213676

সরকারের ৪ পদক্ষেপ ব্লু হোয়েল বন্ধে





নিউজ ডেস্ক।। ‘ব্লু হোয়েল’সহ আত্মহত্যার দিকে ধাবিত করা ইন্টারনেটভিত্তিক সব খেলার গেটওয়ের লিংক ও অ্যাপলিকেশন বন্ধে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যবস্থা নিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে পদক্ষেপ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।

এতে সরকারের পক্ষ থেকে চারটি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো;

১. হাইকোর্টের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মোবাইল ও অনলাইনে ক্ষতিকর গেমস বন্ধ করার জন্য বিটিআরসির লাইসেন্সপ্রাপ্ত সব ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) এবং সেলুলার মোবাইল ফোন অপারেটরদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

২. অনলাইনভিত্তিক আত্মঘাতী/সংঘাতমূলক/রাষ্ট্র ও সমাজবিরোধী ওয়েবসাইট ও গেমসমূহের ব্যবহার সীমিত করতে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্য‌ন্ত রাত ১২টা থেকে ভোর ছয়টা পর্যন্ত নতুন ও চলমান সব প্রমোশনাল ইন্টারনেট/ডাটা অফার বন্ধ রাখার জন্য সব মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

৩. কতিপয় ক্ষতিকর অনলাইন গেমস, অ্যাপলিকেশন্স, ওয়েবসাইটের নাম উল্লেখপূর্বক তা বন্ধ করার জন্য সব আইআইজিকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এগুলো ছাড়াও অন্য কোনো ক্ষতিকর অনলাইন গেমস, অ্যাপলিকেশন্স, ওয়েবসাইট পাওয়া গেলে পরবর্তী নির্দেশনার জন্য বিটিআরসিকে অবহিত করতেও জানানো হয়।

৪. ক্ষতিকর এসবের বিষয়ে জনসচেতনতায় স্ক্রলে প্রচারের জন্য সব টিভিকে অনুরোধ করা হয়।

প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত আদেশ দিয়ে বলেছেন, ক্ষতিকর এ ধরনের খেলাগুলোতে আসক্তদের কাউন্সেলিং এবং তদন্তের বিষয়ে আগামী ২৬ মে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে হবে। পরের দিন ২৭ মে এ বিষয়ে আদেশের জন্য মামলাটি কার্যতালিকায় থাকবে।




আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। আর রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী হুমায়ুন কবির।

আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের কমিটি করা হয়। তবে কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিবের নির্দেশে পুলিশ সদর দফতর, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স মনিটরিং সেন্টার এবং বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে কো-আপ্ট করা হয়।

কমিটির প্রথম সভা ১৪ মার্চ এবং দ্বিতীয় সভা ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিচালিত ক্ষতিকর মোবাইল/অনলাইন গেমস সংক্রান্ত বিশদ পর্যালোচনা করা হয়।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডার্ক ওয়েব/ডিপ ওয়েব এ এসব ক্ষতিকর, আত্মঘাতীমূলক অনলাইন গেমস খেলার জন্য ক্রিপটো কারেন্সি বা বিট কয়েনের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করতে হয়, যা ছাত্রছাত্রী বা সাধারণ জনগণের জন্য দুরূহ।

হলিক্রস স্কুলের ছাত্রী স্বর্ণার আত্মহত্যার কারণ হিসেবে ক্ষতিকর অনলাইন গেমসের সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা সে বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় যোগাযোগ করা হয়। এ বিষয়ে থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জানান, সুরতহাল অনুযায়ী ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রতীয়মান হলেও এ সংক্রান্ত ক্ষতিকর অনলাইন গেমসের কোনো সংশ্লিষ্টতা পরিলক্ষিত হয়নি।

এ কমিটির সদস্য সচিব বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তফা কামাল ক্ষতিকর মোবাইল বা অনলাইন গেমস প্রতিরোধে বিটিআরসির গৃহীত পদক্ষেপসমূহ কমিটির সদস্যদের অবহিত করেন।




আলোচনা শেষে কমিটির সিদ্ধান্তগুলো হলো- ভবিষ্যতে এরূপ ক্ষতিকর অনলাইন/মোবাইল গেমসের আবির্ভাব পরিলক্ষিত হলে এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিটিআরসি প্রয়োজনীয় প্রচারণা চালাবে।

ক্ষতিকর অনলাইন/মোবাইল গেমসের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংগ্রহ ও মনিটরিংয়ের জন্য ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে বিটিআরসি যৌথভাবে কাজ করবে।

মোবাইলে ব্লু হোয়েলের মরণনেশার ফাঁদে পড়ে রাজধানীর হলিক্রস স্কুলের অষ্টম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণার (১৩) আত্মহত্যার খবর প্রকাশের পর তার বাবা অ্যাডভোকেট সুব্রত বর্ধনসহ তিন আইনজীবী গতবছর রিট করেন।

রিটের পর ডেথ গেম হিসেবে পরিচিত ব্লু হোয়েল গেমসহ আত্মহত্যায় প্ররোচণাকারী এ জাতীয় সব গেমের গেটওয়ের লিংক ও অ্যাপলিকেশন বন্ধে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সূত্র : পরিবর্তন

ad

পাঠকের মতামত