টাইগারদের গায়ে যেন এ কলঙ্কের দাগ না লাগে!
জন্মলগ্ন থেকে যত রকমের ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে বাইশ গজ, বল বিকৃতি তাদের মধ্যে অন্যতম। বল বিকৃতি বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে এক আলোচিত ঘটনা। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টের তৃতীয় দিনে বল টেম্পারিংয়ের ঘটনায় তোলপাড় ক্রিকেট দুনিয়া। যা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীসহ সে দেশের বড় বড় তারকাদের।
স্টিভ স্মিথ স্বীকার করেছেন, তাদের কারণে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্মিথদের এমন আচরণে হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রীও। অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্মিথকে নিষিদ্ধ করা উচিৎ। গিলক্রিস্ট তার উত্তরসূরিদের এমন আচরণে অপমানিত বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন। এ থেকেই বোঝা যায়, কতটা নিন্দা আর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে পুরো ব্যাপারটি।
তবে বাইশ গজে বল বিকৃতির ঘটনা এই প্রথম নয়। আগেও বহুবার বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটাররা বল বিকৃতির সঙ্গে জড়িয়ে শাস্তি ভোগ করেছেন।কাকতালীয়ভাবে প্রথমবার টিভি ক্যামেররা মাধ্যমে বল বিকৃতির ঘটনা সামনে এসেছিল প্রোটিয়াদের একটি ম্যাচেই। ১৯৯৪ সালে লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম ইংল্যান্ডের ম্যাচে ইংরেজ অধিনায়ক মাইকেল আথারটনের বিরুদ্ধে বল বিকৃতির অভিযোগ সামনে আসে। বির্তকটি ‘ডার্ট ইন পকেট’ নামে পরিচিত। সেবারেও টিভি ক্যামেরায় দৌলতে বিষয়টি সামনে এসেছিল। এরপর ভারতের শচীন, দ্রাবিড়। পাকিস্তানের ওয়াকার ইউনুস, আজাহার মাহমুদ ও আফ্রিদী অন্যতম। তবে গর্বের বিষয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কখনোই বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারের বিপক্ষে বল বিকৃতি করে অন্যায় সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ ওঠেনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এখনো পর্যন্ত ‘সৎ’ থাকলেও ভাবনাটা ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়ে। তবে ঘরোয়া ক্রিকেট কোনো বিকৃতি ঘটে কিনা সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। এর মূল কারণ, ঘরোয়া ক্রিকেটে সঠিক মাত্রায় সতর্কতা অবলম্বনের ঘাটতি। সেখানে যদি বল বিকৃতি হয়ে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমনটি ঘটে যেতে কতক্ষণ!
ক্রিকেটের ‘ঘৃণিত’ এই বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সতর্ক আছে বলেই জানিয়েছেন জালাল ইউনুস। বিসিবির এই পরিচালক অবশ্য স্বীকার করেছেন, বল বিকৃতি ধরাটা যথেষ্ট কঠিন কাজ, ‘বল বিকৃতি ধরতে অনেক ক্যামেরার প্রয়োজন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্যামেরা থাকে না।’ তবে জালাল ইউনুস আশ্বস্ত করেছেন এ ব্যাপারে আম্পায়ারদের ভূমিকা নিয়ে, ‘আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে আম্পায়াররা খুবই সতর্ক থাকে। কেউ যেন বল বিকৃতি করতে না পারে, সে ব্যাপারে। সব সময়ই বল পরীক্ষা করেন। ব্যাটসম্যানদের অভিযোগ আমলে নেন।’
ক্রিকেট বিশ্বে ধীরে ধীরে বড় জায়গা করে নিচ্ছে বাংলাদেশ। সে কারণেই সতর্ক থাকাটা খুবই জরুরি। ব্যানক্রফট-স্মিথদের ঘটনা আমাদের নতুন করে সজাগ করে তুলুক।




