অ্যালার্জির হওয়ার কারণ…
নিউজ ডেস্ক।।
দিয়া মার্জিয়া। বয়স ২৮ বছর। পড়াশোনা করে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছুটি কাটাতে গিয়েছিল সমুদ্রসৈকতে। সাগর পাড় থেকে হোটেলে ফিরে দেখতে পান, সারাদেহে লালচে ফুসকুড়ি এবং তা থেকে এক ধরনের চুলকানি অনুভূত হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে চুলকানি থামাতে ব্যর্থ হয়ে দিয়া ছুটে আসেন চিকিৎসকের কাছে। চিকিৎসক কিছু মেডিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেন। সেগুলোর রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যায়, দিয়া আসলে অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয়েছে এবং এ অ্যালার্জির কারণ রৌদ্র স্নান।
দিয়ার অ্যালার্জির মূল কারণ সূর্যের আলো। রোগের ইতিহাস বলতে গিয়ে দিয়া বলে, সে ধারণা করেছিল কোনো ধরনের খাবার থেকে হয়তো এক ধরনের সংক্রমণ ঘটেছে। কিন্তু সূর্যের আলোও হতে পারে অ্যালার্জির কারণ, এ কথা শুনে সে ভীষণ বিস্মিত হয়ে পড়ে। আসলে এটা অবাক হওয়ার মতোই ঘটনা। প্রায় তিন সপ্তাহ লেগেছিল দিয়ার পুরোপুরি সুস্থ হতে। বিশ্ব অ্যালার্জি সংস্থার মতে, বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ মারাত্মক অ্যালার্জি সমস্যায় ভুগে থাকেন। এর ভয়াবহতা জানতে ভারতে ২০১৪ সালে ২০ হাজার ২৯৩টি রক্তের ওপর চালানো এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ অ্যালার্জিতে আক্রান্ত। এর মধ্যে ৪৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ ধুলোজনিত, ২০ দশমিক ৬ শতাংশ ফুলের রেণুজনিত, ১০ দশমিক ৫ শতাংশ ছত্রাকজনিত এবং ১০ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষের পশুপাখি থেকে অ্যালার্জি সংক্রমিত হয়ে থাকে। গবেষণায় আরও দেখা যায়, ৭ জনের মধ্যে ১ জন অ্যালার্জিতে আক্রান্ত। আমাদের এই পরিবেশে এমন কিছু বস্তু থাকে, যা মানবদেহ সহজে গ্রহণ করতে পারে না তার তা থেকেই অ্যালার্জির সংক্রমণ ঘটে।
অ্যালার্জির উপসর্গের মধ্যে আছে শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট, হাঁচি-কাশি, সর্দি, গলা খুসখুসে ভাব ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে চর্মরোগজনিত বিভিন্ন উপসর্গ, যেমনÑ চুলকানি, ফুসকুড়ি ইত্যাদি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিম্নরক্তচাপ, হাঁপানি; এমনকি অ্যালার্জি মানুষের মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
আমাদের দেশে অ্যালার্জি রোগীর ৯০ শতাংশই ধুলোজনিত অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হন। আগে শুধু প্রাপ্তবয়স্করা এ রোগে আক্রান্ত হতো। কিন্তু বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ শিশু বড়দের মতোই অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হয়ে থাকে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালার্জি নিয়ে আর আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সমন্বিত চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে এ রোগ সহজেই দূর করা যায়। এ জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া সবচেয়ে ভালো।
লেখক : অ্যালার্জি ও অ্যাজমা রোগ বিশেষজ্ঞ, অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।




