প্রেমিককে বিয়ে করতে চাওয়ায় মেয়েকে হত্যা বাবা-মার
টানা ছয় ঘণ্টা ধরে মৃত্যু যন্ত্রনায় ছটফট করল মেয়ে, আর চোখের সামনে সেই দৃশ্য তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করল বাবা, মা! ২০ বছর বয়সী সুষমার অপরাধ, নিজে উচ্চ বর্ণের হয়ে তিনি এক নিম্ন বর্ণের হিন্দু দলিত কিশোরকে ভালোবেসেছিলেন এবং তাকেই বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। তাই মা, বাবা ও মামা মিলে জোর করে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলেন সুষমাকে। ভয়াবহ এই অনার কিলিং-এর ঘটনা ঘটেছে ভারতের কর্ণাটকের গোল্লানবিড়ু গ্রামে।
মহিসুর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে গোল্লানবিড়ু গ্রামের কৃষক কুমার গোওড়ার মেয়ে সুষমা দলিত সম্প্রদায়ের এক চিত্রশিল্পীকে ভালোবাসেন। হিন্দু শাস্ত্র মতে নিচু বর্ণ ও ভিন্ন সম্প্রদায়ের হওয়ায় এই সম্পর্ক নিয়ে আপত্তি তোলে সুষমার পরিবার। অন্য এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়েও দেওয়া হয় তাঁকে। এর আগে তিন বার সুষমাকে বাড়িতে ডেকে তাদের পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করতে চাপ দেয় তার বাবা-মা। কিন্তু প্রতিবারই তাদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয় সুষমা।
চতুর্থবার মেয়েকে বোঝানোর চেষ্টাই করেনি কুমার গোওড়া ও তার স্ত্রী জয়ন্তী। মেয়েকে বাড়িতে ডেকে লেবুর রস খেতে দেয় জয়ন্তী। ওই রসেই বিষ মেশানো ছিল। রসের স্বাদ ঠিক না লাগায় এক চুমুক খেয়েই আর খেতে চায়নি সুষমা। তাই তার বাবা, মা ও মামা মিলে জোর করে তার গলায় বিষাক্ত রস ঢেলে দেয়। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ বিষ খাওয়ানোর পর সারা রাত ছটফট করে ভোর চারটে নাগাদ মৃত্যু হয় সুষমার। সকালে মেয়ের মৃতদেহ সত্কারও করে ফেলে তারা।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি এই ঘটনা ঘটার কিছুদিন পর পুলিশ ওই গ্রামে অনার কিলিং ঘটেছে বলে গোপন সূত্রে খবর পায়। তারপর কুমার গোওড়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সব ঘটনা সামনে আসে। জয়ন্তী ও তার ভাই এখনও পলাতক। তিনজনের বিরুদ্ধে খুন ও অপরাধের প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া




