‘জেলখানাই তাদের ঠিকানা’
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ বাকি আসামিদের রায় ঘোষণার পরসামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষে- বিপক্ষে মত দিচ্ছেন অনেকে। রায়ে ন্যায়বিচার হয়েছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বিএনপি।
তেমনি খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে ফেসবুকের পাতায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেছেন, ‘যারা নিরপরাধ মানুষকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দিতে পারে তারা মানুষ নয়। তারা পশু। জেলখানাই তাদের ঠিকানা।’
বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) তাঁর ফেসবুকের পাতায় দেওয়া একটা পোস্টে এসব কথা বলেছেন তিনি। এরপর একটি ছবিতে ‘আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাস ২০১৩-১৫’ পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
এর আগে ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর এবং তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে খালেদা জিয়া ছাড়া বাকি আসামিদের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়।
মামলার এজাহারে জানা যায়, ১৯৯১-৯৬ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন রমনা শাখার সোনালী ব্যাংকে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল নামে একটি অ্যাকাউন্ট খুলেন। যার নম্বর ৫৪১৬। ওই হিসাবে ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ডি ডি নং ১৫৩৩৬৭৯৭০ তে ১৯৯১ সালের ৯ জুন ১২ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার, যা তৎকালীন বাংলাদেশি মুদ্রায় চার কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা জমা হয়। পরে খালেদা জিয়া বিভিন্ন সময়ে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন আসামির নামে ‘এফডিআর’ করে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা আত্মসাতের উদ্দেশে উত্তোলন করেন। যা দণ্ডবিধির ৪০৯ এবং ১০৯ ধারা ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ ২ নং আইনের ৫ (২) ধারায় অপরাধ করেছেন। এজাহারে ঘটনার সময়কাল হিসেবে ১৩ নভেম্বর ১৯৯৩ হতে ২৮ মার্চ ২০০৭ সালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মামলায় আসামি যারা: এ মামলায় আসামি সংখ্যা ছয়জন। ওই মামলায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আসামি। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বড় ছেলে। অন্য আসামিরা হলেন, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ,প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।
পলাতক যারা: মামলার শুরু থেকেই পলাতক আছেন মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং মমিনুর রহমান। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়েছেন লন্ডনে। তাঁকে পলাতক দেখানো হয়েছে।
৪৩ দিন হাজির ছিলেন খালেদা জিয়া: মামলায় খালেদা জিয়া আদালতে ৪৩ কার্যদিবস আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দেন আট কার্যদিবস। মামলাটি ২৬১ কার্যদিবস পরিচালিত হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় এক মাস নয়দিন কারাভোগ করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রায়ে সাজা হলে এসব দিন তার সাজা থেকে বাদ যাবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ওয়ান ইলেভেনের সময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আটক হওয়ার পর রমনা থানায় ৩ জুলাই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা দায়ের করা হয়। পরে এ মামলায় তাঁকে আটক দেখানো হয় ১ মাস ৯ দিন অর্থাৎ ২০০৮ সালের ১৭ জুলাই থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত খালেদা জিয়া কারাভোগ করেন।
এক নজরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা: রমনা থানায় ২০০৮ সালের ৩ জুলাই মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর রশিদ। এজাহারে টাকা আত্মসাতের (ঘটনার) সময়কাল হিসেবে ১৩ নভেম্বর ১৯৯৩ হতে ২৮ মার্চ ২০০৭ সালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলার কার্যদিবস-২৬১ দিন, খালেদা জিয়া হাজিরা দেন ৪৩ দিন, খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থনে বক্তব্য দেন আটদিন। গত ২৫ জানুয়ারি ২০১৮ রায়ের দিন ধার্য করেন বিশেষ আদালত ৫-এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান রায়ের দিন ধার্য -৮ ফেব্রুয়ারি ।




