204417

২০১৭ সালের সেরা প্রেম গাঁথা মুভি: The Shape of Water

মুভি রিভিউ তো এই জীবনে কম লিখিনি। কিন্তু কেন জানি, আজ রিভিউ লিখতে বসে, কিছুতেই লিখাটা শুরু করতে পারছি না। আচ্ছা, কোনকিছু খুব বেশি ভালো লাগলে কি এমন হয়? অনেক সময় শুনে থাকবেন, যেই মানুষটটি বাকি সবার সামনে চঞ্চলতায় মেতে থাকে অথবা অন্তর্গল বকবক করে থাকে, প্রিয়জনের সামনে আসলে সেই মানুষটিই লজ্জায় লাল হয়ে চুপ করে থাকে। আসলে মাঝেমধ্যে কিছু কিছু বিশেষ অনুভূতি প্রকাশ করতে ভাষাও লজ্জায় মুখ লুকায়। আজ আমি যেই মুভিটির কথা লিখতে যাচ্ছি, সেটা দেখার পর আমার দশাও অনেকটা সেইরকম। মুভিটা দেখার আগেই অনেক উৎসুক ছিলাম মুভিটা নিয়ে। আর দেখার পরে? আমি ঘোরে আছি বলা যায়। হুম, ঠিক পড়েছেন। আমি ঘোরেই আছি। তবে হ্যাঁ, অবশ্যই, এটা আমার ক্ষেত্রে ঘটেছে। সবার কথা জানি না। তবে মোটামুটি যাদের সাথে এই মুভি নিয়ে কথা বলেছি, সবাই আমার সাথে একমত পোষণ করেছে যে, “মুভিটা সত্যিকার অর্থে বিশেষ কিছু”।আর যেহেতু এই রিভিউটা আমি লিখছি, তাই এতে এই মুভি নিয়ে আমার চিন্তাধারা, আবেগ- অনুভূতি, মতামতের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার। তাই আগেভাগে বলে নিচ্ছি, রিভিউ নিয়ে দ্বিমত থাকতেই পারে, তা অবশ্যই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

তাহলে শুরু করা যাক। “দ্যা শেপ অফ ওয়াটার” নামটা শুনে আপনার মাথায় প্রথমে কোন কথাটি এসেছিল? আচ্ছা শুনুন তাহলে, আমার মাথায় কী এসেছিল। “পানির আবার আকার হয় নাকি?” ছোটকালে যে সাধারণ বিজ্ঞান বইয়ে পড়েছিলাম, “তরল পদার্থের আকার নেই, আয়তন আছে”। তারমানে কি বিজ্ঞানের এই তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত করার গল্প নিয়েই মুভিটি নির্মাণ করা হয়েছে? মজা করছি না, পাঠক, প্রথম নামটা শুনে অনেকটা এমন নাজেহাল অবস্থা হয়েছিল আমার। কারণ তখন মুভি নিয়ে আমার জ্ঞান ছিল, শূন্যের কোঠায়। তারপর একদিন কোন একটা মুভি গ্রুপে এই মুভি নিয়ে একটা পোস্ট দেখি, সাথে একটা পোস্টার। বিশ্বাস করুন আর না করুন, আমি সেই পোস্টারের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। জানি না, মুভির পোস্টারটা কার কেমন লেগেছে, আমার কাছে এক শব্দে বললে, “ফাটাফাটি”। তারপর মুভিটি নিয়ে অনেক জল্পনা কল্পনার শুরু হয় আমার। ততদিনে জেনে যাই, মুভিটি রোমান্টিক, ,ড্রামা জনরার মুভি। কিন্তু তবুও মুভিটা একদম ঝকঝকে তকতকে প্রিন্টে দেখার লোভে অনেকদিন দেখার ইচ্ছাকে দমন করে ছিলাম। অবশেষে, আর পারিনি। ব্লুরে প্রিন্টকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গত কাল রাতে দেখেই নিলাম এই বছরে এখন পর্যন্ত দেখা সবথেকে প্রিয় ও গত বছরে মুক্তি পাওয়া অন্যতম প্রিয় মুভি “দ্যা শেপ অফ ওয়াটার”।

মুভির প্লট নিয়ে যে কী লিখবো সেটাই ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে, একটু বলে দিলেই যদি স্পয়লায় খেয়ে যান আপনারা। তারচেয়ে চলুন, আমি একটা গল্প বলি আর আপনারা শুনুন। একদেশে ছিল একটি এতিম, বাক প্রতিবন্ধী যুবতী। মেয়েটির মুখে কোন শব্দ ছিল না তো কী হয়েছে। মেয়েটি অন্তরের ভাষা ঠিক তার চোখে ফুটে উঠতো। মেয়েটি বাকিদের থেকে মোটেও আলাদা করে চোখে পড়ার মতো কেউ ছিল না। মেয়েটির না ছিল অর্থ-সম্পদ, না ছিল খ্যাতি, না ছিল ভালো মানের কোন চাকরি। মেয়েটি ছিল সামান্য একজন ক্লিনার। অফিসের মেঝে, টয়লেট, সিঁড়ি ঝেড়ে মুছে যার পেট চালাতে হতো। মেয়েটি থাকতো একটি সিনেমাহলের উপরে একটি ছোট বাসা ভাড়া করে। কিন্তু এতকিছুর মাঝেও, মেয়েটির কয়েকটি দারুণ গুণ ছিল। সে মানুষকে ভালবাসতে জানতো, নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে জানতো আর জানতো কীভাবে সুখ ও ভালবাসা অন্যের ভেতর সঞ্চারণ করা যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষকে না হয় মেয়েটি নিজের কোমল ও ভালবাসাপূর্ণ হৃদয় দিয়ে জয় করতে পারতো। কিন্তু একজন মৎসকুমারকে? আসলেই কি তা সম্ভব? উত্তরটুকু আপনাদের জন্য ছেড়ে দিলাম। তবে এটুকু বলে রাখি, এই মুভিতেও নায়ক- নায়িকা যেমন আছে, সাথে ভিলেনও আছে। আর বাকি সব ভিলেনের মতো এই ভিলেনও কাবাবে হাড্ডি হবার প্রাণপণ চেষ্টা করে থাকবে। কিন্তু কে সেই ভিলেন? কীভাবে সে ওদের জীবনে আসে? এসব আর আমি কিছুই বলবো না। সবথেকে বড় কথা, ওদের পরিচয়টাই হয় কীভাবে?

মুভি নিয়ে আমার মতামত যতদূর জানি, একদম উপরের প্যারা দুটোতেই বহুবার বলেছি। আসলে এই মুভি আমার অতিরিক্ত ভালো লেগেছে। মুভির কোন দিক বেশি ভালো লেগেছে বলতে গেলে বলবো, গল্পের ধারাবাহিকতা ও চিত্রায়ন। স্যালি হকিন্সকে আমি পুরোটা মুভি হা করে দেখেছি আর বারবার ওর জায়গায় যদি থাকতে পারতাম, কত ভালো হতো বলে বলে আফসোস করেছি। মৎসকুমারের কথা আর কিছু নাই বলি। এলিসার সাথে সাথে সে আমারও মন হরণ করেছে। পুরোটা মুভির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আলাদা একটা উন্মাদনা এনেছে পুরো মুভিতে। আর এলিসা ও মৎসকুমারের “ভালবাসার স্বীকারোক্তি”র দৃশ্য যে গান ও নাচটা থাকে, এককথায় “অবিস্মরণীয়” লেগেছে। বাকিটা চরিত্রগুলোও যার যার চরিত্র বাস্তবায়নে দারুণ করে দেখিয়েছেন।

আমি তো সামান্য একজন মুভিখোর। তাই আমার দৃষ্টিকোণ থেকে মুভি সম্পর্কে জেনে বিশ্বাস না করলে, ভালো কোন সাইটের রিভিউ পড়তে পারেন। শুধু এটা বলি, গিলেরিমো ডেল টেরো গোল্ডেন গ্লোবের মতন অস্কারের সেরা পরিচালকের পুরস্কারটা পেয়ে গেলেই হবে। আর সাথে যদি সেরা চলচ্চিত্র ও সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারও পেয়ে যায়, তাহলে তো হয়েই গেলো। শুনেছি, মোট ১৩ টি ক্যাটাগরিতে অস্কারে মনোনয়ন পেয়েছে। আশা করি, ৭/৮ নিয়েই আসবে ঘরে।

“দ্যা শেপ অফ ওয়াটার” দলের জন্য শুভকামনা রইলো।

→  মুভিটি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

ad

পাঠকের মতামত