকানিরা। ব্যবসায়ীদের স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকাজুড়ে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
এরপর বেলা সোয়া ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিটের পাশাপাশি র্যাব-পুলিশ ও ব্যবসায়ীরা। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকে পুরো গাঙ্গিনারপাড়জুড়ে।
আগুনে ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে ৫০ কোটি টাকার বেশি ছাড়িয়ে যাবে বলে জানান ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক শহীদুর রহমান জানান, পানি সমস্যার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রচণ্ড বেগ পেতে হয়। প্রায় কোয়ার্টার কিলোমিটার দূরে শহরের একমাত্র জলাধার বিদ্যাময়ী সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের পুকুর থেকে পানি এনে আগুন নেভানোর কাজ চলছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ অর্ধ শতাধিক সদস্য আগুন নিয়ন্ত্রণসহ আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এবং লুটপাট এড়াতে প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে খুব হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসায় ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে।




