ঈদকে ঘিরে সক্রিয় ছিনতাইকারী চক্র!
ঈদকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ ছিনতাই চোর চক্র। এ জন্য তারা অবলম্বন করছে নতুন নতুন কৌশল। রমজানের শুরু থেকেই একের পর এক ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটছে নগরীতে। এতে করে আতংকে রয়েছেন নগরবাসী।
প্রতি বছর ঈদ এলেই প্রতারক চক্র, মলম পাটি, চোর ও ছিনতাই কারীদের দৌরাত্ম বেড়ে যায়। লঞ্চঘাট, বাসস্ট্যান্ড, রেলওয়ে, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষজনকে বিভিন্নভাবে ধোকা দিয়ে নগদ অর্থসহ, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল সেট অথবা প্রয়োজনীয় মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।
রাজধানীতে চুরি ছিনতাই বেড়েই চলেছে। দিনে দুপুরে বাসা বাড়ির দরজার তালা ভেঙ্গে দুদ্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটছে অহরহ অথচ পুলিশ নীরব। ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, রাজধানীর পাড়া-মহল্লায় দিনে কিংবা রাতে পুলিশের টহল নেই বললেই চলে। এ কারণেই দিন দিন চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টির তৎপরতা বেড়েইে চলেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার চিহ্নিত অপরাধীদের সঙ্গে পাশের জেলাগুলো থেকে আসা চোর, ছিনতাইকারী ও অজ্ঞানপার্টির সদস্যরা সক্রিয় রয়েছে। চুরি ও ডাকাতির জন্য মাসিক-দৈনিক মজুরিতে কিশোর-যুবকদের ভাড়া করছে অপরাধী চক্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুরো রাজধানীজুড়ে এরকম শতাধিক অপরাধী কাজ করছে। অপরাধ ঘটিয়ে তারা সহজেই ঢাকার বাইরে পালিয়ে যাচ্ছে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেছেন, আগের মতো পুলিশের টহল নেই বললেই চলে। কোনো ঘটনা ঘটলে খবর পেয়ে পুলিশ আসে। এ ছাড়া পুলিশ চোখে পড়ে না। অথচ পুলিশের দাবি, ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীতে পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, গত ঈদুল ফিতরের আগে বিশেষ অভিযানে শতাধিক ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ ও অজ্ঞানপার্টির সদস্য গ্রেফতার হয়। জনগণের নিরাপত্তায় নেয়া হয় ভিন্নধর্মী কৌশল। এবারও তা অব্যাহত রয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন।
তবে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো কাজ হচ্ছে না। প্রতিদিনই রাজধানীর অলিগলিতে চুরি, ছিনতাই-চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। কিন্তু সেগুলো সঠিকভাবে প্রকাশ পায় না। ছিনতাইকারীদের হাতে আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে ঘটনা প্রকাশ পায়। কিন্তু আহত করে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে কম। অস্ত্র ঠেকিয়ে বেশি ছিনতাই হয়। কখনও কখনও পরিচিত ব্যক্তির ভান করে থামিয়ে ছিনতাই হয়।
চুরি ও ছিনতাইয়ের শিকার বেশিরভাগ মানুষই হয়রানি ও ঝামেলার আশঙ্কায় মামলা করেন না। এতে করে চুরি ও ছিনতাইয়ের মামলা হয় কম। মামলা হলেও চুরি ও ছিনতাইকৃত টাকা উদ্ধার করতে পারে না পুলিশ। আবার কেউ কেউ মামলা করতে গেলেও থানা তা নেয় জিডি হিসেবে। এতে করে প্রকৃত ঘটনা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।
এদিকে ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, ‘রমজানে দোকান মালিক, ক্রেতা ও প্রশাসনের সমন্বিত নিরপত্তার কারণে রাজধানীতে কোন ধরণের চুরি, ছিনতাইয়ের সংবাদ আসেনি। সেহরি পর্যন্ত অনেকে স্বাচ্ছন্দে মার্কেটে কেনাকাটা করতে পারছে। কারণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক ভালো।’
অন্যদিকে, ছিনতাইয়ের পাশাপাশি ঈদ সামনে রেখে বেড়েছে চাঁদাবাজিও। পেশাদার অপরাধী থেকে শুরু করে মৌসুমি অপরাধী, রাজনৈতিক প্রভাবশালীরাও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়লেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।




