187250

‘আমি মরতে রাজি, ছাড়তে রাজি নই’

মরতে রাজি, ছাড়তে রাজি নই- টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের পাচুড়িয়া গ্রামে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেছে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী।

তার নাম নিলুফা আক্তার (১৭)। সে লাউহাটি এম.আজাহার মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও পাশ্ববর্তী স্বপ্ললাড়ো গ্রামের আ. রশিদ মিয়ার মেয়ে।

সোমবার বিকেল থেকে এই অনশন শুরু করে।

মেয়ের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ৬ মাস আগে পাচুড়িয়া গ্রামের মো. ফজল মোল্লার ছেলে মো. হৃদয় মোল্লার সাথে অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম ইমোতে কথা হয় তার।

সেখান থেকে ইমো ফেসবুক ও মোবাইলে কথা বলার মাধ্যমে তাদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। শুধু তাই নয় হৃদয় রাতের বেলায় মেয়েটির বাড়িতেও যাতায়াত করতো বলেও জানিয়েছে মেয়েটি।

মেয়েটির দাবি হৃদয় তাকে বিয়ে করবে বলে গত সোমবার তার বাড়িতে চলে আসতে বলে। আর সে অনুযায়ী চলে আসে সে। কিন্তু হৃদয় এখন সব সম্পর্ক অস্বীকার করছে। তাকে তার বাড়ির লোকজন ও সে মেনে নেবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। রাতে ঘরে ঘুমোতে না দিয়ে তাকে রান্না ঘরে থাকতে দেয়া হয়েছিলো।

এমনকি তাকে শীতের কাপড় পর্যন্ত দেয়া হয়নি। হৃদয়ের পরিবারের লোকজন তাকে টেনেহেচড়ে রাস্তায় গিয়ে রেখে আসে। পরে বিয়ের দাবিতে সে আবার হৃদয়ের বাড়ি অবস্থান নেয়।

এ নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের লোকজন শালিস বৈঠকে বসে কোন সুরাহা দিতে পারেনি। বরং স্থানীয় মেম্বারের সিদ্বান্তে অভিযুক্ত হৃদয়কে জুতো কামড় দিয়ে ৩ বার কানে ধরে উঠবস করানো হয়। মেম্বারের এমন স্বিদ্ধান্তে মেয়ে পক্ষের লোকজন শালিস বৈঠকে থেকে উঠে যান।

এদিকে সাংবাদিকদের সামনে হৃদয় প্রেমের সম্পর্ক অস্বীকার করায় মঙ্গলবার দুপুরে হৃদয়ের বাড়িতে অবস্থান নেয়া মেয়েটি ঘরে দরজা লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে বাড়ির লোকজন ঘরের দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে হৃদয় মোল্লা বলেন, আমি লাউহাটি আরফান ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। নিলুফার সাথে আমার অনলাইনে কথা হতো। কিন্তু তার সাথে আমার কোন প্রেমের সম্পর্ক নেই। আমি তাকে বিয়ে করতে পারব না। আমি লেখাপড়া শেষ করতে চাই। পরে যা হবার হবে। তার সাথে আমার কোন শারিরিক সম্পর্ক নেই।

এ সময় নিলুফা তার মোবাইলে হৃদয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক প্রমান করতে সাংবাদিকদের কিছু এসএমএস দেখান। এবং হৃদয়ের সাথে শারিরিক সম্পর্ক দাবি করে বিয়ে না দিলে আত্মহত্যা করবে বলে প্রকাশ্যে সবাই কে জানিয়ে দেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

হৃদয়ের বাবা ফজল মোল্লা ও তার মা জানান, প্রেমের সম্পর্ক আছে কিনা আমরা জানিন। আমাদের ছেলে এমন কাজ করতে পারেনা। আর ওরা দুজনেই বিয়ের অনুপযোগী। তার পরও এলাকার গন্যমাণ্যরা বসে যে স্বীদ্ধান্ত দেবেন আমরা তা মেনে নেব।

নিলুফার বাবা আ. রশিদ মিয়া জানান, ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়ে গেছে। আমরা শালিস বৈঠকে যা প্রত্যাশা করেছিলাম তা পাইনি। আমি চাই এর সুষ্ঠ সমাধান হোক। যাতে আমাদের সম্মান বাচেঁ।

এলাকাবাসী অনেকেই জানান, ওই দুই জনের সাথে গভীর সম্পর্ক আছে এটা আর কারো বোঝার বাকি নেই। তাই সম্মান থাকতে দুই পক্ষের উচিৎ হবে অনাকাঙ্খিত কোন ঘটনা ঘটার আগেই পারিবারিক ভাবে দুজনের বিয়ের কাজ সম্পন্ন করা।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য স্বপন মিয়া জানান, ঘটনাটি শুনে আমি দুই পক্ষের লোকজন নিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করেছি। কিন্ত তা পারেনি। চেয়ারম্যান মহোদয় কে অবহিত করেছি।

যেহেতু মেয়েটির বয়স সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্ত বয়ষ্ক হয়নি তাই আমি তাদের বিয়ের ব্যাপারে স্বীদ্ধান্ত নিতে পারিনা। তবে স্থানিয় প্রশাসন যে স্বীদ্ধান্ত দেবে আমি সে ভাবেই কাজ করবো।

ad

পাঠকের মতামত