গুহাটির ভেতরে জমে আছে হাজার হাজার বছরের রহস্য!
![]()
![]()
![]()
![]()
কেউ বাস করে না সেই দ্বীপে। উত্তাল সমুদ্রের নীল জলে দাঁড়িয়ে থাকে মূর্তিমান বিস্ময়। নাবিকেরা তাকে দেখছে হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে। এক সময়ে ‘সমুদ্র নেকড়ে’ ভাইকিংরা এই দ্বীপের নাম রেখেছিল ‘ফিংগাল’স কেভ’।
এ দ্বীপের ভুতুড়ে চেহারা তাদের মতো সাহসীদেরও ভয় দেখিয়েছে। সে কারণে এমন একটা লোভনীয় গুহা পেয়েও সেখানে আড্ডা দেয়নি উত্তর ইউরোপের জলদস্যুরা। লুকিয়ে রাখেনি কোনো গুপ্তধন।
স্কটল্যান্ডের আওতায় উত্তর সাগরের এই দ্বীপটি স্টাফা নামের এক দ্বীপভূমিরই একটি দ্বীপ ‘ফিংগাল’স কেভ’। স্টাফা ও তার আশপাশের দ্বীপের বৈশিষ্ট্য আশ্চর্য রকমের। ‘ফিংগাল’স কেভ’-এর ভেতরে প্রকৃতির আশ্চর্য খেয়ালে তৈরি হয়েছে অগণিত খিলান।
ভূতত্ত্ববিদরা জানান, আজ থেকে প্রায় ৬০ মিলিয়ন বছর আগে লাভাস্রোতের ফলে এই গুহা সৃষ্টি। গলিত পাথর খড়িমাটির উপর দিয়ে যাওয়ার সময়েই এই বিশেষ আকৃতি প্রাপ্ত হয়েছে।
আয়ারল্যান্ডের ‘জায়ান্ট’স কজওয়ে’ নামের এলাকাটিও একই রকমের। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, এই দুই প্রাকৃতিক বিস্ময়ের মধ্যে যোগসূত্র বিদ্যমান।
একই লাভাস্রোত থেকে এই দুই বিস্ময়ের জন্ম হয়। শুধু তাই নয়, এই দুই বিস্ময় নাকি এক সময় পরস্পরের সঙ্গে একটি সেতু দ্বারা সংযুক্ত ছিল, পরে তা নষ্ট হয়ে যায়।
প্রাচীন আইরিশরা এই ব্যাখ্যা জানতো না। তারা বিশ্বাস করতো, এই সেতু কোনো দানবের তৈরি। ‘ফিংগাল’স কেভ’-কেও তারা দানবের আস্তানা বলে চিহ্নিত করতো।
১৯ শতকের জার্মান ধ্রুপদী সঙ্গীত রচয়িতা ফেলিক্স মেন্ডেলসন তার বিখ্যাত কম্পোজিন ‘হেব্রিড’স ওভারচার’ রচনা করেন এই গুহার ভেতরে ঘুরপাকরত বাতাসের শব্দকে কল্পনা করে।
ব্রিটিশ রোম্যান্টিক চিত্রকর টার্নার এই গুহাকে নিয়ে তৈলচিত্র এঁকেছেন। পরে এই গুহা ব্রিটিশ রক গ্রুপ ‘পিঙ্ক ফ্লয়েড’-এরও প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল।




