‘এনির সঙ্গে প্রেম করার মজা দেখ’
চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা এলাকার গুডস হিলের সামনে ২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রেম ঘটিত কারণে এসিড হামলার শিকার হন তমাল চন্দ্র দে নামক এক ছাত্র। তিনি পটিয়া উপজেলার কেলিশহর এলাকার বাবুল চন্দ্র দে’র ছেলে। এই এসিড হামলার ঘটনায় তমাল চন্দ্র দে’র দুটি চোখ একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী তমালের পরিবার এসিড হামলার পর মামলা করে।
অবশেষে এই এসিড হামলা মামলায় নমিতা (২৫) ও সুমিত দাশ (৩২ ) নামে এক দম্পতিকে ঢাকার ভাটারা থেকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শুক্রবার (৩০ মার্চ) রাত ১১টার দিকে রাজধানী ঢাকার ভাটারা এলাকা তাদের গ্রেফতার করা হয়।
চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মো: শওকত আলী গণমাধ্যমকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, তমাল চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে মাস্টার্সের ছাত্র।
প্রসঙ্গত, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে এনি সঙ্গে তমালের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু কিছু দিন পর তমাল জানতে পারে এনি বিবাহিত। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তমাল তাকে চড় মেরে সম্পর্ক ছিন্ন করে। এনি এর প্রতিশোধ নিতে গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে তমালকে ফেসবুকের মাধ্যমে চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জ এলাকায় ডেকে নিয়ে যায়। এরপর স্বামী সুমিত ও এনি তমালের মুখে এসিড ছুড়ে মারে।
পরে স্থানীয়রা এসিড দগ্ধ তমালকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করে।
চমেক বার্ন ইউনিটে চিকিৎসার পর তমালকে ভারতে নিয়ে যায় তার পরিবার। কিন্তু এসিডের কারণে তার দুই চোখই গলে যাওয়ায় তমালের দুটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।
এর আগে, ২০১৭ সালের ৫ মে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসিড হামলায় দুটি চোখ হারানো তমাল সাংবাদিকদের জানান, আমাকে ডেকে নিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এসিড ছোড়া হয়েছিল। আমি দু’জনকে দেখেছিলাম। তারা অদ্ভুতভাবে আমার দিকে তাকিয়েছিল। এরপর আরেকজন যুবক গরম কিছু আমার মুখে নিক্ষেপ করে। ঝাপসা চোখে দেখেছিলাম পরনে চেক শার্ট, গড়ন এনির স্বামী সুমিতের মতো। আমি অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে যখন পানি পানি চিৎকার করছিলাম তখন একজন যুবক বলছিল- ‘এনির সঙ্গে প্রেম করার মজা দেখ।’
তমালের মা অর্চনা রাণী দে ওই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমার ভাসুরের (স্বামীর বড় ভাই) মেয়ের বিয়েতে যাওয়ার পর তমালের সঙ্গে এনির আলাপ-পরিচয় হয়। ওরা ৩-৪ মাস একসঙ্গে ঘোরাফেরা করে। কিন্তু তারও ৫ বছর আগে থেকে আরেকটি ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল মেয়েটির।
অর্চনা রাণী দে আরো বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে তমালের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছিল তার। পরে তমাল রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তাকে থাপ্পড় মেরেছিল। সেই থাপ্পড়ের জবাব তারা দিয়েছে এসিড মেরে! এই এসিড হামলায় আমার ছেলে তার দুটি চোখ হারিয়েছে। পুরোপুরি ভাবে চোখ দুটি নষ্ট হয়ে গেছে।




