199591

নিজ কন্যাকে ধর্ষণের দায়ে আলোচিত সেই নরপশু পিতা গ্রেফতার

নিজ কন্যাকে ধর্ষণের দায়ে নরপশু পিতা আব্দুল জলিল ওরফে জহুরী জলিল ওরফে ম্যাজিক জলিলকে সোমবার রাতে চরফ্যাশন থানা পুলিশের সহযোগিতায় শশীভূষণ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে। এরপর মঙ্গলবার চরফ্যাসন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে তাকে সোপর্দ করে। আদালতে সোপর্দ করার পর জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। শশীভূশন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নং ০৫ তারিখ ১২/০২/১৮।

আব্দুল জলিল ওরফে জহুরী জলিল ওরফে ম্যাজিক জলিল চরফ্যাসন পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের মৃতঃছিডু দালালের ছেলে। এদিকে এই নরপশুর দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবিতে বিক্ষুদ্ধ জনতা সোমবার মধ্যরাতে থানার সমানে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে বাদিনীর উত্তর মঙ্গল গ্রামের চৌমুহনী বাজারেও।

পুলিশ জানায়, জলিলের ১৫ বছর বয়সী কন্যা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ২ বছর ধরে মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগে বাবা তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আসছে। ধর্ষিতা শিশুকন্যা বিষয়টি মাকে জানালে মা তার বাবাকে সংশোধনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে তিনি (মা) বিষয়টি স্থানীয় মান্যগন্যদের অবহিত করেন। কিন্ত এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে জলিল তার স্ত্রীকে মারধর করে। ঘটনার ধারাবাহিকায় সোমবার রাতে ধর্ষিতা কন্যা বাদি হয়ে শশীভূষণ থানায় মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয়রা জানান, চরফ্যাশন পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের ছিডু দালালের ছেলে আব্দুল জলিল ওরফে জহুরী জলিল-এর একধিক বিবাহের পর দু’স্ত্রী বর্তমান আছে। প্রথম স্ত্রীর ঘরে ৪ মেয়ে ও ২ ছেলে এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে আছে। মামলার বাদিনী তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরের ৩য় সন্তান। নরপশু জলিল প্রথম স্ত্রীসহ ওই ঘরের সন্তানদের নিয়ে পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের বাড়িতে থাকতেন। দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তার সন্তানদের নিয়ে জলিলের অপর সংসার ছিল শশীভূষণ থানার চর কলমী ইউনিয়নের উত্তর মঙ্গল গ্রামের বাড়িতে। এই বাড়িতেই বাদি কন্যাকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা আরও জানান, আব্দুল জলিল এক সময় ফুটপাতে ম্যাজিক দেখাতে এবং তাবিজ-কবজ বিক্রি করতো। এভাবে ম্যাজিক থেকে ম্যাজিক জালিল এবং তাবিজ-কবজের গুণে জহুরী জলিল খ্যাতি পায়। পরবর্তী সময়ে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে বিশাল অর্থ সম্পদের মালিক হয়ে যায় সে। মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে নিজেও আসক্ত হয়ে পরে। গাঁজা থেকে ইয়াবায় আসক্ত জলিল যৌন উত্তেজক জিনসিন সহ বিভিন্ন ঔষুধে আসক্ত হয়ে নিজ কন্যাদের সাথে ব্যভিচারে জড়িয়ে পরে। সে দেশীয় হারবাল চিকিৎসক সংগঠনের স্থানীয় নেতা বলে জানা গেছে।

ভোলায় মেডিকেল চেকাপের পর গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মামলার বাদী সুইটি ও তার মা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে আলোচিত এই পাশবিক ঘটনায় তার জন্মদাতা বাবার ফাঁসি দাবি করেছেন।
সূত্র: সময় টিভি

ad

পাঠকের মতামত