200127

বিয়ের আগেই প্রেগন্যান্ট ছিল স্ত্রী! রিপোর্ট দেখে হতবাক স্বামী

ভ্যালেন্টাইন ডে’র দিনই স্বামী হাতে পেলেন নব বধূর বিশ্বাসঘাতকতার প্রমাণ৷ হাইকোর্টের নির্দেশে প্রকাশ্যে এল স্ত্রী’র বিয়ের আগেই অন্তঃসত্বা হওয়ার নথি৷ নতুন বিয়ে হওয়া স্ত্রী’র এই নথি দেখে হতবাক স্বামী।

বিয়ের দিন থেকেই সন্দেহ হয়েছিল স্বামীর৷ বাসর রাতে স্ত্রী’র শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ আরও দৃঢ় হয় ফারাক্কার শুভঙ্করের৷ নিজের করে ঘরে তোলা স্ত্রী নিজের নয় বলে মনে হয়েছিল৷ জিজ্ঞাসা করেও সদুত্তর মেলেনি৷ বরং এড়িয়ে যেতে থাকে নতুন বউ৷ হাতে থাকা তথ্য প্রমাণ লোপাট হয়ে যায়৷ অবশেষে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন তিনি৷ হাইকোর্টেই নির্দেশেই স্ত্রী’র প্রেগনেন্সি পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পেলেন ওই ব্যক্তি৷ সেই পরীক্ষার রিপোর্টে প্রমাণ হল নববধূ বিয়ের আগে থেকেই অন্তঃস্বত্তা ছিলেন৷ এরকম অবস্থায় কি করে মানসিক ভাবে ঠিক থাকতে পারেন স্বামী! এমন খবরই সামনে আসল আজ ভ্যালেন্টাইন ডে’র দিনে৷ যে দিনটিকে সারা বিশ্ব ভালবাসার দিন হিসেবে পালন করছেন৷

স্ত্রী’র প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করাতে আগেই দিয়েছিলেন শুভঙ্কর৷ এদিকে এই কূকীর্তি ধামা চাপা দেওয়া সম্ভব নয় বুঝে চম্পট দেয় স্ত্রী৷ নিজের কান্ড লুকোতে স্বামীর বিরূদ্ধে বধূ নির্যাতনের মামলা করে স্ত্রী৷ অন্যদিকে মেডিক্যাল রিপোর্ট পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শুভঙ্কর৷

৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭-য় বেসরকারি ব্যাংকের কর্মী মুর্শিদাবাদের ফারাক্কার বাসিন্দা শুভঙ্কর ঘোষের সঙ্গে নলহাটির বাসিন্দা মৌসুমী ফুলমালির সমন্ধ করে বিয়ে হয়৷ ৪ ঠা ফেব্রুয়ারি যখন বউ কে নিয়ে শুভংকর বাড়ি ফিরছিলেন সেই সময় গাড়িতে বমি করতে থাকেন নতুন বউ৷ ৫ ই ফেব্রুয়ারি ছিল বউভাতের অনুষ্ঠান৷ বাসর রাতে নববধূর অস্বাভাবিকতা দেখে পরের দিন সকালে কলকাতায় দমদম ক্যান্টনমেন্টে পরিচিত এক ডাক্তারের পরামর্শে স্থানীয় আশা ডাইগোনোকলজিস্ট সেন্টারে নববধূর প্রেগনেন্সি টেস্ট করান শুভঙ্কর৷ বিকেলে রিপোর্ট হাতে পেতেই চমকে ওঠেন তিনি৷ বিষয়টি মৌসুমীর বাড়ির লোকেদের জানান হয়৷ বাড়ি ফিরে বউয়ের কাছে এবিষয় জানতে চান তিনি কেন পুরো বিষয়টা গোপন রেখে বিয়ে করেছেন শুভঙ্করকে৷

এরপরই ৬ই ফেব্রুয়ারি বিয়ের টাকা পয়সা গহনাগাটি এবং ডাক্তারি কাগজপত্র নিয়ে চম্পট দেয় নববধূ৷ ঘটনার পরই শুভঙ্কর ওই ক্লিনিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই মেডিক্যাল রিপোর্টের ডুপ্লিকেট কপি দিতে বলেন৷ কিন্তু ওই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ শুভঙ্করকে ডুপ্লিকেট কপি দিতে অস্বীকার করে৷ তারা জানায় প্রেগনেন্সি টেস্টের কোনও পরীক্ষাই নাকি হয়নি তাদের ক্লিনিকে৷ এর পর শুভংকর হেলথ ডিপার্টমেন্ট এবং ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিসমেন্ট রেগুলেটরি কমিশনে আবেদন এবং অভিযোগ করেন শুভংকর৷ তার মধ্যেই গত ৪ঠা জুলাই ২০১৭য় শুভংকরের পরিবারের বিরূদ্ধে বধূ নির্যাতনের মামলা করে মৌসুমী৷

সব জেনে গিয়েও কিছুতেই প্রমান মিলছিল না হাতে৷ এরপর ২০ জুলাই মেডিক্যাল রিপোর্টের ডুপ্লিকেট কপি হাতে পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শুভঙ্কর৷ মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮য় হাইকোর্টে মামলার প্রথম শুনানি হয় বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাসে৷ তিনি মামলাকারীর আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরীর কাছে জানতে চান স্বামীর এই রিপোর্ট পাওয়ার অধিকার আছে কিনা৷ আইনজীবী জানান ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিস্টমেন্ট অ্যাক্ট অনুসারে রোগি বা তাঁর পরিবারের সদস্যরা রিপোর্ট দিতে বাধ্য৷ সেই শুনে বিচারপতি বসাক ওই ক্লিনিকের আইনজীবী কে ভৎসনা করে বলেন এই আইন থাকা সত্বেও কেন সাধারণ মানুষকে কোর্টের দরজায় কড়া নারতে হবে?

বুধবার রিপোর্ট নিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি৷ বুধবার ১৪ ফেব্রুয়ারি ফের শুরু হয় এই মামলার শুনানি৷ ক্লিনিকের পক্ষের আইনজীবী মামলাকারীর আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরীর হাতে রিপোর্ট তুলে দেন৷ বিচারপতি দেবাংশু বসাক অবিলম্বে রেগুলেটরি কমিশন কে শুভঙ্করের করা অভিযোগ নিস্পত্তি করার নির্দেশ দেন৷
সূত্র: Kolkata24x7

ad

পাঠকের মতামত