স্বামীর কাছ থেকে স্বীকৃতি না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা এসএসসি পরীক্ষার্থীর গলায় ফাঁস!
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্বামীর কাছ থেকে স্বীকৃতি না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা এক এসএসসি পরীক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। পরে তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গলায় ফাঁস দেয়া আহত ওই শিক্ষার্থীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার যবসেন গ্রামে নানা হাবিব সিকদারের বাড়ি থেকে উপজেলা সদরের শ্রীমতি মাতৃমঙ্গল বালিকা বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছিলেন শিক্ষার্থী সুমি আক্তার। সুমি জন্মের পর থেকে তার নানা বাড়ি থেকে লেখাপড়া করতেন। সুমি পটুয়াখালী জেলার আমতলী গ্রামের হারুন খানের মেয়ে।
নানাবাড়ি থেকে লেখাপড়ার সুযোগে যবসেন গ্রামের নানার পাশের বাড়ির মৃত হারুন সিকদারের ছেলে সজল সিকদারের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের প্রেমের সম্পর্ক শারীরিক সম্পর্কে রূপ নেয়। একপর্যায়ে সুমি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। সুমি বিয়ের জন্য সজলকে বললে সজল সুমিকে ঢাকা নিয়ে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে তাদের বিয়ে দেখিয়ে একত্রে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। এর কিছু দিন পর সুমিকে লেখা পড়ার অজুহাত দেখিয়ে তার গর্ভের সন্তান কৌশলে নষ্ট করে তাকে পুনরায় বাড়ি এনে স্কুলে পাঠান সজল। এরপর সজলও বাড়ি ফিরে আসেন।
এরই মধ্যে তাদের শারীরিক মেলামেশায় সুমি পুনরায় অন্তঃস্বত্ত্বা হয়ে পড়েন। সম্প্রতি সুমি সজল ও তার পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্ত্রীর মর্যাদায় তুলে নিতে বললে সজল ও তার পরিবার তালবাহানা শুরু করে। এঘটনা নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই সময়ের মধ্যে সজল কৌশলে মালয়েশিয়া পাড়ি জমানোর চিন্তা করেন। বিষয়টি সুমি জেনে স্ত্রীর দাবি নিয়ে শুক্রবার রাতে সজলের ঘরে উঠলে সজল ও তার মা মজিবন বেগম সুমিকে বেদম মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন।
শুক্রবার রাতে সুমি ঘটনার বিবরণ দিয়ে আগৈলঝাড়া থানার ডিউটি অফিসার এসআই মোশারফ হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। রাতে সজল আত্মগোপন করলে শনিবার সকালে সুমি খবর পেয়ে নানার ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। বাড়ির লোকজন সুমির ঘর থেকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় সুমিকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন। শনিবার গণিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি সুমি।
এসআই মোশারফ হোসেন জানান, অভিযোগের তদন্ত করতে তিনি শনিবার দুপুরে ওই বাড়িতে যান। এসময় স্থানীয় প্রভাবশালী সহিদ পাইক পুলিশের উপস্থিতিতে সুমির বাড়িতে আসেন। এ সময় সহিদের সামনেই সুমির নানা বাড়ির লোকজন সালিশ মীমাংসার নামে একাধিক প্রহসনের বৈঠকের জন্য তাকে দায়ী করেন। এসময় সহিদ পাইক সুমি ও সজলের বিয়ে পড়িয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত জানান পুলিশকে।
সহিদ পাইক সাংবাদিকদের জানান, সুমিকে স্ত্রীর মর্যাদায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে তুলে নেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।




