196927

রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী!

রোকেয়া প্রাচী, বাংলাদেশি অভিনেত্রী ও নির্মাতা। বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘জয় পরাজয়’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে টিভি নাটকে তার পদার্পণ। ১৯৯৭ সালে ‘দুখাই’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় তার আবির্ভাব চমক সৃষ্টি করে। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি টিভি নাটক ও কাহিনিচিত্র নির্মাণে ব্যস্ত তিনি। ইতোমধ্যে নির্মাণ করেছেন বেশ কয়েকটি টেলিছবিও।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সহিদ রহমানের গল্প অবলম্বনে নির্মিত কাহিনিচিত্র ‘কবি ও কবিতা’ পরিচালনা করেছেন রোকেয়া প্রাচী। কাহিনিচিত্রটি দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এর আগে ২০০৯ সালে তিনি একটা প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছিলেন, মূলত সেটাই ছিল তার প্রথম পরিচালনা। এরপরে তিনি ‘লুৎফুন্নেসা’ ও ‘বায়ান্ন’র মিছিলে’ নামে আরও দুটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছিলেন। তার পরপর তিনটি ছবি মনোনীত হয়েছিল অস্কারের জন্য।

এবার রোকেয়া প্রাচীর বৈশিষ্ট্যে যোগ হলো রাজনীতিক তকমা। বেশ কয়েক বছর ধরে রাজনীতির মাঠেও সরব এ অভিনেত্রী। বিভিন্ন সামাজিক কাজে তার ব্যস্ততা তার সাক্ষ্য। মহিলা আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করছেন। তাই কমিয়েছেন অভিনয়ের ব্যস্ততা।

গুণী এ অভিনেত্রী এবার সরাসরি মানুষের সেবায় নিয়োজিত হতে চান। তাই আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজ এলাকা ফেনী-৩ (সোনাগাজী) আসনে যাতায়াত করছেন নিয়মিত। সপ্তাহ ঘুরতেই এলাকার মানুষের সঙ্গে দেখা করছেন, শুনছেন তাদের কথা।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণ করার বিষয়েও আগ্রহ রয়েছে তার। তবে শুধু নির্বাচনে অংশ নিতে চান বলেই রাজনীতির মাঠে তিনি সক্রিয়- ব্যাপারটা সে রকমও নয়। নির্বাচনে একজন কর্মী হিসেবেই অংশ নিতে চান তিনি, দলের সাধারণ কর্মীর মতোই কাজ করে যেতে চান।

পারিবারিকভাবেও প্রাচীর পরিবার বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী। তার বাবা ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা, মিরপুর শ্রমিক লীগের সভাপতিও ছিলেন তিনি। পরিবারের সূত্রেই রাজনীতিটা আয়ত্ত করেছেন এ অভিনেত্রী। তিনি মনে করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি হচ্ছে রাজনীতির সংস্কৃতি। এ দলটির কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে যেভাবে কাজ করে, অন্য দলের কর্মীরা সে রকমটা করে না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু নিজেও মাঠের রাজনীতিক ছিলেন, ভালোবাসতেন মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের। ফলে তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটি কর্মীকে দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করতে হবে।

সম্প্রতি শ্রমিক কর্মচারী পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের তৃতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতেও দেখা গেছে এ অভিনেত্রীকে। গত ৩১ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চ প্রাঙ্গণে এই আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা রাখেন তিনি। অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: প্রিয়

ad

পাঠকের মতামত