204708

নিদাহাস ট্রফি শুরু আজ

নিউজ ডেস্ক।।

একমাত্র ভেন্যু কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন জাতির টি- টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট নিদাহাস ট্রফি। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানদের স্বাধীনতার ৭০ বছর উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত হচ্ছে টুর্নামেন্টটি। সদ্যই দুর্দান্তভাবে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করা ভারত টুর্নামেন্টে পাঠিয়েছে অপেক্ষাকৃত তরুণদের নিয়ে গড়া দল। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী ৩টি দলই নিজেদের নিয়মিত অধিনায়ক ছাড়া খেলতে যাচ্ছে।

নিদাহাস ট্রফিতে লঙ্কান অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলা ম্যাথুজ ও টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ইনজুরির কারণে খেলতে পারছেন না। অন্যদিকে ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি বিশ্রামে। তার পরিবর্তে রোহিত শর্মা, সাকিবের বদলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ম্যাথুজের বদলে দিনেশ চান্দিমাল নিজ নিজ দলের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন। চলতি মৌসুমে সব মিলিয়ে ১৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে শ্রীলঙ্কার রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশে ৩টি সিরিজ জিতে তারা উজ্জীবিত। আর দেশের মাটিতে সিরিজ হারের ইতিহাস পেছনে রেখে জয়ের ধারায় ফেরার প্রত্যয় নিয়েই শ্রীলঙ্কায় পাড়ি জমিয়েছেন টাইগাররা। নিজেদের ব্যর্থতা কাটিয়ে দুই প্রতিপক্ষকে শক্ত প্রতিদ্ব›িদ্বতাই ছুড়ে দেবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে সর্বশেষ দেখায় শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা মোটেও সুখের নয়। তিন সংস্করণেই তারা হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। দিনেশ চান্দিমাল, উপুল থারাঙ্গা, কুশল মেন্ডিস, কুশল পেরেরা প্রত্যেকেই নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে উদগ্রীব। লঙ্কান পেসার ত্রয়ী ও রহস্যময় স্পিনার আকিলা ধনাঞ্জয়া ভারতকে বিনা চ্যালেঞ্জে পার হতে দেবেন না। আসলে টি-টোয়েন্টির মতো সংস্করণে আগে থেকে ম্যাচের ফলাফল অনুমান করাটা কঠিন।

ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে বাংলাদেশের প্রথম অনুশীলন পি সারা ওভালে। সেই মাঠ, বছরখানেক আগে যেখানে রিয়াদকে পেতে হয়েছিল তীব্র যন্ত্রণা। গত মার্চের দুঃসহ স্মৃতি ছিল সেটি। শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্ট ছিল পি সারা ওভালে। দেশের ইতিহাসের সেটি শততম টেস্ট। মাইলফলক টেস্টকে ঘিরে ম্যাচের আগে ছিল সাজ সাজ রব। গলে প্রথম টেস্টে মাহমুদউল্লাহ ভালো করতে পারেননি বলে দেশের শততম টেস্টে স্কোয়াডেই রাখা হয়নি তাকে। সেবার দলে জায়গা না পাওয়া মাহমুদউল্লাহ এবার অধিনায়ক। সাকিবের ইনজুরিতে দেশের মাটিতে লঙ্কানদের বিপক্ষে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। সাকিব নেই শ্রীলঙ্কা সফরেও। বছরখানেক আগে শততম টেস্টের একাদশে তার জায়গা না পাওয়াটা খুব অস্বাভাবিক ছিল না। তবে প্রশ্ন উঠেছিল, সফরের মাঝে স্কোয়াড থেকে ছিটকে ফেলাতে। তার চেয়েও বড় বিতর্ক হয়েছিল স্কোয়াডের বাইরে রাখার পর দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তে। যার অর্থ ছিল, ওয়ানডেতেও বাদ মাহমুদউল্লাহ। সংবাদমাধ্যমের প্রবল সমালোচনা ও ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির জেদের কারণে শেষ পর্যন্ত ওয়ানডে থেকে বাদ দেওয়া হয়নি মাহমুদউল্লাহকে এবং ফেরত পাঠানো হয়নি দেশে। অধিনায়ক মাশরাফি সে সময় এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে মাহমুদউল্লাহর মতো অভিজ্ঞ একজনকে হারাতে চাই না।

মাহমুদউল্লাহ পরে অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন দারুণভাবে। চ্যাম্পিয়ন লিগে বাঁচা-মরার ম্যাচে কার্ডিফে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দলের বিপর্যয়ে উপহার দেন অসাধারণ এক ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরি। যে ম্যাচের জয়ের হাত ধরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো কোনো আইসিসি টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ওঠে। ওয়ানডের পারফরমেন্স দিয়ে পরে টেস্ট দলে জায়গা ফিরে পান মাহমুদউল্লাহ। ফিরে পান আস্থার জায়গাটিও। যেটির প্রতিফলন তার দায়িত্বে। যে শ্রীলঙ্কা থেকে সফরের মাঝপথেই ফেরত পাঠানোর আয়োজন হয়েছিল বিতর্কিতভাবে, সেই শ্রীলঙ্কাতেই ফিরেছেন অধিনায়ক হয়ে। যে মাঠে মাইলফলক এক টেস্টে সুযোগ পাননি, সেখান থেকেই শুরু নতুন চ্যালেঞ্জ জয়ের অভিযান। দুঃসময়কে পাল্টা জবাব দিয়ে আজ নেতৃত্বের আসনে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

মাত্রই পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলা রিয়াদ ভিভিয়ান রিচার্ডসের সঙ্গ পেয়েছেন। মাহমুদউল্লাহর দল কোয়েটা গø্যাডিয়েটর্সের মেন্টর সর্বকালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন এই রিচার্ডস। শ্রীলঙ্কায় প্রথম অনুশীলন সেশনে দারুণ চটপটে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ভিভ রিচার্ডসকে নিয়ে মুগ্ধতার কথা শুনিয়েছেন। এমন কিংবদন্তির সামান্য সান্নিধ্যও অনেক রোমাঞ্চ জাগায় মনে। আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নিয়ে ভালো ভালো কথা বলাটাও অলিখিত নিয়ম। কিন্তু রিচার্ডসকে নিয়ে রিয়াদের ভালোলাগাটা যে ¯্রফে ক্রিকেটীয় ভব্যতা ও আনুষ্ঠানিকতাই নয়, সেটা বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের উচ্ছ¡াসের মাত্রা দেখে বোঝা যাচ্ছিল। ভিভ সত্যিই অসাধারণ। এমন একজন মহাতারকা, আমাদের মতো ক্রিকেটারদের কাছে তিনি আরাধ্য একজন, কিন্তু তার কথায়, আচরণের একটুও তারকাসুলভ ব্যাপার নেই। দারুণ মিশুক ও প্রাণবন্ত। প্রাণশক্তিতে ভরপুর বলা যায়। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, খুব আন্তরিকভাবে মিশেছেন আমাদের সঙ্গে। মনে হয় না মেকি। অনেক কথা বলেন, উৎসাহ দেন। গতবারও কিছুটা দেখেছিলাম, এবারও দেখেছি। আমি সত্যি বলতে মুগ্ধ।

আজীবন লালন করার মতো একটি স্মৃতিও নিয়ে এসেছেন মাহমুদউল্লাহ। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আমার সেঞ্চুরির কথা বলেছেন ভিভ। ইনিংসটি উনি দেখেছেন, চাপের মধ্যে নেমে যেভাবে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে মোমেন্টাম পাল্টে দিয়েছিলাম, সেটির কথা বললেন যে তার খুব ভালো লেগেছে। ভিভের মতো একজনের এমন প্রশংসা আমার অন্যতম বড় প্রাপ্তি। আজীবন মনে থাকবে। রিয়াদ জানালেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের কথা বেশ ভালোই জানেন, ভিভ অনেক কথা বলেছেন। বিশেষ করে তামিমের ব্যাটিংয়ের কথা বলেছেন যে ভালো লাগে। মুশফিক, সাকিব, মোস্তাফিজের কথা বলেছেন। পিএসএলে মোস্তফিজকে দেখে ভালো লেগেছে। আমাদের শুভকামনা জানিয়েছেন। সেই শুভকামনাকে সঙ্গী করেই নিদাহাস ট্রফি খেলতে যাচ্ছেন মাহমুদউল্লাহ। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু অনুপ্রেরণার উৎসও অনেক বড়।

ad

পাঠকের মতামত