‘১৩০ দিন কোথায় ছিলাম আমি তাও জানি না’
১৩০ দিন নিখোঁজ থাকার পর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং এবিএন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ সাদাত আহমেদের নিজেও জানেন না এতো দিন তিনি কোথায় ছিলেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই সাইফুল ইসলাম খান তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেলে তার ৩ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করে আদালত। ২০১৫ সালে দায়ের করা একটি মামলায় রোববার ঢাকা মহানগর হাকিম প্রণব কুমার হাই এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রোববার রিমান্ড আবেদনের শুনানির আগে তাকে আদালতের কাঠগড়ায় ওঠানোর পর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন গত ২২ আগস্ট তাকে তুলে নেওয়ার পর আমার চোখ বেধে ফেলা হয়। এরপর আমাকে কোথায় রাখা হয়েছিল আমি জানি না। কারা তুলে নিয়েছিল তাও বলতে পারব না। শনিবার রামপুরা ব্রিজের উপর নামিয়ে ওরা আমাকে দেয়। সেখানে দিকবেদিক ঘুরাঘুরির সময় ডিবি পুলিশ আমাকে আটক করে নিয়ে যায়।
পুলিশের দাবী শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রামপুরা ব্রিজের পাশে একটি ব্যাগসহ সাদাতকে পাওয়া যায়। তার ব্যাগে একটি ল্যাপটপ, ৩টি মোবাইল ফোনসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক চেক ও নথি ছিল।
রিমান্ড আবেদনের শুনানিকালে সৈয়দ সাদাতের পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, গত ২২ আগস্ট বিমানবন্দর সড়কের বনানী ফ্লাইওভারের নিচ থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন সৈয়দ সাদাত আহমেদকে তার ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। ওই সময় গাড়িতে সাদাতের ছেলেও ছিল। কিন্তু তাকে নেয়নি অপহরণকারীরা। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। ওই ঘটনায় ঘটনায় সাদাতের স্ত্রী ক্যান্টনমেন্ট থানায় অপহরণ মামলা করেন। আমাদের সৌভাগ্য যে তিনি জীবিত ফিরে এসেছেন। এখন ২০১৫ সালের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা সারপ্রাইজ ছাড়া আর কিছুই নয়।
শুনানির পর ওই আইনজীবী এক প্রশ্নের জবাবে এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা সবাই বুঝতে পারছি যে কি হয়েছিল। কিন্তু এ কথা এখন বলা সম্ভব নয়।




