211009

নিজের ‘খুন হওয়ার’ ভিডিও ছড়িয়েও লাভ হল না

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ক্রিকেট নিয়ে বাজিতে হেরে দেড় লাখ টাকা না দেওয়ার চেষ্টায় নিজের খুন হওয়ার নাটক সাজিয়ে সেই ভিডিও ছড়িয়েছিলেন এক যুবক, কিন্তু পুলিশের হাত থেকে তিনি বাঁচতে পারলেন না।

ফরিদপুরের সদরপুর থানা পুলিশ শনিবার রাতে আদেল শিকদার নামের ২৫ বছর বয়সী ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে।

তার আগে তেজগাঁও বেগুনবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ইমরান নামে (২৪) তার এক সহযোগীকে, যিনি এফডিসিতে মেইকআপ ম্যানের কাজ করেন।

পুলিশ জানায়, শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশ বনাম ভারত ম্যাচ নিয়ে জুয়ায় দেড় লাখ টাকা হেরে যান আদেল।

ওই টাকা যাতে না দিতে হয় সেজন্য নিজের খুন হওয়ার নাটক সাজান তিনি। তা ভিডিও করে ইমোর মাধ্যমে পাঠিয়ে দেন পাওনাদার আর নিজের পরিবারের কাছে।

বিষয়টি আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে নিজের ফোন বন্ধ রেখে তিনি কণ্ঠস্বর বদলে অন্য ফোন থেকে ছোট ভাই সাইদুলকে কল করে বলেন, আদেলের লাশ পাওয়া যাবে চট্টগ্রামে।

কিন্তু ওই খবরে আদেলের ভাই সাইদুল ও তাদের এক চাচাত ভাই শুক্রবার ফরিদপুর থেকে ঢাকায় পুলিশকে বিষয়টি জানান।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চাল থানার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান সরদার বলেন, স্বজনরা প্রথমে যাত্রাবাড়ী থানায় গিয়েছিলেন। পরে বোঝা যায় ঘটনা তেজগাঁও অঞ্চলের।

“ভিডিওটি দেখার পর শনিবার দুপুরে ইমরান নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। ইমরান এফডিসিতে মেইকআপ ম্যানের কাজ করে। আদেলকে খুনের কারণ জানতে চাইলে সে বলে, ‘স্যার, ওকেতো খুন করা হয়নি। ওইটা শুটিং করা হয়েছে। ওই শুটিং এর জন্য আদেল আমাদেরকে দুই হাজার টাকা দেবে।”

ইমরান পুলিশকে বলেন, আদেলের এক ‘বস’ নাকি ওইরকম ভিডিও চেয়েছেন। সেজন্যই সে তা বানিয়েছে।

কামরুজ্জামান বলেন, “আমরা বহুবার তার কাছে জানতে চেয়েছি আদেলের লাশ কোথায়। কিন্তু ইমরান প্রতিবারই একই কথা বলেছে। শনিবার সকালেও নাকি আদেল এফডিসিতে তার সাথে ছিল।”

ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আদেলের ভাইদের ফরিদপুরে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। আদেল বাড়ি ফিরলে তা পুলিশকে জানাতে বলা হয়।

শনিবার রাতেই আদেল ফরিদপুরে তাদের বাড়িতে ফিরলে সদরপুর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে রোববার ঢাকায় নিয়ে আসে।

আদেল পুলিশকে বলেন, ক্রিকেট খেলা নিয়ে প্রকাশ নামে একজনের সঙ্গে বাজি ধরে তিনি দেড় লাখ টাকা হেরে যান। সেই টাকা যাতে না দিতে হয়, সেজন্যই ভিডিও বানানোর ফন্দি করেছিলেন। বিষয়টি এত ‘সিরিয়াস’ হয়ে যাবে তা তিনি বুঝতে পারেননি।

ওই ভিডিওতে মোট চারজন ছিল। সেখানে দেখা যায়, সংকীর্ণ একটি টিনের ঘরে আদেলকে হাত-পা বেঁধে ছুরি দিয়ে গলা কাটা হয়। রক্তে ভেসে যাওয়া গলা আর ক্ষতিচিহ্নও দেখানো হয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। গলা কাটার সময়টায় পিঠ দিয়ে ক্যামেরা আড়াল করা হয়। পরে গলায় রুহ আফজা ঢেলে তা রক্ত হিসেবে দেখানো হয়।

জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বলেন, “আদেল একজন পেশাদার চোর। সে গ্রামের বাড়িতেও এক স্বর্ণকারের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে আমরা খবর পেয়েছি।”

ভিডিওটি ফেসবুকে কীভাবে ভাইরাল হল জানতে চাইলে কামরুজ্জামান বলেন, “ইমোর মাধ্যমে আদেল তার ছোট ভাই সাইদুল ও প্রকাশকে ওই ভিডিও পাঠায়। যেহেতু আমরা আসল ঘটনা বুঝতে ব্যস্ত ছিলাম, এর মধ্যে সাইদুল বা প্রকাশ হয়ত তা ফেসবুকে দিয়েছে। পরে তা ভাইরাল হয়েছে।”

এ প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ইমরান পূর্ব পরিচিত হওয়ায় তার মাধ্যমে ওই ভিডিওটি ধারণ করার ব্যবস্থা করেন আদেল।

“প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনে হয়েছে, আদেলের উদ্দেশ্য ইমরান বুঝতে পারেনি। যেহেতু মেইকআপ আর শুটিং তার পেশা, তাই এটা করেছে টাকার জন্য।”

তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান কামরুজ্জামান। সূত্র : বিডিনিউজ

ad

পাঠকের মতামত