178351

আহা, সৌম্য যদি আউট না হতো!

টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ শেষে এই আফসোসটাই তাড়া করে ফিরছে বাংলাদেশি সমর্থক আর নিশ্চিতভাবেই ড্রেসিংরুমে। অনেকদিন পরে রুদ্ররূপে দেখা দেওয়া সৌম্য সরকার যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন ততক্ষণ এই ম্যাচে জয় নিশ্চিত ধরে নিয়েছিলেন অনেকে।

উইকেটের চারপাশে দেখা যাচ্ছিল চোখ ধাঁধানো সব শট। এরপর আর কেউ দায়িত্ব নিতে পারলেন না। অধিনায়ক সাকিব, মুশফিক, সাব্বির, মাহমুদ উল্লাহ কেউ না। তাই যাত্রার মাঝপথে পথ হারিয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২০ রানে হেরে গেল বাংলাদেশ।
১৯৬ রানের বিশাল টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ঝড়ো শুরু করেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস এবং সৌম্য সরকার। টানা ব্যর্থতার পর অনেকদিন পর স্বরূপে দেখা দেন সৌম্য। চোখ ধাঁধানো শট আর ভয়ানক আগ্রাসনে প্রোটিয়া বোলারদের নাকাল করে ছাড়েন তিনি। অন্যপ্রান্তে যথারীতি ব্যর্থ ১০ রান করে হেনরিক্সের বলে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন ইমরুল কায়েস। ৪৩ রানে ভাঙে ওপেনিং জুটি।

তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে আসেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৮ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১৩ রান করে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার। শুরু থেকেই চোখ ধাঁধানো সব শট খেলে প্রোটিয়াদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন সৌম্য সরকার। প্রতিটি শটে ছিল পরিপূর্ণ আত্মবিশ্বাসের ছটা। রান এগোচ্ছিল ঝড়ের গতিতে। ইমরুল কিংবা সাকিব আউট হওয়ার পরেও সেই গতি থেমে যায়নি। সেই সৌম্যকে রিভিউ নিয়ে ফেরানোর পর পথ হারায় বাংলাদেশ।

ফেলাকায়োর বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে ফেরার আগে ৩১ বলে ৫ চার ২ ছক্কায় ৪৭ রান করে সৌম্য সরকার। এই তরুণের বিদায়ের পরেই পথ হারায় বাংলাদেশ। দ্রুত ফিরে যান মুশফিকুর রহিম (১৩) এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৩)। ২ ছক্কায় ১৯ রান করা সাব্বির ফিরেন হেনরিক্সের বলে ক্যাচ দিয়ে। খেলাটা মূলতঃ তখনই শেষ হয়ে যায়। এই আসা যাওয়ার মিছিল চলতেই থাকে। শেষ অবধি নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৭৫ রান তুলতে সক্ষম হলো বাংলাদেশ। তরুণ সাইফউদ্দিন ২৭ বলে ৩ চার এবং এক ছক্কায় ৩৯ রানে অপরাজিত রইলেন।

এর আগে ব্লুমফন্টেইনে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা। স্বাগতিকদের শুরুতেই ধাক্কা দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দলীয় ১৮ রানে এই তরুণ অল-রাউন্ডারের বলে সরাসরি বোল্ড হয়ে যান টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে ভোগানো হাশিম আমলা (৩)।

এরপর ৭৯ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং কুইন্টন ডি কক। ২৭ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৪৯ রান করা বিধ্বংসী ভিলিয়ার্সকে নিজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন মেহেদি মিরাজ। মিরাজের বলে মাহমুদ উল্লাহর তালুবন্দী হন তিনি।

প্রোটিয়া দূর্গে তৃতীয় আঘাত হানেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডারের ঘূর্ণিতে ১৩ রান করে ফিরেন প্রোটিয়া অধিনায়ক জেপি ডুমিনি। সহজ ক্যাচ কঠিন করে দ্বিতীয় বারের চেষ্টায় তালুবন্দী করেন ইমরুল কায়েস।

এরপর ওপেনার কুইন্টন ডি কককে (৫৯) এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন রুবেল হোসেন। রুবেলের দীর্ঘ আবেদনের পর বেশ কিছুক্ষণ ভেবে আঙুল তোলেন আম্পায়ার। পঞ্চম উইকেটে বেহারদিন-মিলারের ৬২ রানের ঝড়ো জুটিতে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান তোলে প্রোটিয়ারা। উল্লেখ্য, গত বছর জানুয়ারিতে খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৬৩ রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ। ওটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান চেজের রেকর্ড।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *