জেনে রাখুন পুরুষ দেহের অজানা কিছু তথ্য
পুরুষদের দেহে রয়েছে এমন কিছু বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য, যা নারীরা কেন এমনকি পুরুষরাও জানেন না। YMB আপনাদের সামনে রহস্যের এ পর্দা উন্মোচন করতে যাচ্ছে এবং আপনাদের সামনে এমন ৮টি তথ্য উপস্থাপন করছে, যা আপনাদের পুরুষদেরকে দেখার সম্পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি বদলিয়ে দেবে।
১) বার্ধক্য আসে ধীরে

পুরুষ তার চেহারায় তারুণ্য মহিলাদের থেকে অনেক বেশী দিন পর্যন্ত ধরে রাখতে পারে। পুরুষদের ত্বকের কোলাজেন মহিলাদের থেকে অনেক ধীরে ধীরে হ্রাস পায় ফলে অনেক বয়স পর্যন্ত পুরুষদের চামড়ায় ভাজ পড়ে না বা চামড়া ঝুলে যায় না।
২) বুকে দুধ উৎপাদন করার ক্ষমতা

আপনি শুনে অবাক হবেন যে মহিলাদের ন্যায় পুরুষদের বুকেও দুধ উৎপাদন করার গ্রন্থি রয়েছে! কিন্তু এ রকমটি হওয়া পুরুষদের জন্য একটি অস্বাভাবিকত্ব। প্রোলেক্টিন নামক হরমোন অতি মাত্রায় নিঃসরণের কারণে এমনটি হতে পারে। হৃদরোগের কিছু চিকিৎসা, হাইপোথেলামাস ও পিটুইটারি গ্রন্থির সমস্যা, আফিম জাতিয় দ্রব্য সেবন এবং চরম ক্ষুধামন্দার কারণে পুরুষদের এ রকম অস্বাভাবিকত্বের সৃষ্টি হতে পারে।
৩) টাক পড়া

পুরুষদের মাথায় টাক পড়ার জন্য মায়ের এক্স ক্রোমোজোম দায়ী। কিন্তু টাক পড়ার এটাই একমাত্র কারণ নয়। দেখা গেছে যদি পিতার মাথায় টাক থাকে তাহলে তার সন্তানের মাথা কেশশূন্য হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৬০ ভাগ হয়ে যায়। এছাড়াও মানসিক চাপ, নিম্ন মানের খাবার ও হরমোনগত কারণে সাধারণত পুরুষদের মাথায় টাক পড়ে থাকে।
৪) ঋতুস্রাবের পূর্বলক্ষণ

হ্যাঁ, আপনি জেনে আশ্চর্যান্বিত হবেন যে শতকরা ২৬% পুরুষ কখনো না কখনো ঋতুস্রাবের পূর্বলক্ষণের (PMS: Premenstrual Syndrome) অভিজ্ঞতা লাভ করেন। এ সময় পুরুষরা মহিলাদের মতোই অতি সংবেদনশীল ও খিটখিটে মেজাজের হয়ে ওঠেন, ক্ষুধামন্দা অনুভব করেন, এমনকি পেটে প্রচণ্ড ব্যথাও অনুভব করে থাকেন।
৫) জন্মের প্রাথমিক অবস্থায় সকল পুরুষই নারী থাকেন

মা-বাবার এক্স ও ওয়াই ক্রোমোজোম মিলে ছেলে শিশু এবং এক্স ও এক্স ক্রোমোজোম মিলে মেয়ে শিশুর জন্ম হয়। কিন্তু ভ্রূণের বয়স যখন ৫-৬ সপ্তাহ, তখন দেখা গেছে পুরুষ লিঙ্গ নির্ধারণকারী ওয়াই ক্রোমোজোম নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। তাই যে পর্যন্ত না ওয়াই ক্রোমোজোম সক্রিয় হয়ে ওঠে সে পর্যন্ত এটি নারী ভ্রূণ হিসেবে বিকশিত হয়।
৬) পুরু চামড়া

টেস্টোস্টেরন নামক হরমোনের কারণে পুরুষদের চামড়া মহিলাদের থেকে ২৫% পুরু হয়। তবে পুরুষদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাদের চামড়া পাতলা হতে শুরু করে। কিন্তু মহিলাদের রজোবন্ধের (menopause) আগ পর্যন্ত তাদের চামড়ার পুরুত্ব সমান থাকে।
৭) কণ্ঠমণি (The Adam’s Apple)


পুরুষদের কণ্ঠমণি মহিলাদের থেকে অনেক বড় ও দৃশ্যমান থাকে। মহিলাদের ঘাড়ে থাইরয়েড কোমলাস্থির কেবল উঁচু একটি অংশ দেখা যায়, যা মূলত তাদের কণ্ঠস্বর নিয়ন্ত্রণ করে।
৮) রঙের মাত্রাগত পার্থক্য বুঝা

বিভিন্ন রঙের মাত্রাগত পার্থক্য পুরুষরা মহিলাদের তুলনায় অনেক কম ধরতে পারে। রঙের পার্থক্য সনাক্ত করার ক্ষমতা নির্ভর করে আমাদের চোখের রেটিনার কোন কোষের উপর, যা থাকে মূলত এক্স ক্রোমোজোমে। যেহেতু মহিলাদের পুরুষদের অপেক্ষা দ্বিগুণ এক্স ক্রোমোজোম রয়েছে তাই তারা পুরুষদের তুলনায় বিভিন্ন রঙের মাত্রাগত পার্থক্য অনেক বেশি ধরতে পারেন।




