মেয়েদের নাইটি পরা নিষিদ্ধ করল মেয়েরাই! অতঃপর..
নারীদের পোশাককে অনেক পুরুষ ধর্ষণের জন্য দায়ী করে থাকে। নিজেদের নোংরা ইচ্ছা অবদমন করতে না পেরে মেয়েদের ওপর দোষ চাপানোর প্রবণতা থেকেই পুরুষরা এটা করে থাকে। কিন্তু তাই বলে নারীরা? নাইটি মেয়েদের জন্য একটি আরামদায়ক পোশাক। কিন্তু এই পোশাক নিয়েই আপত্তি তুলেছে একটি নারী সংগঠন। ঘটনা বাংলাদেশের নয়, আফগানিস্তান কিংবা পাকিস্তানেরও নয়; খোদ ভারতের মুম্বাইয়ের একটি গ্রামে ঘটেছে এই ঘটনা!
দেশটির বাণিজ্য নগরী তথা ‘বলিউড নগরী’ হিসেবে পরিচিত মুম্বাইয়ের অদূরে গথিভালীর সেই গ্রামে ইন্টারনেট, স্মার্টফোন, কমপিউটার, ডেস্কটপ-সবই পৌঁছে গেছে। কিন্তু মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়নি।এখানে নারীদের নাইটি পরার উপর ফতোয়া জারি করেছে ‘ইন্দ্রয়ানী মহিলা মণ্ডল’ নামে গ্রামেরই এক নারী সমিতি। পাশাপাশি নাইটি পরলে জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে।
কিন্তু কেন এই ফতোয়া? কারণটা জানলে রীতিমতো হতবাক হতে হবে। নাইটি পরলে নাকি মেয়েদের আরও কামোত্তেজক লাগে! ফলে সহজেই প্রলুব্ধ হতে পারে পুরুষ। আর ধর্ষিতা হতে পারেন নাইটি পরিহিতা নারী! ‘ইন্দ্রয়ানী নারী মণ্ডল’ এর সদস্যদের বক্তব্য, চারপাশে যে হারে ধর্ষণ আর মেয়েদের উত্যক্ত করার ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে, তা দেখে আতঙ্কিত হয়েই নাইটির উপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, নারীরা কেউ রাতে নাইটি পরতে পারতে পারবে না। নাইটি পরে কোনোভাবেই বাইরে যাওয়া যাবে না। আর রাত্রে যদি ভুলবশত কেউ নাইটি পরে বাইরে বের হয়, তাহলে তাকে ৫০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। সমিতির বক্তব্য, বাইরে এ ধরনের পোশাক পরে বের হলে নারীদের উপর হামলার আশঙ্কা অনেকটাই বেড়ে যায়। তাছাড়া নাইটি বা ম্যাক্সি পরে বের হওয়া নাকি খুব একটা ‘শোভনীয়’ নয়।
কিন্তু গ্রামের নারীরাই সমিতির এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। সেকারণে সমিতির সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডাও হয়েছে। ঝামেলা থামাতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, ‘নারী গ্রাম পঞ্চায়েত বা সমিতি এভাবে বেআইনী নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে না। আমরা নারী সমিতির সঙ্গে কথা বলে ব্যাপারটা তাদের বুঝিয়েছি এবং গ্রামের নোটিশ বোর্ড থেকে নোটিশটাও খুলেও ফেলেছি।’
কিন্তু এই যুগেও কীভাবে এই ধরনের ফতোয়া দেওয়া হয় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমাজসেবী থেকে সাধারণ মানুষ। তাদের বক্তব্য, কে কি করবে বা কে কী পোশাক পড়বে তা নিয়ে কেউ নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে না। এই ধরনের ফতোয়া দেওয়া হয় সাধারণত তালেবানি এলাকায় যেখানে নারীদের স্বাধীনতা বলতে কিছুই নেই। মধ্যপ্রাচ্যের সেসব এলাকায় মেয়েরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়। সম্প্রতি ‘মেয়েদের পোশাক ধর্ষণের জন্য দায়ী না’- এমন মন্তব্য করে মৌলবাদীদের আক্রোশের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম।
সূত্র: কালের কন্ঠ




