179268

নতুন সিএনজির দাম ৩.৬ লাখ, পুরনো বিক্রি হচ্ছে ২০ লাখ টাকায়

শো-রুম থেকে নতুন সিএনজি অটোরিকশা কিনতে দাম পড়বে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। কিন্তু পুরনো সিএনজি কিনতে গেলে দাম পড়বে ২০ লাখ। এর ফলে নতুন গাড়ির চেয়ে পুরনো গাড়ির দাম ৬ গুণেরও বেশি।

বাজারে নতুন সিএনজি অটোর (বাজাজ) দাম সাড়ে ৩ লাখ থেকে ৩ লাখ ৬৫ হাজারের কোঠায়। আর ঢাকা মহানগরীতে নিবন্ধিত গাড়ির দাম ২০ লাখ করে কিনতে হবে মালিকানা পরিবর্তনের মাধ্যমে। তবে এ ক্ষেত্রে কয়েক দফা হাত বদলের কারণে দামের এই ফারাক বলে ধারণা দিয়েছে পরিবহনকর্মীরা। তাদের মন্তব্য এ নিয়ে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ছাড়া পুরনো গাড়িও কেনার সুযোগ কম। অথচ একটি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন খরচ মাত্র ১৩ হাজার ২০০ টাকা। আর ১৬৭০ টাকা মালিকানা বদলির ফি।

এ ছাড়া বাড়তি খরচ ধরলে এক বছরের ফিটনেস ফি ১১০০ টাকা, ট্যাক্সটোকেন ফি ২৭০০ টাকা। আর গাড়ি থার্ড পার্টি ইন্স্যুরেন্স ফি খরচ বড়জোর ৫৫০ টাকা। আরেকটি খরচ যোগ করা হয়, তা হলো মালিকের আয়কর বাবদ ২৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকা। কিন্তু গাড়ির দাম দাঁড়াচ্ছে ১৮ লাখ থেকে ২০ লাখ; যা অকল্পনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য।

সূত্রমতে, ঢাকা মহানগরীতে বর্তমানে ১২ হাজার ৭১৫টি নিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশা রয়েছে। এ ছাড়া আরও ৯৩৬টি রয়েছে মিশুকের প্রতিস্থাপন। সব মিলিয়ে ১৩ হাজার ৬৫২টি অটোরিকশা চলছে। এর মধ্যে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ১৫ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৫ হাজার ৫৬১টির। বাকিগুলোর মেয়াদ শেষ হবে আগামী বছর।

আর চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলরত ১৩ হাজার সিএনজি অটোর মধ্যে ৭ হাজার ৪৫৯টির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এ বছর। এ অবস্থায় আরও ৬ বছর মানে মোট ২১ বছরের মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যাপারে মতামত চাইছে বিআরটিএ। অথচ বুয়েট আগেই বলেছিল দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের বিবেচনায় ৬ শর্তে তখন মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল। যদিও ওই শর্তগুলো যথাযথভাবে মানেনি অটোরিকশা কর্মীরা।

দামের এই ব্যবধানের কারণ রাজধানীতে চলাচলের নিবন্ধন থাকা, না থাকা। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা শহরে সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন বন্ধ। তাই বর্তমানে চলাচলরত একেকটি পুরনো গাড়ি কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। ৯ বছর চলাচলের জন্য আমদানি করা গাড়ি চলছে ১৫ বছর। এ বাস্তবতায় প্রায় অকেজো অটোরিকশার মেয়াদ ২১ বছর করার প্রস্তুতি চলছে।

বিআরটিএর পক্ষ থেকে এসংক্রান্ত মতামত চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে। এর পর গাড়ির ইঞ্জিন ও সিলিন্ডার প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে মেয়াদ বাড়ানোর মতামত চাওয়া হয় বুয়েটের কাছে। বিআরটিএর চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান বলেন, মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারে বুয়েটের মতামত চাইতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে সরকারনির্ধারিত ভাড়ায় গাড়ি না চলা, মিটার না মানা আর যাত্রীর চাহিদামতো গন্তব্যে যাওয়ার শর্ত কখনই মানেনি অটোরিকশার মালিক-শ্রমিকরা। এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে পরিবহন নেতাদের চাপে এখন চলাচলের অনুপযুক্ত অটোর মেয়াদ বাড়ানোতেই মন দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ।

পরিবহনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, লক্কড়-ঝক্কড় এসব যানবাহন প্রায়ই রাস্তায় অকেজো হয়ে যায়। এগুলোর পরিবর্তে নতুন করে গাড়ি নামানো ঠেকাতে সক্রিয় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তারা পুরনো গাড়ির মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলে মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা নিচ্ছে। একই তালিকায় আগেও চাঁদাবাজি হয়েছে। এভাবে ৯ বছর মেয়াদ ধরে আনা গাড়ি ২০১১ সালে প্রথম ১ বছর, ২০১২ সালে আবার ১ বছর এবং ২০১৪ সালে আরও ৪ বছরের জন্য সময় বাড়ানো হয়। ফলে বয়স দাঁড়ায় ১৫-এ। এবার তা ২১ বছরে উন্নীত করার তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। মিলছে সফল হওয়ার আভাস।

অপরদিকে বিআরটিএ সূত্র জানায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর সিএনজি অটোরিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদে ব্যানারে ১৮ ও ১৯ অক্টোবর ধর্মঘট ডাকা হয়। তাদের দাবি ছিল পুরনো অটোর মেয়াদ ৬ বছর বাড়ানো। অটো-মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ঝুঁকিপূর্ণ এসব গাড়ির মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু।

ad

পাঠকের মতামত