173644

ক্রেতার চেয়ে দালাল বেশি

নীলফামারীর বিভিন্ন হাটবাজারে কোরবানির গরু উঠতে শুরু করেছে। তবে কেনা-বেচা জমে ওঠেনি এখনো। কোরবানির হাটে এবারে ক্রেতার চেয়ে দালালের সংখ্যাই বেশি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া বন্যার কারণে এলাকার মানুষ চরম দুর্দশায় পড়েছেন। এবারের ভয়াবহ বন্যায় নীলফামারীর সৈয়দপুরে কৃষকদের ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

ফলে তাদের হাতে নগদ টাকা-পয়সার চরম অভাব দেখা দিয়েছে। এ কারণে যেসব কৃষক এককভাবে কোরবানির গরু দিতেন তারা এখন ভাগে কোরবানি দেওয়ার চিন্তা করে হাটে এসেছেন। ঢেলাপীর, তারাগঞ্জ, বেনীরহাট ঘুরে দেখা গেছে, গরু হাটে নিয়ে আসার আগেই দালাল গরুর দড়ি ধরে নিয়ে দরদামে গরু হাতে নিচ্ছেন দালালরা। এরপর মালিক সেজে সেই গরু বেশি দামে বিক্রি করে গরুর মালিককে কম দেওয়ার কারণে প্রায় বচসা হচ্ছে। ফলে হাটগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েই চলেছে।

নীলফামারীর সৈয়দপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নওশাদ ২ লাখ টাকায় ঢেলাপীর হাটে একটি ষাঁড় কেনে পিকআপে নিয়ে যান। তিনি বলেন, গরুর দাম এবারে মোটামুটি সহনীয় তবে হাটে দালালদের দাপটে ক্রেতারা অসহায় হয়ে পড়েছেন। এদিকে বন্যার পর মধ্য ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা খুবই কষ্টে আছে। গ্রামে চুরি ও ছিনতাই বাড়ছে। লোকজন পেটের জ্বালায় হাঁস, মুরগি, গবাদি পশু এমনকি স্ত্রীর নাক ফুল, মেয়ের কানের রিং ঘরের টিন বিক্রি করে দিচ্ছে দরিদ্র পরিবারগুলো। অপরদিকে বিভিন্ন এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে দিশাহারা হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের অভাবি মনুষেরা। প্রতিদিন শত শত মানুষ ইউপি অফিস ও মেম্বার, চেয়ারম্যান এবং বিত্তবানদের বাড়িতে ভিড় করছে।

কাজের সন্ধানে অনেকে গ্রাম থেকে শহরে আসতে শুরু করেছে এবং বেঁচে নিচ্ছে সহজলভ্য কাজ রিকশা চলা। এরই মধ্যে একশ্রেণীর অসাধু লোক তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ওই সকল মজুরদের দিচ্ছে সুদের টাকা। খবর নিয়ে জানা যায়, এক শ্রেণির দাদন ব্যবসায়ী এ সময়টা কাজে লাগায় কারণ এটাই নাকি তাদের সিজন। এক হাজার টাকায় প্রতি মাসে ২শ’ থেকে ১শ ৫০ টাকা লাভ দিয়ে টাকা নিচ্ছে। তাই অভাবের তাড়নায় তারা এই কড়া সুদে টাকা নিচ্ছে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধিতে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েছে। উৎস : মানবজমিন।

ad

পাঠকের মতামত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *