180201

স্কুল শিক্ষিকার কাছে হেরে গেল অপহরণকারীরা, যেভাবে কৌশলে পালিয়ে এলেন

অপহরণের ২ দিন পর কৌশলে অপহরণকারীদের কবল থেকে পালিয়ে এসেছেন কুমিল্লার হোমনার স্কুল শিক্ষিকা কুমারী কিশোরী বালাধর (৫০)। শনিবার দুপুরে তিনি চট্টগ্রামের সিতাকুন্ড থেকে ঢাকাগামী বাসযোগে এলাকায় ফিরে আসেন। বাসায় ফিরে বিকেলে তিনি সাংবাদিকদের কাছে অপহরণ ও সেখান থেকে পালিয়ে আসার রোমহর্ষক কাহিনী বর্ণনা করেন। কুমারী কিশোরী বালাধর উপজেলার কৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ও উপজেলার ভাষানিয়া ইউনিয়নের ওমরাবাদ গ্রামের মৃত অনাথ সুত্র ধরের মেয়ে।

স্কুল শিক্ষিকা কুমারী কিশোরী বালাধর সাংবাদিকদের জানান, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে তিনি হোমনা উপজেলা সদরের বাসা থেকে পাশে তিতাস নদীতে গোসলের উদ্দেশ্যে বের হন। নদীর ঘাটে পৌঁছার আগেই উপজেলা খাদ্য গুদাম সংলগ্ন রাস্তায় অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি তার পথরোধ করে। এক পর্যায়ে অপহরণকারীরা তাকে জোরপূর্বক একটি কালো গাড়িতে তুলে নিয়ে মুখে রুমাল চেপে ধরেন। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।

শুক্রবার বিকেলে তার জ্ঞান ফিরলে দেখেন তিনি একটি কক্ষে আটকা। ওই কক্ষে এর আগে আরও দুটি মেয়ে ও ৩ জন শিশু নিয়ে আটকে রাখা হয়। এদের একজনের নাম তিশা। ওই দিন সন্ধ্যায় মুখ বাধা অবস্থায় একজন মহিলা জানালা দিয়ে তাদেরকে পাউরুটি ও চা খেতে দেয়। তিনি আরও জানান, শনিবার সকালের দিকে কেউ একজন মুখে কালো কাপড় বেধে এসে তাদের সঙ্গের একটি বাচ্চা নিয়ে যায়। পরে তিনি ওই দরজায় ধাক্কা দিলে দরজাটি খুলে যায়, মনে হয় অপহরণকারীরা দরজা আটকাতে ভুলে গিয়েছিল। তাই সুযোগ বুঝে তিনি ও তিশা দৌঁড়ে অপহরণকারীদের আস্তানা থেকে রাস্তায় পালিয়ে এসে দেখেন ওই স্থানটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুন্ড এলাকা।

সেখান থেকে তিনি ও তিশা নামের ওই মেয়ে মেঘনা পরিবহনের একটি বাসে উঠেন। পথিমধ্যে তিশা নেমে গেলেও তিনি দাউদকান্দির গৌরীপুরে এসে বাস থেকে নেমে বাড়ি ফিরেন। সন্ধ্যায় এ বিষয়ে হোমনা সার্কেল সাইফুর রহমান আজাদ ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রসুল আহমেদ নিজামী জানান, অপহরণকারীদের আস্তানা থেকে ফিরে আসা ওই স্কুল শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য নেয়া হয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় কেউ জড়িত ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ad

পাঠকের মতামত