মানুষের আটকে যাওয়ার অদ্ভূত কাহিনী!
ফাঁদ পেতে পাখি ধরা বা বাঘ শিকারের কথা আমরা জানি। ছবিতে মানুষ ধরার ফাঁদও দেখা যায়। শিকারের সে সব ফাঁদে আটকে পড়লে জীবন বাঁচানো কঠিন। তবে আজ আমরা এমন কিছু ঘটনার কথা জানবো যেখানে অদ্ভূতভাবে আটকে গিয়েছিল মানুষ।
ব্রাজিলে জেল থেকে এক কয়েদী পালানোর পরিকল্পনা করে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার পরও তার মোটা পেটের কারণে পালাতে পারেনি। অনেক কষ্ট করে কংক্রিটের দেওয়াল বেশ বড়সড় এক ছিদ্র করেছিল রাফায়েল ভালাদাও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পালাতে পারেনি ভালাদা, অথচ তার করা ছিদ্র পথ ব্যবহার করে এক হালকা পাতলা এক কয়েদী ঠিকই পালিয়ে গিয়েছিল। ২২৫ পাউন্ড ওজনের রাফায়েল ভালাদাও ব্যাপক চেষ্টার পরও সফল হতে পারেনি। তাছাড়া বেচারে দেয়ালে আটকে যাওয়ায় বেহাল অবস্থা হয়েছিল। যেখানে সেখানে আঁচড় লেগে রক্তাক্ত হয়েছিল, জিন্সের প্যান্ট কোমর থেকে অনেকটা নেমে এসেছিল। তারপরও সে সফল হয়নি, শেষ পর্যন্ত ফায়ারফাইটাররা এসে তাকে উদ্ধার করে।
বড়দের অনুকরনে বাচ্চাদের কত কিছুই না করতে ইচ্ছা করে। তাদের সে সব কর্মকাণ্ড অনেক সময় হাসির খোরাক হয়। আবার কোনো কোনো সময় তা বড় বিপদের কারণ হতে পারে। বড়দের হেলমেট ব্যবহার দেখে চীনের পাঁচ বছরের এক ছেলের হেলমেট মাথার দেওয়ার শখ হয়। কিন্তু হেলমেট না পেয়ে বাড়িতে থাকা পিভিসি পাইপকে হেলমেট বানিয়ে ফেলে। পাইপের ভেতর মাথা ঠিকমতো ঢুকাতে পারলেও আর বের করতে পারছিল না। অবস্থা খারাপ থেকে বাবা দ্রুত তাকে নিকটবর্তী ফায়ার স্টেশনে নিয়ে তাকে মুক্ত করেন।
চীন দেশে আটকে যাওয়ার আরো একটা ঘটনা রয়েছে, যার শেষ হয়েছিল মর্মান্তিক মৃত্যু। শানঝি প্রদেশে গর্ভবতী এক মহিলা বিশ্রামের জন্য রাস্তার পাশে একটা রেলিংয়ে মাথা ঠেকিয়ে বসে পড়েছিলেন, কিন্তু তার এই বসা যে মর্মান্তিক আকার নেবে তা হয়তো তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। একটা সময় তার মাথা রেলিংয়ে আটকে যায় এবং শ্বাসরোধ হয়ে তিনি মারা যান। ঘটনার আশপাশে থাকা লোকজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছিল কিন্তু তাদের চেষ্টা সফল হয়নি। পুলিশ এবং অ্যাম্বুলেন্স এসেও মহিলা এবং তার সন্তানকে বাঁচাতে পারেনি। কি কারণে তার এমন অবস্থা হয়েছিল তা কেউ বলতে পারেনি, তবে অনেকের ধারণা প্রচন্ড গরমের কারণে তার এমন হয়েছিল।
দেয়ালের সঙ্গে পা আটকে গিয়ে চোর ধরা পড়ারও ঘটনা রয়েছে। দেয়াল টপকে বাড়ির ভেতর ঢোকার সময় দেয়ালে আটকে গিয়েছিল চোরের পা। পাশের বাড়ির একটা মেয়ে দেয়ালের ওপর উল্টোভাবে একটা জুতা দেখতে পেয়ে বাবাকে জানালে তারা গিয়ে চোরকে উল্টে থাকার অদ্ভূত দৃশ্য দেখতে পায়। পরে পুলিশকে সংবাদ দিলে তারা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। চোরের একটি পা ভেঙ্গে গিয়েছিল।
তবে লস অ্যাঞ্জেলসের ঘটনা আরো অদ্ভূত। ৩৫ বছর বয়সী এক মহিলা তার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে দেখা করতে রাতের বেলায় তার বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধান দরজা বন্ধ থাকায় একটু রহস্যময় আচরণের ইচ্ছা জাগে মহিলার মনে। চিমনি বেয়ে ঘরে ঢোকার ইচ্ছা হয় তার। যেই ভাবা সেই কাজ। কিন্তু ব্যাপারটা যে এমন গন্ডগোল পাকিয়ে যাবে তা হয়তো ভাবতে পারেননি। চিমনির ভেতরেই আটকে যান তিনি। কাজে যাওয়ার জন্য ঘুম থেকে ওঠার শব্দ শুনে এদিক ওদিক শব্দের উৎস খুঁজতে থাকেন তার বয়ফ্রেন্ড। হঠাৎ তিনি দেখতে পান চিমনি থেকে ঝুলকালি মাখানো দুটো পা ঝুলছে। দ্রুত তাকে বের করার চেষ্টা করেন কিন্তু সফল হননি। ফলে সেবাকর্মীদের ডাকতে হয়। তারা দুই ঘন্টার চেষ্টা তাকে অনেকটা নগ্ন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। চিমনির বিভিন্ন স্থানে আটকে যাওয়ায় তার কাপড় ছিঁড়ে গিয়েছিল।




