
যে কাজ গুলি অবশ্যই করা প্রয়োজন শিশুর বুদ্ধি বিকাশে
নিউজ ডেস্ক।। আজকের সুস্থ, সবল ও বুদ্ধিদীপ্ত শিশু আগামী দেশের ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের কর্ণধার এই শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বুদ্ধির বিকাশে পিতামাতা, পরিবার, সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশুকে নিজের ইচ্ছা, প্রভাব, স্বপ্ন চাপিয়ে দেবেন না। নামীদামি স্কুলে ভর্তি, ক্লাসে ফার্স্ট হওয়া, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বানাতে গিয়ে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক মূল্যবোধ নষ্ট করে শিশুর মানসিক, শারীরিক, বুদ্ধির বিকাশে বাধা সৃষ্টি করবেন না।
শিশুর বুদ্ধির বিকাশে যা করবেন: শিশুর বুদ্ধির বিকাশের ৭০ ভাগ মায়ের গর্ভকালীন থাকা অবস্থায় শুরু হয়, তাই গর্ভকালীন মাকে ফলিক এসিড, আয়রন, জিংক, ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার খাওয়ান; পর্যাপ্ত বিশ্রাম, মানসিক চাপমুক্ত এবং হাসিখুশি রাখুন। তাই গর্ভকালীন সময় মায়ের বেশি বেশি যত্ন নেয়া প্রয়োজন।
শিশুর বুদ্ধির বিকাশে এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বিশেষ যত্ন নেয়া প্রয়োজন। শতভাগ বিলিয়নের বেশি নিউরন নিয়ে একটি মানবশিশুর জন্ম হয়। শিশুর বুদ্ধির বিকাশ যেহেতু মস্তিষ্কের নিউরনের ওপর নির্ভরশীল এবং এই নিউরনের বৃদ্ধি শুধু গর্ভকালীন ও প্রথম পাঁচ বছরই সম্পন্ন হয়, তাই এ সময়গুলোতে শিশুর চাই বিশেষ যত্ন।
শিশুকে বেশি বেশি পুষ্টিকর খাবার খেতে দিন।মস্তিষ্কের সক্রিয় ও সতেজ রাখার জন্য পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে শিশুর মেধার বিকাশ ঘটাতে পারবেন। মেধা নষ্ট করে এমন ক্ষতিকর খাবার বাদ দিয়ে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, বেশি করে প্রোটিন, জিংক, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অপর্যাপ্ত ঘুম শিশুর বুদ্ধির বিকাশে বিঘ্ন ঘটায়, তাই শিশুর মেধার বিকাশে পর্যাপ্ত ঘুমের নিশ্চয়তা করুন। ভালো কাজে শিশুকে সব সময় উৎসাহিত করুন এবং প্রশংসা করুন। এর ফলে শিশু আরো ভালো কাজ করতে আগ্রহী হবে। শিশুর সামনে পারিবারিক ঝগড়া, অশোভন আচরণ করবেন না। পারিবারিক ঝগড়া শিশুর বুদ্ধি বিকাশে বাধা গ্রস্ত করে। তাই মা-বাবার উচিত শিশুদের সামনে ঝগড়া বা অশোভন আচরণ না করা।
পরিবারের ও প্রতিবেশীর শিশুর সঙ্গে আপনার শিশুকে মিশতে দিন এবং খেলার সুযোগ দিন। খেলাধুলার মাধ্যমে শিশু নতুন কিছু শেখার সুযোগ পায়। শিশুর সামনে সিগারেটসহ অন্যান্য নেশা করবেন না। নেশা জাতীয় দ্রব্য শিশুদের জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর। এটা শিশুর বুদ্ধির বাধাগ্রস্ত করে। তাছাড়া শিশুকে বিভিন্ন জিনিস, মানুষের সঙ্গে পরিচয় করে দিন। এতে মেধার বিকাশ ঘটে।
শিশুর ওপর সব সময় কোনো কিছু চাপিয়ে দেবেন না। তাকে পছন্দ ও দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ দিন। এতে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়বে। শিশুকে বকা, ধমক, উচ্চ স্বরে কথা ও মারবেন না। এতে মেধার বিকাশে বিঘ্ন হয়। শিশুকে প্রচুর সময় দিন। তার সঙ্গে কথা বলুন। শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন। ছুটিতে শিশুকে বেড়াতে নিয়ে যান। এতে বুদ্ধির বিকাশ ঘটবে। সৃষ্টিশীল বিভিন্ন কাজে শিশুকে উৎসাহিত করুন। এতে মেধার বিকাশ ঘটবে। শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বিলম্ব হচ্ছে কিনা তার দ্রুত পরীক্ষা করার উপায়
২ মাস- কথা বললে হাসি, ৩ মাস- মাকে চিনতে পারা, ৪ মাস- গলা জড়িয়ে ধরা, ঘুরে তাকানো, ৫ মাস- কোনও জিনিসে কাছে গিয়ে তা ধরতে শেখা, ৬ মাস- ‘মা’, ‘বা’ শব্দ বলা, ৮ মাস– কোনও সাহায্য ছাড়া বসতে শেখা, ৯ মাস- হামাগুড়ি দিতে শেখা, ১২ মাস– দাঁড়াতে শেখা, ১৩ মাস- কোনও সাহায্য নিয়ে হাঁটতে শেখা, ২৪ মাস- সিঁড়ি দিয়ে ওঠা এবং ছোট ছোট বাক্য বলা, ৩৬ মাস- তিন চাকার সাইকেল চড়তে শেখা, ৪ ৮ মাস- হাত দিয়ে বল ছোঁড়া এবং সিঁড়ির একটা ধাপে একটা পা দিয়ে দিতে ওঠা, ৭২ মাস- দেখে দেখে জটিল আকৃতি আঁকতে শেখা। এগুলো বিষয় লক্ষ্য রাখার মাধ্যমে শিশুর বিকাশে পিছিয়ে আছে কি না বুঝতে পারবেন। সূত্র: বিকাশপিডিয়া, এনটিভি