কার পরামর্শে খালেদা জিয়ার মামলার পরামর্শক লর্ড কার্লাইল?
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ তাকে চেনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কঠোর সমালোচক হিসেবে। পাশাপাশি জামায়াতের লবিষ্ট হিসেবে রয়েছে তার ব্যাপক পরিচিতি। সাধারণ মানুষ বলতে বুঝাচ্ছি যারা আওয়ামী লীগ বা বিএনপি করে না। ভোটের সময় গিয়ে ভোট দেয় পছন্দের প্রার্থী পেলে, না পেলে চুপচাপ থাকে। নিরব পর্যটকের মত নির্বাচন দেখে।
যারা দেশের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলে তাদেরকে মনেপ্রাণে ভালোবাসে, এমন মানুষেরাই ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড আলেকজান্ডার চার্লস কার্লাইলের প্রতি মনে মনে ঘৃণা পোষণ করে। সেই মানুষটি যখন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে থাকেন তখন সেই সাধারণ মানুষগুলো কিছুটা নড়েচড়ে বসবেই। যেহেতু আগামী বছরের শুরুতে একাদশ সংসদ নির্বাচন। আর এই নির্বাচন সুষ্ঠু হলে বিএনপির ক্ষমতায় যাবার একটা সুযোগ আছে, এটা আওয়ামী ঘরানার অনেক মানুষেরও মনের কথা।
বেগম খালেদা জিয়া জেলখানায় বন্দী থাকার পর থেকে সেই সুযোগের বিষয়টা আরো ঘনীভুত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছে একটা ‘সফট কর্নার’ তৈরি হচ্ছিল বিএনপির প্রতি। একজন বয়স্ক নারী আর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এই জেলজীবনের বিষয়টি অনেকের কাছেই স্বাভাবিক না। শুধু রাজনৈতিক ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছিলেন সাধারণ মানুষ। আবার বলছি, এই সাধারণ মানুষ- আওয়ামী লীগ করে না, এই সাধারণ মানুষ বিএনপি করে না।
কিন্তু কার্লাইলকে খালেদা জিয়ার মামলার পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি সবকিছু যেন উলটপালট করে দিল। বৈশাখ মাস আসার আগেই যেন কালবৈশাখী ঝড়ে অনেক হিসেব গোলমেলে হয়ে গেল। শুধু যে সাধারণ মানুষের মনে বিষয়টি রেখাপাত করেছে, তাও না। খোদ বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর মনেও বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এমনকি বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যেও সমালোচনার ঝড় বইছে গোপনে।
কে এই লর্ড আলেকজান্ডার চার্লস কার্লাইল? যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলে জামায়াতের লবিষ্ট হিসেবে বিচার কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রথম প্রশ্ন তোলেন কার্লাইল। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ঠেকাতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠিও লেখেন। সুতরাং এই বিতর্কিত ব্যক্তিকে খালেদা জিয়ার আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বিএনপি খামোখা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির সাথে সম্পর্ক করে পক্ষান্তরে ধরাই খেল, এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকমহল।
খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনও একটি পত্রিকাকে বলেছেন, বিদেশী আইনজীবীর কোনো প্রয়োজন নেই। আবার অনেকে বলছেন কার্লাইল শুধু পরামর্শ দিবেন, মামলা পরিচালনা করবেন না। বেশ ভালো কথা। কিন্তু যে পরামর্শ নেয়ার জন্য কিছুদিন আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের কাছে গিয়েছিলেন, সেই পরামর্শ নেয়ার জন্য কেন বাইরের একজন মানুষের কাছে যেতে হবে? যে কিনা বিতর্কিত, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে।
এটা করে বাংলাদেশের আইনজীবীদের অপমানই করা হয়েছে, এমন মন্তব্যও করেছেন কোনো কোনো আইনজীবী। বরঞ্চ এটা করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশকে হেয়ই করা হয়েছে। যারাই এই কার্লাইলকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগের ব্যাপারে উৎসাহ যুগিয়েছে তারা আসলে বিএনপির ভালো চায় না। তারা বাংলাদেশের আইনজীবীদের অসম্মান করার জন্যই কাজটি করেছে। আর পরোক্ষভাবে বিএনপির বারোটা বাজানোর চেষ্টাই করেছে।
আবার অনেকে মনে করছে বিএনপির নেত্রী হয়তো তার দলের নেতাকর্মীদের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন আইনজীবীদের ওপর। তবে সবকিছু মিলিয়ে বিএনপির ইমেজের ওপর কুঠারাঘাতটাই করা হয়েছে, এটা বলার আর অপেক্ষা রাখে না। দেশের সাধারণ মানুষের মনে সুন্দর সহানুভূতি গড়ে উঠছিল যে দলের প্রতি, সেই সহানুভূতিটা নষ্ট করার জন্য একজন কার্লাইলই যথেষ্ট।
সূত্র: চ্যানেল আই অনলাইন




