নকল করে শিক্ষক হওয়ার চেষ্টা!
নকল করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হওয়ার চেষ্টা করেছেন অনেকে। শুক্রবার অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ধরা পড়েছেন অন্তত ২০ জন। তাদের ১৪ জনই নারী। রাজধানীর তেজগাঁও, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে এমন খবর পাওয়া গেছে।
রাজধানী: তেজগাঁও কলেজ কেন্দ্রে প্রক্সি জালিয়াতি ও ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস ব্যবহারের অপরাধে চার পরীক্ষার্থীকে ঢাকা জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদ এলাহী। তিনি জানান, পরীক্ষা চলাকালে অন্যের হয়ে অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষা দিতে এসে মোবাইল কোর্টে হাতেনাতে ধরা পড়েন ঢাকা জেলার সুমাইয়া আক্তার ও কেয়া আক্তার। অপরদিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে লুকিয়ে মোবাইল ফোনসহ প্রবেশ করে এসএমএসের মাধ্যমে উত্তর সংগ্রহের সময় ধরা পড়েন বিথি আক্তার ও শারমিন আক্তার। প্রত্যেককে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ঢাকা জেলার মোট ১৪টি কেন্দ্রে ২৬০৮১ জন আবেদনকারীর জন্য এ পরীক্ষার আয়োজন করে ঢাকা জেলা প্রশাসন। ঢাকাসহ সারা দেশে মোট ২০টি জেলায় এ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
কুড়িগ্রাম: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় পাঁচটি কেন্দ্র থেকে আট পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় আটকদের কাছ থেকে সাতটি মোবাইল ফোন, সিম, একটি মাস্টার কার্ডসহ কানের একটি সুক্ষ্ম ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।
আটকরা হলেন- কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার সবুজ পাড়ার হায়দার আলী মেয়ে হাবিবা সুলতানা, হাসপাতাল পাড়ার ওয়াহেদ আলীর মেয়ে ওয়ারিন্নাহার, নাজিরা মুন্সি পাড়ার মকবুল হোসেনের মেয়ে মৌসুমী বেগম, নাজিরা কামার পাড়ার ফিকির উদ্দিন মজিবের ছেলে আব্দুর রহিম রাসেল, আব্দুল জলিলের দুই ভাই আব্দুল্লাহ আল ফারুক ও শিবলী নোমান, রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার এলাকার বদিউজ্জামানের মেয়ে ফাতেমা বেগম এবং চিলমারীর বহরের ভিটার জয়নাল আবেদীনের মেয়ে শাহানাজ খাতুন।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন জানান, প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে অসৎ উপায়ে পরীক্ষা দেয়ার অভিযোগে আটজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নীলফামারী: সৈয়দপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে আটজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে শহরের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন— দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার জিয়াউর রহমানের স্ত্রী আরিফা নাজনীন (২৬), নীরফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রণচণ্ডি ইউনিয়নের রণচণ্ডি এলাকার আরেফুজ্জামানের স্ত্রী লালভী আক্তার (২৪), একই উপজেলার বালাপাড়া এলাকার প্রমোদ চন্দ্র রায়ের কন্যা পলি রায় (২৬), আকাশকুড়ি এলাকার আবুল কালাম আজাদের কন্যা তাহিরা পারভীন(২৪), কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মুশা এলাকার সুমনের স্ত্রী উম্মে হাবিবা (২৪), বাজে ডুমুরিয়া এলাকার ইয়াছিন আলীর পুত্র মিজান আহমেদ (২৮), ডিমলা উপজেলার নাউতারা এলাকার আবুজার রহমানের পুত্র আরাফাত সিদ্দিক (২৯) ও নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী এলাকার আতিয়ার রহমানের পুত্র সৈয়দপুর লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক আলমগীর হোসেন (২৯)।
আটকদের মধ্যে ক্যান্টপাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ৪জন, লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ১জন, পাইলট বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রে ১জন, সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ১জন ও সৈয়দপুর সরকারি কারিগরি মহাবিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ১জন রয়েছেন।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বজলুর রশীদ জানান, পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ভেতর তারা ইলিকট্রিক ডিভাইস ব্যবহার করছিলেন। যা পরীক্ষার হলে আনা নিষিদ্ধ।
তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান ইউএনও।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) অশোক কুমার পাল বলেন, অভিযোগ পেলে আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আটকদের থানায় রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী মনিটরিং অফিসার হাসান তারিক জানান, নীলফামারী জেলার দুই উপজেলার ২৭টি কেন্দ্রে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে নীলফামারী সদরে ১৪টি এবং সৈয়দপুরে ১৩টি কেন্দ্র ছিলো।
২২ হাজার ৮০৬ জন চাকরি প্রত্যাশী আবেদন করেছিলেন পরীক্ষার জন্য। তিনি জানান, শুক্রবার সকাল দশটা থেকে সকাল ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।




