213420

‘ছেলে সেজে এসে মেয়েটার জীবন নষ্ট করে গেল’





ডেস্ক রিপোর্ট।। পিরোজপুর সদর উপজেলার আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এবং স্থানীয় শারিকতলা-ডুমরিতলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, তিন সন্তানের জনক মিজানুর রহমান ওরফে মিজান মল্লিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। যদিও অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মিজান।

এ বিষয়ে গত ২৩ মার্চ বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণ আইনে মামলা করেন মেয়েটি। মামলার পর থেকেই আসামি পক্ষের হুমকিতে ভুক্তভোগীর কলেজে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পিরোজপুর জেলা সদরের বৌদ্ধপাড়ার নির্যাতিত মেয়েটি শৈশবেই পিতৃহারা হন। পড়াশোনা ছাড়াও অ্যাথলেটিক্স এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য পারদর্শিতার জন্য অনেকেরই মনোযোগ আকৃষ্ট করতে সক্ষম হন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যেই স্বীকৃতিস্বরূপ অর্জন করেন মেডেল, সনদপত্রসহ অসংখ্য পুরস্কার। মেয়ের এসব গুণাবলির জন্য ছায়া হয়ে পাশে দাঁড়ান মা।

২০১২ সালে দৌড়ে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। একই বছর দ্বাদশ জাতীয় যুব রেড ক্রিসেন্ট ক্যাম্প থেকে কন্টিনজেন্ট কমান্ডার হিসেবে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন তিনি। পরে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রমিলা ক্রিকেট টিমের উইকেটকিপার হিসেবে। এ ছাড়া কোর্সেস ট্রেনিং সম্পন্ন করেন ঢাকা ক্রিকেট বোর্ডের তত্ত্বাবধানে। জেলা রোভার স্কাউটের অন্যতম সদস্য তিনি। জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির রক্ত বিভাগের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও স্থানীয় একটি পত্রিকায় শিক্ষানবিশ সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন। নিয়েছেন পিআইবি থেকে প্রশিক্ষণও।

অভিযোগ উঠেছে, বাবা না থাকায় পরিবারটির অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ভাই সেজে মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে ফাঁদ পাতেন মিজানুর রহমান। পরবর্তী সময়ে সাজানো বিয়ের ফাঁদে পড়ে মেয়েটি। ঘটনার এখানেই শেষ নয়। বর্তমানে মেয়েটি ও তার মা রয়েছেন অনবরত হুমকির মুখে। কখনো মুঠোফোনে, কখনো অপরিচিত লোক পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি। অভিযুক্ত মিজান সদর উপজেলার সাহেব আলী মল্লিকের ছেলে।




মেয়েটির অভিযোগ, নানা প্রলোভন দেখিয়ে মাকে না জানিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শহরের বলাকা ক্লাব সড়কের একটি বাসায় বিয়ের করেন তারা। কিন্তু বিয়ের কাজি ও কাবিননামা যে জাল তা টের পাননি তিনি। পরে তাকে নিয়ে ঢাকা, কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে রাত্রি যাপন করেন মিজান।

সম্প্রতি মিজানের প্রথম পক্ষের স্ত্রী ঘটনাটি জানতে পেরে মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে তার ওপর হামলা এবং বেধড়ক মারধর করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয় পিরোজপুর সদর হাসপাতালে।

এ বিষয়ে মেয়েটি প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমি এখন মিজানের হুমকির মুখে আছি। ওর ভয়ে কোনো কাজও করতে পারছি না। আমি মিজানের উপযুক্ত শাস্তি চাই। কেন সে এত বড় ক্ষতি করে দিল আমার! এখন আত্মহত্যা ছাড়া আমার সামনে তো আর কোনো পথ খোলা নাই।’

মেয়েটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মা-মেয়ে একসাথে বিষ খেয়ে মরতে মন চায়। ছেলে সেজে এসে আমার মেয়েটার জীবন নষ্ট করে গেল। আমরা কি ন্যায়বিচার পাব না?’

ঘটনার বিষয়ে সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রিয়.কমকে বলেন, ‘গত বছর সে (মেয়েটি) কলেজ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। বিএসসি তৃতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন পরিণতি মেনে নেয়া যায় না।’

মিজান মল্লিকের বিষয়ে এলাকার একাধিক ব্যক্তির দাবি, মিজান এর আগেও অনেক নারীকে উত্ত্যক্ত করেছে। এর মধ্যে এক গৃহবধূ ওই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

শারিকতলা ইউনিয়ন পরিষদের অন্য এক ইউপি সদস্য নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, ‘মিজানের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করলে অস্ত্র ও মাদকসহ নানা অপকর্মের সন্ধান পাবে।’




তিনি আরও বলেন, ‘এমপি আউয়ালের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে পঞ্চম শ্রেণি পাস এই বেয়াদবটি উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকের পদ পায়। এর পর থেকেই কুকর্মে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এমপির লোক পরিচয়ে যা খুশি তা-ই করতে শুরু করে।’

শারিকতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম রাজু বলেন, ‘আমার ইউনিয়ন পরিষদ এ ঘটনায় কলঙ্কিত হয়েছে। মিজান যদি সত্যি এই অপকর্ম করে, তাহলে আমিও চাই মেয়েটি ন্যায়বিচার পাক।’

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জেল হোসেন স্বপন মল্লিক বলেন, ‘আমি মেয়েটিকে চিনি। সে অত্যন্ত ভালো। কিন্তু মিজান মল্লিক যে এসব কাজে জড়িত, তা আগে জানা ছিল না। মিজানের ব্যাপারে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মিজান মল্লিককে মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘এসব মিথ্যা।’ এ সময় সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই তিনি লাইনটি কেটে দেন।

পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম জিয়াউল হক প্রিয়.কমকে বলেন, ‘মেয়েটির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে আসামি গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ সূত্র : প্রিয়

ad

পাঠকের মতামত