217812

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুমূর্ষ রোগীর চিকিৎসা করলেন না ডাক্তার

নিউজ ডেস্ক।। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ফাল্গুনী সাহা’র বিরুদ্ধে মুমূর্ষ রোগীর চিকিৎসা না করার অভিযোগ ওঠে। মুমূর্ষ রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার সময় রোগীর এক স্বজনের সাথে চিকিৎসকের শরীরের স্পর্শ লাগায় রোগীর চিকিৎসাই করেননি সেই চিকিৎসক। গতকাল ৩১মে (বৃহস্পতিবার) দুপুরে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এ অমানবিক ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহরের কাঞ্চননগর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের ছেলে সোহানকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখান থেকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার জন্য ট্রলিতে তোলা হয়। হাসপাতালে ভিড় থাকায় রোগীর এক স্বজন দ্রুত ট্রলি নিয়ে যাওয়ার জন্য সবাইকে সরিয়ে দেন। এসময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত ডা. ফাল্গুনী সাহার শরীরে রোগীর স্বজনের হাত স্পর্শ করায় তিনি চিৎকার শুরু করেন।

তিনি বলেন, এই রোগীর চিকিৎসা করা হবে না। এরা আমার গায়ে হাত দিয়েছে। ওই রোগী যদি মারা যায় যাক, তাতে আমার নামে মামলা হলেও কিছু আসে যায় না। ওকে কেউ চিকিৎসা করবে না।

এরপর ফাল্গুনী সাহা তার নিজের কক্ষে চলে যান। তবে, এরপর রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকদের কাছে বারবার ক্ষমা প্রার্থনা করলেও কেউ তার চিকিৎসা করেননি।

এ ব্যাপারে রোগীর স্বজনরা বলেন, দ্রুত ট্রলিটি অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা সবাইকে সরিয়ে দিচ্ছিলাম। এদের মধ্যে চিকিৎসক আছেন তা বোঝা যাচ্ছিল না। তার পরনে আলাদা কোনো পোশাকও ছিল না। এরপরও আমার ভুল হয়েছে বলে তার কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়েছি। তবুও তিনি চিকিৎসা করেন নি। পরবর্তীতে আমরা তাকে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. ফাল্গুনী সাহা বলেন, ‘যা করেছি তাহা ঠিক করেছি। আমাকে একজন রেপ করবে আর আপনারা তাকে কিছু বলবেন না।’

এই ঘটনা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আইয়ুব আলী বলেন, ‘আমি ঘটনাটা জানি না। একজন চিকিৎসক এমন করতে পারেন না। এটা কাম্য নয়। আমি বিষয়টা দেখছি।’

উল্লেখ্য, ফাল্গুনী সাহা’র বিরুদ্ধে এর আগেও রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করার অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়াও তিনি হাসপাতালে দায়িত্ব ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী দেখেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এমন কর্মকাণ্ডের শাস্তি দাবি করেছেন এলাকাবাসী। উৎস: সময় টিভি

ad

পাঠকের মতামত