189688

স্বামী ও সন্তানদের অবর্তমানে জানালা ভেঙ্গে ৭ জন মিলে গৃহবধুকে পালাক্রমে গনধর্ষণ!

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোলানখুড়ি গ্রামে স্বামী ব্যাক্তিগত কাজে বাড়ির বাইরে থাকার সুবাদে স্বামীর বন্ধুবান্ধবসহ স্থানীয় সাতজনের দ্বারা রাতভর নির্মম কায়দায় পালাক্রমে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক গৃহবধু। এ ঘটনায় পুরো এলাকজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতংক । বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবার দাবী তুলেছে।

ঘটনার শিকার গৃহবধু জানিয়েছেন ষে রাতে তার দুই সন্তান ছিলো ঠাকুরগাঁয়ে এবং স্বামী ছিলেন ঢাকায়। এই সুযোগে সাতজন তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য রবীন্দ্র চন্দ্র রায় ও আব্দুল গফুর নামে দুইজনকে আটক করেছে।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোলানখুড়ি গ্রামের হামিদুর রহমান ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় যায়। শুক্রবার রাতে ওই গৃহবধূ মাটির ঘরে একাকি ঘুমিয়েছিলেন।

রাত দেড়টার দিকে তার শয়ন ঘরের জানালা ভেঙে ২/৩ জন লোক ঘরে প্রবেশ করে এবং কাপড় দিয়ে মুখ বেঁধে তাকে বাড়ির পাশে একটি বাঁশ ঝাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে প্রতিবেশী জালাল উদ্দীন, রবীন্দ্র চন্দ্র রায়, মানিক নামে তিনজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর তারা ওই গৃহবধূকে একটি নদীর ধারে নিয়ে গিয়ে আরো চার যুবক যথাক্রমে লিয়াকত, হামিদুর, আব্দুল গফুর ধর্ষণ করে।

ধর্ষনকারীরা গৃহবধূর মুখ কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে দিয়ে একটি বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পালিয়ে যায়। সকাল পর্যন্ত সেখানে বাঁধা ছিলেন তিনি। সকাল ৬টার দিকে স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই গৃহবধূ।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারী বলেন, তার স্বামী ঢাকায় গিয়েছেন এবং তার সন্তানরা ঠাকুরগাঁওয়ে লেখাপড়া করে। এ কারণে তিনি বাসায় একা ছিলেন।

শনিবার রাত দেড়টার দিকে হঠাৎ একটি শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায় এবং শব্দ পেয়ে বিছানা থেকে উঠে তিনি স্থানীয় জালাল উদ্দীন, রবীন্দ্র চন্দ্র রায়, মানিক, লিয়াকত, হামিদুর, আব্দুল গফুরসহ সাত জনকে দেখতে পান। তারা জানালা ভেঙে ঘরে ঢোকে বলে জানান গৃহবধূ।

“এরপর তারা আমাকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মুখ চেপে ধরে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে একটি বাঁশ ঝাড়ে যায় এবং সেখানে দলবেঁধে ধর্ষণ করে।”

এ সময় তিনি চিৎকার করলে হামলাকারীরা তার মুখে কাপড় পেঁচিয়ে দেয় এবং একটি বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গলায় ছুরি চালিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পরদিন সকাল ৬টার দিকে স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় বলে তিনি জানান।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন শাহজাহান নেওয়াজ বলেন, “গৃহবধূকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গৃহবধূর গলায় ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে; গলায় কাটা দাগ রয়েছে।”

ধর্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, “ধর্ষণের বিষয়ে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছি; রিপোর্ট হাতে পেলেই পরিষ্কারভাবে বলা যাবে।”

বড়গাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাত সিংহ বলেন, গৃহবধূর পরিবারের সঙ্গে একটি মামলা নিয়ে রবিনের বিরোধ চলছিল। তার জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কফিল উদ্দীন জানান, “হাসপাতালে গিয়ে গৃহবধূর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি।”

বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান পরিদর্শক কফিল।

ad

পাঠকের মতামত