শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দীর্ঘ লাইন
একুশের প্রথম প্রহরেই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর একে একে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন শহীদদের শ্রদ্ধা জানায়। সময় যতই বয়ে যাচ্ছে, শহীদ মিনারে মানুষের ঢল ততেই বেড়ে যাচ্ছে।ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জনাতে এক সময় দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়।

ভোর থেকে প্রভাত ফেরীতে অংশ নিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের সন্তানদের নিয়ে শহীদ মিনারে আসেন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।
সরেজমিনে বুধবার দুপুর একটার সময় দেখা যায়, দক্ষিণ নিলক্ষেত এলাকার পলাশী মোড় থেকে শুরু করে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সর্বস্তরের মানুষের সারি যেন আরো দীর্ঘ হচ্ছে। দীর্ঘ লাইনে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
এছাড়া সংগঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ পরিবার সন্তানকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বাবার সঙ্গে ফুল দিতে আসা লামিয়া বলেন, ‘আমরা দশটার সময় এসেছি, এখনো ভেতরে প্রবেশ করতে পারিনি।’
এদিকে বেদীতে ফুল দেওয়ার সময় অনেকে ছবি তোলার কারণে কিছুটা জটলা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে সেখানে উপস্থিত ভলান্টিয়ার ও ডিবির সদস্য দ্রুত সরিয়ে দিচ্ছেন।
এদিকে দীর্ঘ লাইন দেখে প্রচার মাইক থেকে বলা হচ্ছে, ‘আমরা ৩টায় শেষ করার ইচ্ছা থাকলেও মনে হচ্ছে শেষ করতে রাত লেগে যাবে।’
এর আগে বুধবার রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার, তারপর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে থেকে আবারও পুস্পাস্তবক অর্পন করেন শেখ হাসিনা। এরপর জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনীতিকবর্গ এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর একে একে শ্রদ্ধা জানান সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, অ্যাটর্নি জেনারেল ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডাররা।
বুধবার রাত ১২টার পর রাত ৩টা পর্যন্ত হাজারো মানুষের ঢল নামে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায়।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সিপিবি বাসদ, কৃষক-শ্রমিক জনতা পার্টি, ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন হল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, ছাত্র সংসদ, নটরডেম কলেজ, বিপ্লবি ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র ঐক্য ফোরাম, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।
আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, বংবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, অপুর্ব ড্যান্স স্কুল, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, গণজাগরণ মঞ্চ, বাংলাদেশ-জার্মান সম্প্রীতি, জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশ তাতী লিগ, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যান ফাউন্ডেশন,
প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী দল, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান লীগ, জাতীয় যুব সংহতি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম, ঢাকা আইনজীবী সমিতি, শ্রমিক কর্মচারী লীগ, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল, বর্ণচাষসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এদিকে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে দলটির নেতা-কর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।




