198791

নিস্তব্ধ গ্রামের বাসিন্দা কেবল একজন!

একা এক বাড়িতে থাকলেই মানুষ খুব নি:সঙ্গ অনুভব করে। কারণ একে অন্যের সঙ্গে দলবদ্ধ হয়ে থাকার ব্যপারটি মানুষের অস্তিমজ্জাগত। কিন্তু যদি বলা হয় নীরব, নিস্তব্ধ ও প্রত্যন্ত এক গ্রামের বাসিন্দা কেবল একজন! অনেকেই হয়তো বলবেন, তা আবার হয় নাকি, এ কি করে সম্ভব?

এমন অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন এক ব্যক্তি। টানা ১০ বছর এক গ্রামে একাই থাকছেন তিনি।

চীনের জুয়েনসানসে গ্রামের জনসংখ্যা ১জন। গত ১০ বছর ধরে লিউ সেনজিয়া নামের ওই ব্যক্তি একাই রয়েছেন গ্রামে। ১০ বছর আগে এই গ্রামের ছবিটা কিন্তু এমন ছিল না। তখন ওই গ্রামে অনেক মানুষের বসবাস ছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক সম্পদের ঘাটতি হওয়ায় ক্রমশ গ্রাম ছেড়ে সবাই চলে যেতে থাকে। আর বয়স্ক যাঁরা যেতে পারেননি, তাঁরা মারা যান।

২০০৬ সাল থেকে শয্যাশায়ী মা এবং ভাইয়ের সঙ্গে একা গ্রামে থাকতে শুরু করেন লিউ। এক বছরের মধ্যে তার মা এবং ভাইও মারা যান। তখন থেকে গ্রামটিতে একেবারে একা বসবাস করছেন তিনি।

এত বছর ধরে একা থাকতে থাকতে একাকীত্বই লিউয়ের সঙ্গী হয়ে গিয়েছে। তিনি শিখে গিয়েছেন কীভাবে একা বেঁচে থাকতে হয়। তিনি জীবিকার তাগিদে ভেড়া প্রতিপালন করা শুরু করেন।

কীভাবে এই পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন, আর কীভাবেই বা বেঁচে আছেন, সেই বিষয় লিউ জানান, প্রথম প্রথম গোটা গ্রামে একা থাকতে তাঁর খুবই কষ্ট হত। অনেকদিন তিনি ঘুমোতে পারেননি। রাতে যখন হিংস্র কুকুরের ডাক শুনতেন, ভয়ে তিনি দুচোখের পাতা এক করতে পারতেন না। সঙ্গী হিসেবে ভেড়া প্রতিপালন শুরু করেন। ওই ভেড়াগুলো ছাড়া তাঁর আর কোনও সঙ্গী নেই। এভাবেই দিনের পর দিন একা থাকতে থাকতে ক্রমশ এই পরিস্থিতির সঙ্গেই একাত্ম হয়ে গিয়েছেন।

স্থানীয় বনবিভাগে বন পরিদর্শক হিসেবে কাজ করেন লিউ। সারা মাস কাজ করে মাত্র ১০৭ ডলার রোজগার করেন তিনি। খাবার এবং পানি সংগ্রহের জন্য তাঁকে অনেক দূরে যেতে হয়। কিন্তু কীভাবে এত কষ্ট করে বেঁচে রয়েছেন তিনি? তাঁর কি ওই গ্রাম ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করে না?

এই প্রশ্ন কারয় লিউ জানালেন, কষ্টকর ওই পরিবেশে তাঁর থাকতে কোনও অসুবিধা হয় না। তিনিও মাঝে মাঝে চান গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে। কিন্তু এত বছর গ্রামে থাকার পর গ্রামের প্রতি তাঁর একটা মায়া পড়ে গিয়েছে। তাই ভাবলেও গ্রাম ছেড়ে তাঁর আর যাওয়া হয় না।

ad

পাঠকের মতামত