এদের জীবন যেন গল্পকেও হার মানায়
জীবনের শুরুতেই দারিদ্রতা আর নানা অসঙ্গতির সঙ্গে নিত্য লড়াই যেন তাদের নিয়তি। তবে নানা প্রতিকুলতার সঙ্গে সংগ্রাম করেও জীবনে বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখে ওরা। ভাল ফলাফলে দুচোখ ভরা উচ্ছ্বাস থাকলেও শিক্ষার ব্যয় কীভাবে মিটবে সে দুশ্চিন্তাও তাড়া করে ফিরছে তাদের। তবে সব প্রতিবন্ধকতাকে মাড়িয়ে বড় হওয়ার চেষ্টা করছে ওরা।
এদের একজন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের চর সুভারকুটি গ্রামের সন্তান মো শাওন আহমেদ। বাবা ফারুক আহমেদ একজন আলসারের রুগী। গত দু’বছর ধরে তিনি অসুস্থ্য। শারিরীক দুর্বলতার কারণে কাজকর্ম করতে পারেন না তিনি। ২০ শতক বাড়িভিটা ছাড়া তাদের নিজস্ব জমি নেই। দুই ভাইবোনের সংসারে বাবা কর্মে অক্ষম হওয়ার পর মা ছালেহা বেগম ১৩ শতক জমি বন্ধক নেন। সেই জমিতে সবজি চাষ করে; তা বিক্রি করে চলে সংসারের চাকা। কখনো খেয়ে কখনো বা না খেয়ে দিন পার করতে হয়েছে তাদেরকে। বাবার অসুস্থ্যতার কারণে শাওনকেও বেচে নিতে হয় শ্রমের কাজ। এই বয়সে কখনো কাপড়ের দোকানে, কখনো মোটরসাইকেল সার্ভিসিং বা দিনমজুরী করে সংসারে বাবার ঔষধ আর মাকে সহযোগিতা করেছে। তার ফাঁকে ফাঁকে চলেছে পড়াশুনা। মেধার জোড়ে চলতি এসএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে বাবা-মায়ের চোখে আলোর দিশা হয়েছে সে। বর্তমানে মোটরসাইকেল সাভিসিং সহকারি হিসেবে কর্মে নিয়োজিত শাওনের নিজস্ব কোন ইচ্ছে নেই। সে শুধু চায় আরো পড়াশুনা করতে।
অন্যজনের নাম মজনু। চার ভাই, বাবা-মা আর দাদীকে নিয়ে মজনুদের ৭ জনের টানাটনির সংসার। বুকে সুপ্ত ইচ্ছে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার কিন্তু দিনমজুর পিতার পক্ষে স্কুলের লেখাপড়া চালানোটাই ছিল কষ্টকর। তারপরও নিজের অদম্য ইচ্ছের বোধহয় জয় হল। বিদ্যুৎবিহীন বাড়িতে হ্যারিকেনের আর ল্যাম্পের আলোয় চালিয়ে নিতে হয়েছে পড়াশুনা। কখনো কেরোসিনের অভাবে পড়াশুনা বন্ধ হয়ে গেছে। দিনমজুর বাবা সংসার টানতে না পারায় কলেজে পড়া বড় দুই ভাইসহ শ্রম দিতে হয়েছে মাঠে-ময়দানে। পরীক্ষার ফরম ফিলাপের টাকা দিনমজুরি করে জোগড় করেছে মজনু। শত বাঁধা-বিপত্তির মধ্যেও চলতি এসএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে সে। তার ইচ্ছে ভবিষ্যতে প্রভাষক হবার। কিন্তু শুরুতেই যাদের জীবন আটকে পরেছে অভাবের যাঁতাকলে। তাদের পক্ষে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়াটাই এখন কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।




