রুমমেটের বোনের সঙ্গে প্রেমের দ্বন্দ্বেই ছাত্রাবাসে খুনোখুনি!
![]()
![]()
![]()
![]()
ডেস্ক রিপোর্ট।। ভোরের নীরব নগরীতে সূর্যের আলো পুরোপুরি ফুটে ওঠেনি তখনো। প্রাতঃভ্রমণকারী কিছু মানুষ বিভিন্ন রাস্তার ধার ঘেষে হাঁটছেন। মাঝে মাঝে রিকশার টুংটাং শব্দ আর পাখির ডাক। এ সব কিছু ছাপিয়ে হঠাৎই গুলির শব্দে আঁৎকে উঠে কুমিল্লা মহানগরীর রেইসকোর্সের মফিজ উদ্দিন সড়ক এলাকার বাসিন্দারা। শোর-চিৎকার ভেসে আসে ‘বিএইচ ভূইয়া হাউজের’ ছাত্রাবাস থেকে। ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায় একজনকে গলা কেটে হত্যার পর আরেকজনকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তের দল। প্রণয়ঘটিত দ্বন্দ্বের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে বলে ধারণা পুলিশের। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
তিনতলা বিশিষ্ট ‘বিএইচ ভূইয়া হাউজের’ নিচতলাটিকে ছাত্রাবাস হিসেবে ভাড়া দিয়েছেন বাড়ির মালিক কিরণময় ভৌমিক আর হিরণময় ভৌমিক নামের দুই ভাই।
কুমিল্লা সরকারি কলেজে পড়ুয়া হিন্দু ধর্মাবলম্বী ৬ শিক্ষার্থী সেখানে থাকতেন। তাদেরই একজন সাগর দত্ত। যার গলাকাটা রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়েছিলো ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে। অপরজন সজিব। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাণ বাঁচানোর আর্তনাদ করছিলেন তিনি।
ভোর ৬টায় এ ঘটনা ঘটার ২ ঘণ্টা পর সকাল ৮টায় দুজনকে উদ্ধার করে পুলিশ। গুলিবিদ্ধ সজিবকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। আর নিহত সাগর দত্তের লাশ উদ্ধার করে কুমেক মর্গে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত সাগর দত্ত কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার চিরাল্লা গ্রামের শংকর দত্তের ছেলে। গুলিবিদ্ধ সজিব ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর এলাকার উজানচর গ্রামের রাখাল সাহার ছেলে।
প্রণয়ঘটিত দ্বন্দ্বের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভির সালেহীন ইমন পরিবর্তন ডটকমকে জানিয়েছেন, ছাত্রাবাসের এক সদস্যের বোনের সঙ্গে অপর এক সদস্যের প্রেম সংক্রান্ত বিষয়ে মঙ্গলবার রাতে কথা কাটাকাটি হয় বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। আর এ ঘটনার জের ধরেই খুনোখুনি হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।\
![]()
![]()
![]()
![]()
তিনি বলেন. হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছি। নিহত সাগরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং গুলিবিদ্ধ সজিবকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও ছুরি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) সদস্যরা অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছেন বলে জানা যায়।
তদন্ত শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও দোষীদের গ্রেফতার সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তানভীর সালেহীন ইমন।
প্রণয়দ্বন্দ্বের কারণে আমনটি হতে পারে বলে একই ধারণা পোষণ করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সালাম মিয়াও। তবে লাশের ময়নাতদন্ত আর ঘনটার পুলিশি তদন্তের পরই আসল কারণ জানা যাবে বলে জানালেন পুলিশের এ দুই কর্মকর্তা।
জানা গেছে, কুমিল্লা মহানগরীর রেইসকোর্স এলাকার মফিজ উদ্দিন সড়কের তিনতলা এই বাড়িটির মালিক কিরণময় ভৌমিক আর হিরণময় ভৌমিক নামে দুই ভাই। তারা তিনতালায় থাকেন। বাড়ির নিচতলার ফ্ল্যাটে তিন রুমে ছয় ছাত্র মেস করে থাকতেন।
হিরণময়ের স্ত্রী শেফালী ভৌমিক জানিয়েছেন, ‘সকালে হাঁটতে বের হবার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে নিচতলায় কোলাহল শুনতে পাই।’ তার দাবি, তিনি কিংবা পরিবারের অন্য কেউ গুলির শব্দ পাননি।
‘আহত সজীবের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে এবং পুলিশে খবর দেয়’ বলে জানান তিনি।
সূত্র : পরিবর্তন




