190762

সুইডেনে পালিয়ে গেলেও কিলিং গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করা কে এই নাহিদ?

সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ছাত্রদলের এক নেতা নাহিদের বিরুদ্ধে সুইডেনে বসে দেশে কিলিং গ্রুপ নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হচ্ছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশও বলছে, রাজনৈতিক প্রতিকূল অবস্থার কারণে দুই বছর আগে সুইডেনে পালিয়ে গেলেও তার নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হচ্ছে রাজধানীর একাধিক কিলার গ্রুপ।

রোববার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের প্রচার উপ-কমিটি আয়োজিত ‘বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের খণ্ডচিত্র’ শীর্ষক প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘যারা ৯ বছর আন্দোলনে ব্যর্থ, সরকারকে বিব্রত করা ও সরকারের ভাবমূর্তি দেশ-বিদেশে ক্ষুণ্ণ করার জন্য তারাই দেশে সিরিয়াল খুন ও গুমের ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাদের একজন সুইডেনে বসে কিলিং গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করছে, তার নাম নাহিদ।’

গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, রাজনৈতিক প্রতিকূল অবস্থার কারণে দুই বছর আগে সুইডেনে পালিয়ে গেলেও নাহিদের নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হচ্ছে রাজধানীর একাধিক কিলার গ্রুপ। ওই গ্রুপগুলোই ঢাকায় ভাড়ায় হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে।

প্রবাসী ছাত্রদল নেতা নাহিদের নিয়ন্ত্রিত কিলার গ্রুপ বনানীতে ব্যবসায়ী সিদ্দিক হত্যার আগে ২০১৬ সালের বাড্ডা এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহবুবুর রহমান গামাসহ (ফোর মার্ডার) চারজনকে গুলি করে হত্যা করে বলে পুলিশ দাবি করছে।

তারা বলছে: ২০০৪ সালে মহাখালীর পানসি হোটেলের সামনে ডাবল মার্ডার, রাজধানীতে আবদুল মালেক নামের আরেক ব্যক্তিকে হত্যার সঙ্গে জড়িত নাহিদের কিলার গ্রুপ।

গত ১৪ নভেম্বর রাতে বনানীতে এস মুন্সি ওভারসিজ রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক সিদ্দিক হোসেনকে গুলি করে হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী মো. হেলাল উদ্দিনকে গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ছাত্রদল নেতা নাহিদ সম্পর্কে তথ্য পায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, সুইডেনে পলাতক ছাত্রনেতা নাহিদের বন্ধু কিলার হেলাল উদ্দিন। বিদেশে বসে হত্যার নির্দেশ দেয় নাহিদ। আর হেলাল দেশে বসে তা বাস্তবায়ন করে।

তিনি বলেন, বিদেশে বসে বন্ধু হেলালকে দিয়ে কিলার গ্রুপ চালায় সে। কিলার গ্রুপগুলো হত্যা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অস্ত্র বিক্রি ও ভাড়াসহ নানা অপকর্মে জড়িত। আর এসব অপকর্মের টাকায় বিদেশে বসে বিলাসী জীবনযাপন করছে ওই ছাত্রদল নেতা। আর সুইডেনে বসেই বনানীর ব্যবসায়ী হত্যার নির্দেশনা দেয় সে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ২০১৩-১৪ সালে কর্মসূচির নামে বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও পোড়াও কর্মকাণ্ডের সময় রাজধানীতে সক্রিয় ছিল সুইডেনে পলাতক ওই ছাত্রনেতা। একাধিক মামলায় গ্রেফতারও হয়েছিল সে।

জামিনে বেরিয়ে দুই বছর আগে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় সে। পালানোর আগে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও মিরপুর এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত । আর এখন বিদেশে বসেই মোটা অঙ্কের আর্থিক চুক্তিতে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে। উৎস: চ্যানেল আই অনলাইন।

ad

পাঠকের মতামত