‘ফিরে এসে আমাদের মেরে তার পরে চলে যেও’
ছিলেন ফুটবলার। এই জগতে তার উন্নতির সম্ভাবনাও দেখেছিলেন কোচ এবং সতীর্থরা।
কিন্তু জীবনে আচমকাই পরিবর্তন আসে তার। কাশ্মীরের ফুটবলার আর্শিদ মাজিদের সঙ্গে সাক্ষাত হয় লস্কর-ই-তৈয়বা জঙ্গিদের। অন্য শিকারের মতই ব্রেন ওয়াশ করা হয় মজিদের। ফুটবলের সোনালী জগত ছেড়ে মজিদ পা বাড়ান জঙ্গিদের অন্ধকার জগতে।
কিন্তু ভয়াবহ পরিণতি বরণ করার আগেই সুপথে ফিরে এসেছেন এই তরুণ। এই অসম্ভব ঘটনার পেছনে একজনই ক্রীড়ানক- মজিদের মমতাময়ী মা। গত ১০ নভেম্বর ফেসবুকে পোস্ট করে মাজিদ জানিয়েছিলেন, তিনি লস্কর-ই-তৈয়বায় যোগ দিচ্ছেন। এরপরই তার মা আয়েশা খান একটি ভিডিও পোস্টে ছেলেকে ফিরে আসার অনুরোধ করেন।
সেই ভিডিওতে বাষ্পরূদ্ধ কণ্ঠে আয়েশা খান বলেন, ‘ফিরে এসো বাবা…।
ফিরে এসে আমাদের মেরে তার পরে চলে যেও। আমাকে কার কাছে রেখে গেছ? অসুস্থ বাবার কথা ভেবে ফিরে এস। ‘
দ্রুতই মাজিদের মায়ের এই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায় কাশ্মীর জুড়ে। এর মধ্যেই গত মঙ্গলবার তার বাবার একটি মৃদু হার্ট অ্যাটাকও হয়। মা কাঁদছেন। বাবা করুণ আবেদন করছেন। এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই কাশ্মীরের তরুণ ফুটবলার আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারেননি। মায়ের আকুল আহবানে সাড়া দিয়ে মজিদ সিদ্ধান্ত নিলেন জঙ্গিদের সঙ্গে আর থাকবেন না।
যেই ভাবা সেই কাজ। মাঝরাতে নিকটবর্তী সেনা ছাউনিতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন ২০ বছর বয়সি মাজিদ আর্শিদ খান। এক অনন্য ইতিহাস রচিত হয় মা আর ছেলের ভালোবাসার। নাড়ির টানে। আত্মসমর্পণের পর পরিবারের একমাত্র সন্তান মাজিদকে মা আয়েষা ও বাবার সঙ্গে আলাদা করে দেখা করতে দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ কাশ্মীরের আওয়ান্তিপুরায় সেনা ভিক্টর ফোর্সের সদর দফতরে আপাতত মজিদকে রাখা হয়েছে।
সেনা সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, আপাতত মজিদকে সেনা শিবিরেই রাখা হবে। তবে তাকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভিক্টর ফোর্সের জিওসি মেজর জেনারেল বিএস রাজু। দেশটির সেনাবাহিনী এবং পুলিশ এক বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করেছে, এভাবে যদি বাবা-মায়েরা জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়া ছেলেদের উদ্দেশ্যে আবেদন জানান, তা হলে মাজিদের মতোই অনেকে আবার সুন্দর জীবনে ফিরে আসতে পারবে।









