218830

বাংলাদেশের প্রথম ‘ফ্লাগ গার্ল’ উপাধি পেলেন লক্ষ্মীপুরের নাজমুন নাহার

কি অদ্ভুত নেশা। টাকা জমিয়ে মানুষ সম্পদ গড়ে আর নাজমুন নাহার টাকা খরচ করেন ভ্রমণ স্বপ্ন পূরণের জন্যে। সব সময় স্বপ্নই থাকে নতুন কোনো দেশ ভ্রমণের। সুযোগ পেলেই ছুটে যান দেশ ভ্রমণে। সেই স্বপ্নেই বাংলাদেশের সৃষ্টি হলো আরেকটি নতুন ইতিহাস। একশত দেশ ঘুরে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের নাজমুন নাহার। তার দেশের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়।

বাংলাদেশি নারী হিসেবে এমন বিরল কৃতিত্ব অর্জন করলেন নাজমুন নাহার। গত ১ জুন বাংলাদেশ সময় বিকাল তিনটার দিকে নাজমুন নাহার এ রেকর্ড গড়েন। আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ের মাটিতে পা রেখে শততম দেশ ভ্রমণের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। তাঁর ভ্রমণতালিকায় পূর্ব আফ্রিকার জাম্বিয়া ছিল ৯৯তম দেশ। দেশটির লিভিংস্টোন শহর থেকে হেঁটে তিনি জিম্বাবুয়ে পৌঁছান।

বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের জিম্বাবুয়ে অংশে কয়েক ঘণ্টা ঘুরে আবার জাম্বিয়ায় ফিরে আসেন তিনি। ভ্রমনের মধ্য দিয়ে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের সাংস্কৃতি, প্রকৃতি, দেশের মানুষ সম্পর্কে জানিয়েছেন। বছরের শুরুতেই ৯৩টি দেশ ঘুরার রেকর্ড ছিল পরিব্রাজক নাজমুন নাহারের।বাংলাদেশের এই নারী ২০১৬ ও ২০১৭ সালেই ঘুরেছেন ৩৫টি দেশ। তবে নাজমুন নাহারের এ বছরের মধ্যেই শততম দেশ ভ্রমণের লক্ষ্য ছিল। শততম দেশ হিসাবে আফ্রিকার কোনো দেশ ভ্রমণ করার ইচ্ছে ছিল তার।

৩৮ বছর বয়সী নাজমুন নাহারের বিশ্বভ্রমণের শুরুটা ২০০০ সালে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় প্রথম ভারত ভ্রমণ করেন তিনি। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাঠ শেষে রাজশাহী থেকে ঢাকায় চলে আসেন নাজমুনঅ সাংবাদিকতার জোকে বিনোদন সাময়িকীতেও কাজ করেন কিছুদিন। সাংবাদিকতার পাঠ চুকিয়ে যায় ২০০৬ সালে শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার পর। চলে যান সুইডেন। লক্ষ্মীপুরের মেয়ে নাজমুন সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এশিয়ান স্টাডিজ বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন। পড়াশোনার ফাঁকে খণ্ডকালীন কাজও করতেন তখন। কয়েক মাসের জমানো টাকায় জাহাজে ভ্রমণ করেন ফিনল্যান্ড।

উচ্ছ্বসিত নাজমুন নাহার বলছিলেন, ‘১০০তম দেশ ভ্রমণ করতে পেরে আমি আনন্দিত। বিশ্বের ১০০ দেশে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো নিঃসন্দেহে যে কারও জন্য গর্বের ব্যাপার, আমারও তা-ই। জাম্বিয়ার লিভিংস্টোন শহরের গভর্নর আমাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন, তাই জিম্বাবুয়েতে বেশি সময় থাকতে পারিনি। ৫ জুন আবার জিম্বাবুয়ে ভ্রমণে যাব।’

শততম দেশ ভ্রমণের লক্ষ্যে সুইডেন থেকে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল গত ১১ মে। আফ্রিকান দেশ ইথিওপিয়া হয়ে কেনিয়ায়, উগান্ডা, রুয়ান্ডা, তানজানিয়া, জাম্বিয়া হয়ে ১ জুন পা রাখেন জিম্বাবুয়ের মাটিতে। পুরো ভ্রমণটি সড়কপথে করেছেন তিনি।

শততম দেশ জিম্বাবুয়েতে পা রেখেই নাজমুন নাহার অডিও বার্তার মাধ্যেমে গণমাধ্যমকে তার সাফল্যের কথা জানান।

তার সেই অডিও বার্তায় নাজমুন নাহার বলেন, এই মুহূর্ত শুধু আমার নয়, এই গৌরবময় মুহূর্তের অংশীদার বাংলাদেশের ষোল কোটি মানুষ, যারা একটি বাংলাদেশের স্বাধীন পতাকা পাওয়ার জন্য যুদ্ধ করেছেন, প্রাণ হারিয়েছেন। আজ এই মুহূর্তে আমি সেই সব শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কথা স্মরণ করছি।শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। একটি স্বাধীন দেশে আমার জন্য হয়েছে। একটি স্বাধীন দেশের পতাকা আমি পেয়েছি বলেই আজ শততম দেশে সেই গর্বিতময় পতাকা নিয়ে আমি পৌঁছাতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, ১ জুন, বাংলাদেশের পতাকা উড়লো একশতম দেশ জিম্বাবুয়েতে। পৃথিবীর বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের উপর যে ব্রিজটি রয়েছে, তা আমার শততম দেশের সাক্ষী হয়ে রইলো। পূর্ণ হলো আমার যাত্রার শততম ইতিহাস। হৃদয়ে বাংলাদেশে দুচোখে আমার একশতম দেশ দেখা পূর্ণ হলো।

শুধু দেশ ভ্রমণই নয়, বাঁধাহীন নাজমুন নাহার ‘ইনসপিরেশন গ্লোবাল ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। এর মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন স্কুল ও অনাথ আশ্রমে যান। বর্ণনা করেন নিজের ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা।

শততম দেশে প্রবেশের সময় তার সাথে জাম্বিয়ার গণমাধ্যমের বেশ কয়েকজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন। শততম দেশ ভ্রমনের কৃতিত্ব অর্জন করায় তার সাথে জিম্বাবুয়ে গিয়ে স্থানীয়দের নিয়ে নাজমুন নাহারকে স্বাগত জানান।

সম্প্রতি নাজমুন নাহার ইথিওপিয়া, কেনিয়া, উগান্ডা, রুয়ান্ডা, তাঞ্জানিয়া হয়ে জাম্বিয়া গিয়ে পৌছান। জাম্বিয়া থেকে তিনি জিম্বাবুয়ে পা দিয়ে শততম দেশ ভ্রমনের রেকর্ড গড়েন।

ad

পাঠকের মতামত